About Us
Real Tonmoy - (Dhaka)
প্রকাশ ২৯/০৭/২০২১ ০১:২৯এ এম

বিধিনিষেধে দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষের আহাজারী

বিধিনিষেধে দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষের আহাজারী Ad Banner
করোনা যেন দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষের কাছে অভিশাপ হয়ে উঠেছে। করোনার সংক্রামণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ঈদ পরবর্তী আবারও ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে। আজ কঠোর বিধি নিষেধের ৬ষ্ঠ দিন। বিধিনিষেধে পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পরেছেন দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষেরা। যারা দিন আনে দিন খায় তাদের আহাজারী ছাড়া যেন আর কিছুই করার নেই। পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টেই দিন কাটছে তাদের।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বুধবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় কত কষ্টেই না আছে এইসব খেটে খাওয়া মানুষেরা। কারো ঘরেই খাবার নেই তিন বেলার। একবেলা খেলে দুইবেলা অনাহারেই কাটছে। রাস্তায় বের হতে পারছে না। কাজ করতে পারছে না। শিল্পকারখানা বন্ধ। সব মিলিয়ে বেকার সময় পার করছে শ্রমিকরা। দিন আনে দিন খায় তারা সেখানে কর্মহীন জীবনে খাবার জুটবেই বা কি করে।

কথা হয় রাজধানীতে চলা বাস কন্টাক্টর কুদরত উল্লাহ্‌র সাথে। তিনি বলেন, 'ভাই আমরা পরিবহনে কাজ করি । গাড়ির চাকা ঘুরলেই খাওন পাই। গাড়ির চাকা না ঘুরলে খাওন কই পামু। ঘরে ছোট ছোট ৩ টা পোলা মাইয়া। বউ পোলা মাইয়া নিয়া বড় বিপদে আছি। সরকার এই লকডাউন না দিয়া আমাগোরে যদি মাইরা ফেলতো এইডাই ভালো আছিল। পোলা মাইয়া না খাইয়া চিল্লায় এইডা তো ভাই সহ্য করতে পারি না। কিন্তু কি করুম কয়দিন এমনে থাকন যায়। আমাগো তো আর ভাই বড় লোকের মত ক্যাশ জমাইন্না নাই যে বইয়া বইয়া খামু। এই করোনায় আর লকডাউনে ভাই আমাগো জীবনডা শেষ কইরা দিছে।'

এই কঠিন সময়ে অনেকেই জীবনের সাথে যুদ্ধ করেই বেছে আছেন। একটু বেঁচে থাকার জন্য অনেককেই এখন লড়াই করতে হচ্ছে। লজ্জায় অনেকেই না খেয়ে থাকলে ও সেটা প্রকাশ করছেন না। দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষের মতই অনেক মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী আছেন তারা ও এই কঠিন সময়ে চাকরী হারিয়ে পরেছেন বিপাকে। পারছেন না কারো কাছে হাত পাততে, না পারছেন পরিবারকে না খাইয়ে রাখতে। এ যেন এক বিষম জ্বালা। সঞ্চয় যা থাকে তাই দিয়েই যেন কোন রকমে খেয়ে বাঁচার এক প্রাণপণ লড়াই।

কথা হয় পরিবারকে বাঁচাতে লড়াই করা এক বাবার সাথে। টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘক্ষন কিছু পণ্যের আশায়। কথা বলার এক পর্যায়ে নাম জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে বলেছেন তার লড়াইয়ের সেই গল্প। দম্পতির ঘরে এক ছেলে এক মেয়ে মোট চার জনের সংসার। একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকেন । মাসে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া। চাকরী করতেন করোনায় সেই চাকরীটা চলে যায়। এখন বেকার হয়ে পরেছেন। টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রতিদিন পণ্যের আশায়। কোনদিন পান ,কোনদিন আবার পানও না। টিসিবির পণ্য একটু কমদামে পাওয়া যায় সেজন্যই এখানে দীর্ঘ লাইনে সারাদিন অপেক্ষা করা। একটু সাশ্রয় করাই এখন মূল উদ্দেশ্য। যে টাকা সঞ্চয় ছিল তা ও প্রায় শেষের পথে। তারপর কি খাবেন কিভাবে খাবেন কিছুই জানেন না। কঠোর লকডাউন না খুললে কোন চাকরীও আর হচ্ছে না। পরিবারকে খাওয়াতে তো হবে। ছেলে মেয়ে গুলোর কাছে লজ্জায় পরে যাচ্ছেন প্রতিদিন। এদিকে বাসা ভাড়া দুই মাসের আটকে আছে। এরকম একটা পরিস্থিতিতে মান সম্মান নিয়ে বাঁচা তো দুরের কথা খেয়ে ও মরা যাবে না। এই বিধিনিষেধ সরকার উঠিয়ে নিলে কিছু মানুষ অন্তত খেয়ে বাঁচতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

এই কঠোর বিধিনিষেধে এরকম অনেক মানুষই না খেয়ে,অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। অসহায় ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে তারা। আহাজারী করছে পরিবার পরিজন নিয়ে।সমাজে অনেক বিত্তবান মানুষ আছেন। আপনারা দেশের এই ক্রান্তিকালে এই অসহায় মানুষদেরকে টাকা দিয়ে নয় অন্তত এক বেলা খাবার দিয়ে সহযোগীতা করলে তারা প্রাণে বেঁচে যাবে। বেঁচে যাবে অনেক বাবা তার পরিবারের কাছে লজ্জিত হওয়ার থেকে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ