About Us
Abu Sadek Muhammad Nayeem - (Chattogram)
প্রকাশ ০১/০৮/২০২১ ১২:২৬এ এম

প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রনের ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশের দায়ে মামলা;বিতর্কের মুখে ক্ষমতাসীনদল

প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রনের ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশের দায়ে মামলা;বিতর্কের মুখে ক্ষমতাসীনদল Ad Banner
বাক স্বাধীনতা ইস্যুতে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে ফ্রান্সের ক্ষমতাসীন দল ‘লা রেপ্যুব্লিক অঁ মার্শ’। সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাঁক্রনের ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের অপরাধে কার্টুনিস্টের বিরুদ্ধে মামলা করায় এই বিতর্কের তৈরি হয়েছে।

অথচ বাক স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে কিছু দিন আগে মহানবী (সা.) অবমাননাকর কার্টুনের সাফাই গেয়েছিলেন ম্যাঁক্রন। নাগরিকদের নানা সুযোগ-সুবিধার শর্ত হিসেবে বাধ্যতামূলক করোনা টিকা গ্রহণ ও স্বাভাবিক চলাচলের জন্য গ্রিন পাস প্রচলনের বিরোধিতায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে গোটা ফ্রান্স।বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভের কেন্দ্র হিসাবে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রনের ব্যঙ্গচিত্র বেছে নেয়।

প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রনের ব্যঙ্গচিত্রগুলো এঁকেছেন ফরাসি কার্টুনিস্ট মিশেল অঁজলোরি। বিভিন্ন স্বৈরশাসকদের সাথে তুলনা করে প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রনের নানারকম কার্টুন তিনি এঁকেছেন।

রাস্তার বিক্ষোভে বাঁধা না দিলেও ব্যঙ্গচিত্রের জন্য মানহানির অভিযোগ এনে ওই কার্টুনিস্টের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ক্ষমতাসীন দল।ক্ষমতাসীন দলের এমন আচরণকে বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলছেন আলোচিত কার্টুনিস্ট লোরি।

কার্টুনিস্ট মিশেল অঁজলোরি বলেন,প্রেসিডেন্ট আমার মতো সাধারণ ফরাসির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এটাই প্রমাণ করে যে রাজতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে ফ্রান্স।দেখুন, আপনি পছন্দ না করলেও ক্যারিকেচার থাকবে পৃথিবীতে।আমি স্বৈরশাসকের উদাহরণ টানতেই বিশেষ কিছু চরিত্র ব্যবহার করেছি।

এই বিতর্কের সূত্রেই সামনে এসেছে বিতর্কিত শার্লি এবদো প্রসঙ্গ। ঐ সাময়িকীতে মহানবী (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের পর প্রতিবাদের ঝড় ওঠে মুসলিম বিশ্বে।তখন বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে কার্টুনের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ম্যাঁকো।

কার্টুনিস্ট মিশেল অঁজলোরি আরও বলেন, একজন নবীকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের পরও আমরা সবাই মিলে শার্লি এবদোর পক্ষে স্লোগান তুলেছি। অথচ এখন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে মজা করাই যেন বিশাল অপরাধ হয়ে গেছে। ফ্রান্সের মতো দেশে এটা মানা যায় না। ফরাসি আইনজীবীদের মতে, বাকস্বাধীনতা প্রশ্নে ফ্রান্সের জন্য বড় পরীক্ষা কার্টুনিস্টের বিরুদ্ধে এই মামলা।

ফ্রান্সের আইনজীবী ও বাকস্বাধীনতা বিশেষজ্ঞ ব্যাজিল এঁদা বলেছেন, সবার আগে প্রশ্ন উঠবে কার্টুনে বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার হয়েছে কিনা। তিনি কি রাজনৈতিক সমালোচনার মাত্রা অতিক্রম করেছেন?

আমার মনে হয় কার্টুনিস্ট লোরি আদালতেও শার্লি এবদোর উদাহরণ টানবেন। সম্প্রতি নানা কারণে প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রনের জনপ্রিয়তা কমছে ফ্রান্সে।

গত মাসে দ্রোম প্রদেশে জনসংযোগের সময় এক সাধারণ নাগরিকের চড় খান তিনি। সেই অপরাধে এখন ৪ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন ম্যাঁক্রনকে চড় দেওয়া সেই ব্যক্তি।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ