About Us
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Jahidur Rahman - (Dhaka)
প্রকাশ ০২/০৮/২০২১ ০৯:২৪এ এম

নিস্ক্রিয় বিএনপি এবং বিরোধী জোটগুলোর অবস্থানে পরিবর্তনের আশা জাগাতে পারছে না

নিস্ক্রিয় বিএনপি এবং বিরোধী জোটগুলোর অবস্থানে পরিবর্তনের আশা জাগাতে পারছে না Ad Banner
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তথাকথিত নির্বাচনের পর বিএনপির জোট তিনশ আসনে নির্বাচন কমিশনে মামলা করার ঘোষণা দিলেও শুধু তিন বছরে ৭৬টির মতো আসনে মামলা করে এই বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে সংসদে না থাকার কথা বললেও ছয়টি আসন নিয়ে সংসদে থাকছে বিএনপি।

২০২০ সাল থেকে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনা পরিস্থিতি অবনতি হলে কার্যত রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে বিএনপি। করোনার মধ্যে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী অনুকম্পায় জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয় সক্রিয় রাজনীতি না করার শর্তে। দুই বছর কাছাকাছি ছাড়া থাকলেও সেটি মেনে চলছেন খালেদা জিয়া। কার্যত তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় বাসায় থাকছেন। লন্ডনে বসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া দল চালাচ্ছে।

স্হায়ী কমিটি নিয়ে কিছু অনলাইন মিটিং করা ছাড়া কিছুই করছে না তারেক জিয়া। ২০১৮ সালের আগে দেশে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্ব দিলে ও ডঃ কামাল প্রধান নেতা ছিলেন। যেটির ফায়দা গণফোরাম নিলেও বিএনপি চরমভাবে মাশুল দেয়। এখন দেশের মধ্যে বিএনপি কার নেতৃত্বে আছে সেটা নিয়ে সবাই ধোঁয়াশায় আছে।

সকল স্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। জাতীয় কাউন্সিল এক বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও অনলাইনে বা অফলাইনে সীমিত পরিসরেও কাউন্সিল করার উদ্যোগ নেই। দল গুছানোর ও বিভিন্ন রাজনৈতিক অনলাইন মিটিং করার উদ্যোগ বিএনপির নেই।

এদিকে, বিএনপির ঐক্য ফ্রন্ট ও বিশ দলীয় জোটের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। ঐক্য ফ্রন্টের মধ্যে নাগরিক ঐক্য ছাড়া সব দলেই অস্হিরতা চলছে। জেএসডি, গণফোরাম দুই ভাগে আলাদা হয়ে আছে।

বিশ দলীয় জোটে জামায়াতের সাথে সম্পর্ক না থাকলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়ায় ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। ২০২১ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি দীর্ঘদিনের জোট সঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম জোট ত্যাগ করেন। এটা হবার পরেও বিএনপি কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। ভবিষ্যতে একা চলবে না বৃহৎ ঐক্য তৈরি করবে তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।

ভিপি নূরের ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বা উদার ও বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে বৃহৎ ঐক্য প্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও ডানপন্হী দলগুলোর সাথে বিএনপির অবস্থান কি হবে এত বছরেও স্পষ্ট করতে পারেনি। বিশেষ করে একাত্তর প্রশ্নে বিতর্কিত জামায়াতে ইসলামী দলের সঙ্গে জোটের বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেনি। বহির্বিশ্বৈ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও অবস্থান পরিষ্কার নয়। টিভি মিডিয়া বাদ দিলেও সোশ্যাল মিডিয়াতেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। তাদের অফিসিয়াল পেইজ ও ওয়েবসাইট এখনও গুছিয়ে ঠিক করতে পারেনি।

নির্বাচন মাত্র দুই বছর বাকি, এর মধ্যে বিএনপি নির্বাচনকালীন নেতৃত্ব কার কাছে থাকবে এবং কি পদ্বতিতে হবে সেই ব্যাপারে অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেনি। অন্য বিরোধী দলগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ খারাপ। মামলা, হামলায় বিপর্যস্ত দলগুলোর সীমিত পরিসরে ঘরোয়া সভা-সমাবেশ করেই বেঁচে আছে। বিএনপি সহ সকল বিরোধী দল ও জোটগুলোর আচরণ এখন এমন অবস্থানে আছে যেন অলিখিতভাবে মিরাকলের আশায় থেকে বর্তমান সরকারকে আজীবন ক্ষমতায় থাকার অনুমোদন দিয়েছে।

এছাড়াও সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ বা সমস্যার কথা সেভাবে তুলে ধরে সরকারের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও অবগত করছে না। দায়সারা ভাবে বক্তব্য-বিবৃতি এমনভাবে বলছে যেন সরকার আমাদের কথা শুনবে না তাই সুন্দর ভাবে বিবৃতির কি আছে।

স্হায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের মৃত্যু এবং সর্বশেষ মওদুদ আহমেদের মৃত্যুর পরও কমিটির সব সদস্য পদ ২০০৯ সালের পর পূরণ করেনি বিএনপি। টুকু ও সেলিমা রহমানকে সর্বশেষ স্হায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দলের বেশির ভাগ কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও দ্রুত সময়ে পুর্নগঠন করা হয়নি।

দল, কমিটি পুর্নগঠন, নেতৃত্ব সবকিছুতেই সীমাহীন ব্যর্থ বিএনপি পরবর্তী নির্বাচনে কি পরিস্থিতিতে যাবে সেটাই এখন দেখার বিষয় সবার।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ