About Us
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Rumman Ahmad - (Sylhet)
প্রকাশ ২৬/০৭/২০২১ ০৯:৫৫পি এম

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের দূর্গতি দেখবে কে?

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের দূর্গতি দেখবে কে? Ad Banner
ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ির সংখ্যা সারাদেশে প্রায় ২০ লাখ। ইনকিলাবের ১৬ সেপ্টেম্বর ২০ এর রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে প্রায় ২ লাখের ও বেশী ইজিবাইক। রাস্তায় চলাচলে সম্প্রতি এ গাড়িগুলোর প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

কারণ হিসাবে বলা হয়েছে বিদ্যুতের অপচয়, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, ড্রাইভারদের অদক্ষতা, লাইলেন্সবিহীন গাড়ি, স্পিডে চালানোর প্রতিযোগিতা,অতিরিক্ত গাড়ি। একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে মনে কিছু প্রশ্ন উঁকি দেয়।

দেশের বড় বড় অফিস আদালতের বারান্দায় যে পরিমাণ অতিরিক্ত লাইট জ্বলে কিংবা ঢাকাস্থ শপিংমলগুলোতে যে পরিমাণ অতিরিক্ত লাইট জ্বলে হিসাব করলে তার এক অংশ ও ইজিবাইকগুলোতে জ্বলছে না। আর জ্বললেও এগুলো অপচয় নয় কিন্তু মার্কেটগুলোর বাতিগুলো অতিরিক্ত। অতিরিক্ত অপচয় নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

দেশের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান, ফোর স্টার ফাইভ স্টার হোটেল, শপিংমল ছাড়াও রাজধানীর রাস্তাগুলোতে ঝলমল করে স্ট্রিট লাইট ব্যতীত অতিরিক্ত লাইটগুলো বন্ধ করলেই গাড়িচালোনোর বিদ্যুতের সংকট পড়বে না বলে আশা করি।

গাড়িগুলো বিদ্যুৎ জ্বালালেও তা মানুষের প্রয়োজন এবং এর দ্বারা কত মানুষের পেঠে ভাত পড়ছে তার হিসাব আছে! লক্ষ্ লক্ষ যুবক বেকার হয়ে পড়বে এ গাড়িগুলো বন্ধ হলে। তাদের পরিবারের যোগান, কর্মসংস্থান কে দেবে? বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করে তাদেরকে বিদ্যুৎ জ্বালাতে দিলে কোন লস নাই।

তারা তো বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে৷ কিন্তু অযথা যে বিদ্যু জ্বালানো হচ্ছে তা অপচয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জ্বালানো বন্ধ রেখে তাদেরকে সুযোগ দেয়া উচিত।

অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের যে প্রশ্ন এসেছে তার জবাবে পালটা প্রশ্ন করতে হয়, বাংলাদেশে কোন ধরনের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ রেখে চলে? পাবলিক বাসগুলোই তো সব থেকে বেশী সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ছোট গাড়িগুলোকে পিষে ফেলে । এমন কি গাড়ি আছে যা নিয়ন্ত্রণে চলে এবং এক্সিডেন্ট করে না? সুতরাং অদক্ষ চালক এবং নিয়ন্ত্রণহীনতা এর জন্য দায়ী।

চালকের অদক্ষতার যে প্রশ্ন সেটার ভিত্তি থাকলেও অন্যান্য গাড়ি চালকদের হিসাব কে করবে? দেশের বেশীরভাগ সিএনজি ও বাস ড্রাইভারদের লাইসেন্স নাই। তাদের লাইসেন্স হল পুলিশকে দেয়া ঘুষ। তারা পুলিশকে দেয় মাসোহারা। এমন কোন গাড়ির স্ট্যান্ড নাই যেখান থেকে পুলিশ প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে মাসোহারা নেয় না?

যে গাড়িগুলো ধারাবাহিকভাবে পুলিশের ডিউটি করে এগুলোর বৈধতা কি?
আইন অমান্য করা, গাড়ি দিয়ে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা করা প্রত্যেক গাড়ি চালকেরাই করেন। তবে কেন একা ব্যাটারিচালিত গাড়িওয়ালারা ভুক্তভোগী হবে?

অতিরিক্ত গাড়ি বেড়ে যাওয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের উন্নতির উদাহরণ। প্রয়োজনে সব লাইসেন্সবিহীন গাড়ি অবৈধ ঘোষণা করে যব্ধ করেন। লাখ লাখ গাড়ির লাইসেন্স নাই। আর যত জুলুম সব ছোটদের ওপর। ওরাও তো এদেশের নাগরিক। ওদের ভোটাধিকার আছে। তবে কেন স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকার পথে বাধা?

যারা গাড়ি কিনেছে তারা ব্যাংক বা এনজিও থেকে কিস্তি তুলে, জমিজমা বিক্রি করে অথবা বিদেশ ফেরত কেউ এতদিনের জমানো সঞ্চয় দিয়ে একটা অটো কিনেছে। তারা কিন্তু দুর্নিতির টাকায় কিনেনি।
তাদের এ ইনভেস্টমেন্টের কি হবে? এ গাড়ির ওসিলায় তাদের পেঠে দানা-পানি পড়ত। এখন তারা কি করবে? আত্মসম্মানবোধের মাথা খেয়ে ভিক্ষার থলি নিয়ে বের হবে? তাদের এ লস টা পুষাবে কিভাবে? ঋণ/লোন মারতে গিয়ে তারা আবার ঋণী হয়ে যাবে না তো?

কতজনই বা সৎ থাকবে! অভাবের তাড়নায় তাদের একাংশ যে চুরি ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত হবে না এর গ্যারান্টি কি? সরকারের পক্ষ থেকে যেহেতু তাদেরকে আর্থিক সহযোগীতা করা হয়নি বা হবে না সে হিসাবে তাদেরকে বিপদে ফেলার অধিকার সরকারের আছে? সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটা মনে আসে সেটা হল, এ গাড়িগুলো যে অবৈধ সে কথা প্রথম থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন হল, এ গাড়িগুলো তো এমন ছোট জিনিস নয় যে তা কারো পকেটে করে নিয়ে আসবে। ওগুলো ইমপোর্ট করা হয়েছে।

কারা করল? সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কি ওগুলো দেশে আনা হয়েছে? যদি এমন হয় তাহলে এটা সরকারের দূর্বলতা। আর বিষয়টা এমন নয়। বরং বড় বড় ব্যবসায়ীরাই বিদেশ থেকে পার্টস এনেছেন এবং তা সরকারের জানা। আরেকটা কথা হল, যদি গাড়িগুলো অবৈধ হয় তাহলে গাড়িগুলো যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ঐ প্রতিষ্টান/কোম্পানি সিলগালা দেয়া হচ্ছে না কেন?

তাদেরকে না ধরে ক্ষুদ্র পুজির গাড়ির চালকদের ধরা কতটা মানবিক? কর্মসংস্থান হারানো লক্ষ লক্ষ মানুষকে সরকার কি দিবে? চাকুরি তো দিতে পারছেই না উলটো বেকারের হিসাব বাড়ছে৷ ঐ বোঝা বাড়ানোর কি প্রয়োজন? নাকি বড় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা শেষ তাই ছোটদের বিপদে ফেলে দেয়া? এমন হলে এটা কি স্বার্থে করা হচ্ছে প্রশ্ন থেকে যায়৷

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ