About Us
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Ayshi Alam - (Dhaka)
প্রকাশ ২০/০৭/২০২১ ১১:৪৫পি এম

রুপকথা

রুপকথা Ad Banner
অনেক অনেক বছর আগে পাহাড়ের কাছে থাকত ছোট রনক তার মা বারুনি ।‌ রণকের বাবা কাজ করত অনেক দূরে সমুদ্রের ধারে। জাহাজে ছিল তার কাজ।রনক কে নিয়ে বারুনির দিন খুব ভালোই কাটছিল। দূর পাহাড়ে মায়া হরিণ দেখা ,ঘাসফড়িং কিংবা নীল পাখির পেছনে ছুটে রনক ও একটু একটু করে বড় হচ্ছিল। রোজ সন্ধেবেলায় মায়ের কাছে গল্প শুনত মহাবীর অর্জুনের কখনো আবার রাক্ষসরাজ রাবণের। পাহাড়ের ঢালে পাওয়া মাছ কখনো আবার বন্য তিতিরের মাংস খেতে খেতে গল্প শুনত মায়ের কাছে ।

এভাবে দিন কাটতে থাকে রনকের বয়স তখন ৭। হঠাৎ একদিন রনকের মা বারুনি অসুস্থ হয়ে পড়ে। রনকদের বাড়িটা ছিল পাহাড়ের ঢালের কাছে ।গ্রাম থেকে বেশ খানিকটা দূরে। ছোট্ট রনক তাই ঠিক বুঝতে পারে না কি করবে। কোথায় যাবে ‌।হঠাৎ তার মনে পড়ে পাহাড়ের গহীন জঙ্গলে থাকা অঘোরী সন্ন্যাসীদের কথা। বাবার কাছে শুনেছিল সে । অঘোরীদের অনেক শক্তি। সূর্য ডুবছে রনক ছুটতে থাকে জঙ্গলের দিকে। সব পাখিরা ঘরে ফিরছিল। অবশেষে সে পৌছায় অঘোরীদের কাছে। তখন রাত নেমেছে।

অঘোরী সাধু খুব অবাক হয় রণক কে দেখে। তার থেকে শুনে তার মায়ের অসুস্থতার কথা। রনক বলে কেমন করে পুরো শরীর নীল হয়ে তার মা পড়ে আছে বিছানায়। সব কথা শোনার পরে অঘোরী সাধু বলে কঠিন অসুখ হয়েছে বারুনির।‌ দুরাত্রি তিনদিনের মধ্যেই যদি ওষুধ আনতে না পারে তাহলে বারুণী কে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু বুড়ো অঘোরী সন্ন্যাসীর গায়ে আর সে জোর নেই। সে গিয়ে আনতে পারবে না ওষুধ।। ছাই ভস্ম গায়ে মেখে শুয়ে থাকে তার দাওয়ায়।কিন্তু রনক মরিয়া হয়ে উঠে ।

রনক জানতে চায় কোথায় কিভাবে পাওয়া যাবে ঔষধ। যে করেই হোক ওষুধ নিয়ে আসবে তার মায়ের জন্য। অঘোরি একটু নড়ে ওঠে। এবার বলতে থাকে রাতের‌ মধ্যে পৌঁছে যেতে হবে দূর পাহাড়ের চূড়ায়। একদম পাহাড়ের চূড়ায় লাল রঙের ফুলের কলি থাকবে। ভোরের প্রথম শিশিরের ছোঁয়ায় তার রঙ যখন গোলাপি হবে ঠিক তখনই ছিঁড়ে নিয়ে যেতে হবে বারুনির কাছে‌। বারুনির মাথায় ছোঁয়ালেই বারুনির গায়ের এই নীল বর্ণ রং চলে যাবে। সকালের সোনা রোদ লাগলে সেই ফুলের রং হয়ে যাবে সাদা তখন আর কাজ হবে না। একথা শুনে ছোট্ট রনক এগোতে থাকে পাহাড়ের চূড়ার দিকে। সে চুড়ায় যেতে কত রকম বিপত্তি। দূর সে পাহাড়ের সিঁড়ি কাটা নেই। ঝোপঝাড় ধরে এগোচ্ছিল সে।

হঠাৎ করে এক ঝাঁক বাদুড় উড়ে গেল ছোট রনকের মাথার উপর দিয়ে। সেদিকে তাকাতে গিয়ে হাত ফসকে গেল অনেকটা পিছিয়ে পড়ল আবার। পাহাড়ের চূড়ায় যেতে তখন অনেক বাকি। কিন্তু রাতের আর সর্বমোট এক প্রহর ও বাকি নেই। জোছনার আলোয় আলোয় ভালই দেখা যাচ্ছিল ঝোপঝাড় , ইঁদুরের গর্ত কখনো আবার খাড়া পাহাড় ।হঠাৎ করে চাঁদের আলোয় ভাটা পড়ল।মেঘ চলে এলো চাঁদের গায়। অন্ধকারে পথ চলা ভারি মুশকিল হলো রনকের জন্য। রনক তবু থামবার নয় সে এগিয়ে যাচ্ছিল।

থেকে থেকেই শোনা যাচ্ছে যে ছিল শিয়ালের ডাক কখনো ঝিঁঝিঁ পোকা। হঠাত হাতে কামড়ে দিলো কিছু একটা। অসহ্য যন্ত্রনায় হাত সরিয়ে নিতে আবার পড়তে শুরু করল নিচের দিকে ।যাহোক সে ধাক্কা সামলে নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে যায় রনক। তখন শুকতারাটা জ্বলছে। সে খুঁজে পায় সে লাল রঙের কলি। ভোরের শিশির এর অপেক্ষায় থাকে গোলাপী হয়ে ফুটে উঠে ফুল।কুটীরের উঠোনে দাঁড়িয়ে দেখা পাহাড়ের সেই হরিণের চেয়েও আগে ছুটতে থাকে রনক।এলোপাতাড়িভাবে নামতে থাকে পাহাড়ের গা ঘেঁষে। যে করেই হোক ফুল নিয়ে পৌঁছাতে হবে মায়ের কাছে। পাহাড়ের ঢাল দিয়ে খুব দ্রুত নামতে থাকে রনক। এদিকে সূর্য উঠছে। ‌ চৈত্র মাসের সকালে সকাল থেকেই সূর্য থাকে গনগনে তেজস্বিনী।

আরো জোরে পা চালায় রনক। নেমে আসে পাহাড়ের নিচে। কুটির দেখা যাচ্ছে দেখে সূর্য ও আলো ছড়াতে শুরু করেছে। আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পৌছাতে না পারলে বারুণী কে বাঁচানো সম্ভব হবেনা। অবশেষে কুটিরে পৌঁছায় রনক । মায়ের মাথায় ছোঁয়ায় সেই গোলাপি রঙের ফুল। অবাক চোখে দেখে রনক একদম সত্যি কথা বলেছে অঘোরী সন্ন্যাসী। মায়ের মাথায় ছোঁয়াতেই জ্ঞান ফিরলো মায়ের । শরীর থেকে চলে গেল সেই নীল বর্ণ সুস্থ হয়ে উঠল মা। মা উঠে জড়িয়ে ধরল রনককে। রনক আবার যেতে চাইলে অঘোরী সন্ন্যাসীর কাছে কিন্তু মা বারণ করল। মা বলল তারা ঘোর তপস্যায় থাকে । যখন তখন তাদের কাছে গিয়ে বিরক্ত করতে নেই ।মা এখন সুস্থ। আবার বন্য তিতির রান্না খেতে বসেছে রনক ।ধোঁয়া ওঠা খাবার খাচ্ছে মায়ের কাছে বসে অঘোরীদের গল্প শুনছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Md. Al-Amin Rana - (Dhaka)
প্রকাশ ৩০/০৭/২০২১ ০১:৩২পি এম