About Us
Shitanshu Bhowmik Ankur - (Faridpur)
প্রকাশ ২১/০৭/২০২১ ০৫:১২পি এম

শহিদ সাংবাদিক গৌতম দাস,সত্য প্রকাশের একটি লড়াইয়ের নাম

শহিদ সাংবাদিক গৌতম দাস,সত্য প্রকাশের  একটি লড়াইয়ের নাম Ad Banner
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ছোট একটি গ্রামে একটি আলোর জন্ম হয়, সেই আলো পুরো দেশ ও সাংবাদ মাধ্যমকে আলোকিত করতে জীবন দিয়ে বলে যান, যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান
তাই হয়ে যান উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায় । হ্যাঁ লাইন দুই টি হেলাল হাফিজের কবিতাংশ। তবে হেলাল হাফিজ বোধ হয় জানতেন না আমি তার কবিতাংশ টি এই মহৎপ্রাণের ভাষা হিসাবে ব্যবহার করবো। ১৭ ই নভেম্বর তার প্রয়াণ দিবস ছিল ফরিদপুরের এক সাংবাদিকতার আলোকিত আলোকে ছড়িয়ে দেওয়ার যোদ্ধা সাংবাদিক গৌতম দাসের ।

আশির দশকের শুরুর দিকে ভাঙ্গায় যখন প্রগতিশীল সমাজ ২১ ফেব্রুয়ারী শহিদ দিবসে খালিপায়ে প্রভাতফেরী বের করতো । তখন একঝাক শিশু কিশোর কে নিয়ে যে ছেলেটি আমাদের সাথে খালিপায়ে হেটে ভাষা শহীদদের ফুলদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যেত।সেই ছেলেটিকে প ২১ শে ফেব্রুয়ারি,২৬ শে মার্চ,১৬ ই ডিসেম্বর, পহেলা বৈশাখ , ভাঙ্গায় সাংস্কৃতিক উৎসব সকল প্রগতিশীল চর্চা ও চিন্তার কেন্দ্র বিন্দু ছিলেন। নৌকার বৈঠার মতো যে ছেলে টি ভাঙ্গা- ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক নৌকাকে বয়ে চলেছিল আমাদের সাংবাদিক গৌতম দাস।

তিনি স্কুল পড়ুয়া অবস্থায় ছাত্রদের বেতন পরীক্ষার ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোচ্চার হতেন, তিনি একসময় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নীল পতাকায় জাড়ালেন ছাত্র ও মানবতা তথাপি দেশের স্বার্থ রক্ষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেকে তৈরি করতে চেষ্টা করলে নির্ভয় অসম্ভব সাহসী ও আত্মাত্যাগী মানুষ হিসাবে। তিনি ভাঙ্গা কে এম কলেজ সংসদের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি থাকা অবস্থায় হাতে তুলে নেন কলম সে সময়েই মূলত সাপ্তাহিক একতা পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশায় যাত্রা শুরু করেছিল, এরপর স্থানীয় অনেক গুলো পত্রিকার ও জাতীয় পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত হয়ে পড়েন। তিনি প্রথম আলো ও সমকাল পত্রিকায় কাজ করেন।

অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখে ফরিদপুর জেলায় সাংবাদিকদের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেন। তিনি সমকাল পত্রিকায় কাজ করা অবস্থায় ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়কে স্মরণী মার্কেটে দৈনিক সমকাল ব্যুরো অফিসে গৌতম দাসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা । ততকালীন সময় ক্ষমতাসীনেরা ফরিদপুর শহরে প্রধান সড়ক "মুজিব সড়ক" এর কাজের নামে টেন্ডার নিয়ে কাজ না করার প্রতিবাদে তিনি ধারা বাহিক খবর লেখতে থাকেন অনেকে ধারণা করেন তাকে হত্যার প্রধান কারণ ছিল এটা। কিন্তু,

চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়- বিচ্ছেদ নয়
চলে যাওয়া মানে নয় বন্ধন ছিন্ন-করা আর্দ্র রজনী
চলে গেলে আমারও অধিক কিছু থেকে যাবে
আমার না-থাকা জুড়ে।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ -এর এই কবিতাংশ দিয়ে আমি তার এই চলে যাওয়াকে বুঝেছি তার না থাকা জুড়ে তার মতো অসংখ্য মানুষের সত্ত্বার সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকাকে।
তিনি ফরিদপুরের তরুণ প্রজন্মের প্রথম সাংবাদিক হয়ে ওঠার প্রেরণা । তিনি জীবন দিয়ে আমাদের আকৃষ্ট করেছেন কলম নিয়ে লড়াই করতে।
সাংবাদিক গৌতম দাস,সত্য প্রকাশের একটি লড়াইয়ের নাম। বিনম্র শ্রদ্ধায় থাকুন সাংবাদিকতার সত্য কর্ম জুড়ে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ