About Us
MD: KAMRUL HASAN - (Lalmonirhat)
প্রকাশ ২০/০৭/২০২১ ০২:১০পি এম

কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানো ও ‘

কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানো ও ‘ Ad Banner
মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো ‘কোরবানি’ । কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় অবশ্যই ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হবে। এতে জবাই প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং পশু কম কষ্ট পাবে। জবাই শেষ হবার কিছুক্ষণ পর প্রাণিটির পায়ের বাঁধন, গলার ফাঁস ও শরীরের দুই স্থানের প্যাচ কিছুটা ঢিলা করে দিতে হবে।

জবাইয়ের পরপরই চামড়া ছাড়ানোর জন্য তাড়াহুড়ো করা ঠিক না। চামড়া ছাড়ানোর জন্য অভিজ্ঞ লোকের প্রয়োজন। শহর পর্যায়ে অনেকেই কসাই দ্বারা চামড়া ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। গ্রামগঞ্জে এখনো অনেকেই নিজেরাই চামড়া ছাড়ানো দূরহ কাজটি করে থাকেন।

তবে অতি উৎসাহী অনভিজ্ঞ লোক দ্বারা কখনই চামড়া ছাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া যাবে না। কারণ চামড়া অতি মূল্যবান বস্তু। অনভিজ্ঞ ব্যক্তি চামড়া ছাড়ানোর সময় কেটে ফেলতে পারেন।

অনেক সময় দেখা যায়, প্রাণ বহির্গত হবার পূর্বেই কসাইরা চামড়া ছাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে যা ধর্মীয় দিক থেকে অনুমোদিত নয়। জবাইয়ের পর পশুর শরীর থেকে সম্পূর্ণ রক্ত বের হয়ে যাবার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। প্রাণীটি যখন একেবারে নিরব নিস্তেজ হয়ে যাবে তখন তার চামড়া ছাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এক্ষেত্রে প্রথমে প্রাণিটিকে চিৎ করে শুইয়ে দিয়ে দুইপাশে কোন কিছু দিয়ে ঠেশ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর ছুরির মাথা দিয়ে জবাই করার স্থান থেকে গলা, সিনা ও পেটের ওপর দিয়ে সোজাভাবে হালকা করে কাটতে হবে। সামনের পায়ের হাটু থেকে সিনা বরাবরে সোজাকরে ধীরে ধীরে চামড়া কেটে পূর্বে কাটা দাগের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

পেছনের দুই পায়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে চামড়া কাটতে হবে। সামনের পায়ে সামনের দিক এবং পেছনের পায়ে পেছনের দিক থেকে কাটতে হবে। জবাইয়ের পরপরই পরিপাকতন্ত্রে পঁচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই জবাইয়ের পর খাদ্যনালীর প্রান্ত দেশ শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। চামড়া ছাড়ানোর সময় অতি সাবধানতার সাথে একটু সময় নিয়ে ছাড়াতে হবে।

সাবধান থাকতে হবে কোন অবস্থাতেই যেন চামড়া কেটে ফেলা, চামড়াতে মাংস বা চর্বি রাখা উচিত হবে না। ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ছাড়ানোর জন্য উঁচু স্থানে বা গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলিয়ে চামড়া ছাড়ানো উচিত।

চামড়া ছাড়ানোর পরে ধারালো দা, বটি এবং চাপাতি ব্যবহার করে যথা সম্ভব দ্রুত মাংসের টুকরা তৈরি করতে হবে। মাংস টুকরা করা হলে ধর্মীয় রীতি মোতাবেক বন্টন ও বিতরণ শেষে দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

কোরবানির মাংস তিন ভাগ করে একভাগ নিজেরা খাওয়া,একভাগ দরিদ্রের দান করা ও একভাগ উপহার হিসেবে আত্বীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের দান করা মোস্তাহাব ।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ