About Us
Robiul Islam - (Rajshahi)
প্রকাশ ২১/০৭/২০২১ ১০:০৩পি এম

বাঘায় কোরবানির পশুর চামড়ার নেই ক্রেতা, হক বঞ্চিত এতিম ও দুস্থ

বাঘায় কোরবানির পশুর চামড়ার নেই ক্রেতা, হক বঞ্চিত এতিম ও দুস্থ Ad Banner
চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় মৌসুম কুরবানির ঈদ। এ সময় মোট চামড়ার শতকরা ৮০ ভাগ সংগৃহীত হয়ে থাকে। তারপরেও রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়া কেনার ক্রেতা নেই। অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ফাঁকা স্থানে গর্ত খুঁড়ে মাটিতে পুতে ফেলছে, আবার কেউ কেউ মসজিদ, মাদ্রাসায় দান করে দিচ্ছেন।

উপজেলা সদর সহ তেপুকুরিয়া, তেঁথুলিয়া, বাউসা, আড়ানী, মনিগ্রাম, পাকুড়িয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকালে পশু কুরবানি দিলেও অনেকেই বেলা তিনটা পর্যন্ত চামড়া বিক্রি করতে পারেনি। বাড়ীর সামনে চামড়া ফেলে রেখেছেন। পাশাপাশি এলাকাগুলোতে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী দের তেমন দেখা মেলেনি। এর বিপরীতে বিনামূল্যে চামড়া সংগ্রহ করতে বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানার লোকজনকে দেখা গেছে। অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মসজিদ, মাদ্রাসা বা এতিমখানায় চামড়া দান করে দিচ্ছেন। বুধবার ( ২১ শে জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাঘা উপজেলা সদরের জামশেদ আলী জানান, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে তার কোরবানির গরু কাটাকুটি শেষ। কিন্তু এখন বিকেল চামড়া ব্যবসায়ী দের দেখা পাননি তিনি। গত দুই বছর আগেও এমন অবস্থা ছিল না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, চামড়া কেনার তেমন কোন ক্রেতা ছিলনা, জুয়েল হোসেন নামের একজন চামড়া ব্যাবসায়ী প্রতিটি খাসীর চামড়ার দাম ২০ টাকা এবং প্রতিটি গরুর চামড়ার দাম ৪০০ টাকা বলে। অন্য কোন ক্রেতা না থাকায় জুয়েলের বলা দামে ১২টি খাসি ও ৩ টি গরুর চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি আরও বলেন, চামড়ার দাম কম হওয়ায় হক বঞ্চিত হচ্ছে গরিব,এতিম অসহায়রা। যা কোন ভাবে মেনে নেওয়ার মত নয়।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী চামড়া কিনছে না বলে জানা গেছে।
বাঘা বাজারের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী ছামির উদ্দিন বলেন, খাসি ছাগলের চামড়া ৪০ টাকা, গরুর চামড়া ১৮০-২শত টাকায় কিনছেন। তবে বকরি ছাগলের চামড়া কিনছেন না তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পবিত্র ঈদুল আজহার জন্য কুরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে। গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকার জন্য প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরের জন্য ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা এবং বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দাম গত বছরের নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা বেশি। ক্রেতা সংকট থাকায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে চামড়া।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ