About Us
MD.SHAHNEWAZ FAHAD - (Dhaka)
প্রকাশ ২২/০৭/২০২১ ০১:০৯পি এম

জলতন্ত্র ও ঢাকার জলবদ্ধতা

জলতন্ত্র ও ঢাকার জলবদ্ধতা Ad Banner
জিয়োলজিক্যাল হিসাবে আমরা(বাংলাদেশ) ওয়াটার বেসিনের তলানিতে আছি৷ নিন্ম অঞ্চল হওয়াতে আমাদের উপর দিয়ে চীন, ভারতের পানি বঙ্গোপসাগর গিয়ে পড়বে৷ অতএব বন্যা আমাদের নিত্য সঙ্গী৷ বন্যাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে ঘর সংসার পাতা অসম্ভব৷

যতোদূর মনে আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিনারে গিয়েছিলাম ড্যাম কালচার নিয়ে হওয়া ন্যাশনাল সামিটে৷ পৃথিবীর সকল বিশেষজ্ঞই বর্তমানে মানেন ড্যাম কালচার মূল ক্ষতির কারন। অর্থাৎ পানি প্রবাহকে বাধা দেওয়া বা গতিপথ পরিবর্তন করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়৷ এটি নিজে থেকে পরিবর্তন হলে ভিন্ন ব্যাপার৷ ইতিহাসে দেখা যায় পদ্মার জলপথের পরিবর্তন মাত্র ৫০০ বছর আগেই হয়েছে৷ যাক সেসব বিস্তারিত আলোচনা আজ করতে ইচ্ছুক নই৷ আজ আলোচনটা জলতন্ত্র নিয়ে হবে৷ আমরা মানুষেরা ধরনীর বুকে বাস করা একমাত্র প্রানী নই যে জল ভোগ করবো, জলের উপর অন্য সকল প্রাণীর অধিকার রয়েছে৷ গণতন্ত্র এবং জলতন্ত্র দুটোকেই সমান ভাবে মূল্যায়ন করা উচিৎ। আলোচনার সারমর্ম এটাই যে "বন্যা থাকবেই"৷ মুম্বাইতে আছে, বেইজিং এ আছে, দুবাইতে আছে তবে প্রশ্ন হলো বন্যার ডিজেষ্টার ম্যানেজমেন্ট কতোটুকু সঠিক?

আমাদের শহরের কতোটি ওয়াটার ইকোসিস্টেম তৈরী করতে পেরেছি আমরা? কেনো পারিনি সে আলোচনায় যাবো না৷ সুপেয় পানির অভাবের সমাধান কিন্তু ওয়াটার ইকো-সিস্টেম দিয়েই করা যায়৷এবার আসি আমাদের শহরের সমাধান কিভাবে করা যায়৷

ওয়াসার কাজ কর্ম অনেকটাই দায় সাড়া৷ কারন ওয়াসা আমলা কেন্দ্রীক প্রতিষ্ঠান, তাদের দায়বদ্ধতা কম, তাদের কাছে মানুষের প্রশ্ন কম,ভোটের চিন্তা নাই,অদক্ষতার খেসারত নাই৷ মূল সমস্যা ২৫ % সমাধান হয়ে যায় যদি শহরের ওয়েষ্ট ম্যানেজম্যান্টের মতো ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের দ্বায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের হাতে দিয়ে দেওয়া যায়৷

এবার আসি সমস্যা-সমাধানে কিছু খুচরা আলোচনায়। সুয়ারেজ লাইন বা খালগুলো যতোই ঠিক করুন, তারপরো জলবদ্ধতা হবেই, কারন খালের সল্পতা৷ পানি না কমার মূল কারন হচ্ছে অধিকাংশ শহরের ভূমি সলিং এর অবরণ দেওয়া আর সেই সাথে পানি জমা হবার যায়গা না থাকা(সেল্ফ স্টোরেজ)৷ গ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির পানিতে কখনো জলাবদ্ধতা হতে দেখেছেন? কেনো দেখেননি? বৃষ্টির পানি ৪ ঘন্টার রোদ্রে বা বৃষ্টি থামার চারঘন্টা (+-) কমে যায়৷ এর কারন কি? পুকুর এবং ছোট ছোট খাল৷ যেগুলো পানি স্টোরেজ করে৷ মাটি কিছুটা পানি শুষে দেয় বা গন্ত্যব্যে পৌছে দেয়৷

ঢাকা সিটিতে যে কাজগুলো প্রথমিকভাবে করতে হবে শক্ত হাতেঃ
১. ওয়াসাকে ঢাকায় অকেজো করে দেওয়া৷ এটা সিটি কর্পোরেশনের হাতে চলে যাক৷সমস্যার অন্তত ২৫% সমাধা এখানেই আছে৷ বর্তমানে কেবল খালের দ্বায়িত্ব পেয়েছে সিটি কর্পোরেশন কিন্তু ট্রিটম্যান্ট প্লান্টগুলো ওয়াসার হাতেই৷ এই প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দেওয়াই এখন৷ সময়ের দাবী।

২. ওয়েষ্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য জনগণকে বর্জ্য সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন ৷ জনগণ জানে না কোন বর্জ্য কিভাবে সমাধা করতে হবে৷ বর্জ্যের প্রকার জানাতে হবে। প্রচারমাধ্যমগুলো এব্যাপারে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে৷

৩. মিনি ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্লান্ট চালু করা। সব সেন্ট্রালাইজ ওয়েষ্টের খালকে যদি বৃষ্টির পানি নামার মাধ্যম ভাবি সেটা বোকামী৷

৫. প্রতি ওয়ার্ডের খাস জমি চিহ্নিত করে পুকুর সৃষ্টি, পাশে হাটার রাস্তা৷ এই পুকুরগুলো মুলত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের আদলে তৈরী করা। দিল্লির কিছু প্রজেক্ট এক্ষেত্রে সফল৷ সেগুলো অনুসরণ করা যায়৷

৬. ওয়াটার স্ক্যাব্যাঞ্জার্স সিস্টেম ম্যানুয়াল না করে ডিজিটালাইজ করে ফেলা৷ প্রচুর মৃত্যু হয় ম্যানুয়্যাল স্ক্যাভ্যাঞ্জার্স সিস্টেমে৷ এগুলোর বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন আরো রয়েছে৷ তবে এই সমস্যার সমাধানে বেশি প্রয়োজন স্বদিচ্ছা আর জবাবদিহিতার আওতায় আনা৷ ম্যানেজম্যান্ট ঠিক হলে মোটামুটি সব ঠিক।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ