About Us
Md Abdur Rahman
প্রকাশ ২০/০৭/২০২১ ০২:৫৩পি এম

করোনাকালে কোরবানির ঈদ : প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা

করোনাকালে কোরবানির ঈদ : প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা Ad Banner
মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব উৎসব রয়েছে। মুসলিমদের জন্য রয়েছে তেমনি দুটো উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমতের সওগাত সমৃদ্ধ কোরবানির মাধ্যমে, ত্যাগ তীতিক্ষা শিক্ষার মাধ্যমে আনন্দের অনুপম মাধুরী এনে দিয়েছে ঈদুল আযহা।

ঈদকে কেবল আনন্দের বা পানাহারের উৎসব মনে করলে চলবেনা। বরং ঈদের উৎসব পালনের সৌভ্রাতৃত্ব, তাকওয়া অর্জন এবং প্রিয়তম ত্যাগের মহান ও অনুপম তাৎপর্য রয়েছে তা উপলব্ধি করতে হবে।

অফুরন্ত আনন্দের ঈদ এবারও করোনার আতংকের মধ্যেই পালিত হবে । গত বছরের ন্যায় ঈদের এই আনন্দমুখর পরিবেশে পড়েছে করোনার করাল ছায়া। ঈদুল ফিতরের চেয়ে এই ঈদে আরো বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া জরুরী। কেননা পশু ক্রয়, কোরবানী, গোসত বিতরন ইত্যাদি সব কাজই লোক সমাগমের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হয় এজন্য বাড়তি সচেতনতাও এক্ষেত্রে একান্ত প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিমিত খাওয়া দাওয়া:
বিশেষ করে কোরবানির ঈদে নানা ধরনের কাবার প্রস্তুত হয় প্রত্যেকের বাড়িতে। কোরবানির গোসত দিয়ে তেরী হয় কোপ্তা,কাবাব, কোরমা, টিক্কা, রেজালা ইত্যাদি। এসব খাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয় ঘি, মাখন, বাটার অয়েল, দুধ গরশ মশলা।এগুলো ব্যবহার করা হয গোশত ও খাদ্যকে মুখরোচক করার জন্য।

অধিক মশলা যুক্ত খাবার স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। তবুও আমরা কাই, খেতে হয়। কারন, ঈদের দিনে যে বাড়িতে যাওয়া হয়, সামনে পরিবেশিত হয় পোলাও , বিরিয়ানি। সাধারনত আমরা দিনে তিনবার খাই, কিন্তু হঠাৎ ঈদের দিনে আমাদের কতবার খেতে হয়তার হিসাব নেই।কারন, এদিনে একে অন্যকে আপ্যায়ন করে মনে এক অব্যক্ত তৃপ্তি লাভ করেন।

এই অধিক ভোজনে অনেক ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। পেটের খাবার হজম না হতেই আবার খাওয়া হয়।এতে পেটে গ্যাস উৎপন্ন করে। কারো কারো পেট ফেপে ওঠে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ঠ হয়। মনে হয় দম বন্ধ হয়ে আসছে। আবার কারো বমি হয়ে স্বস্তি আসে।

আবার কেউ ডায়রিয়া ও অজীর্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। অনেকে এত অসুস্থ হয়ে পড়ে যে, হাসপাতালে নিতে হয়।তাই কোনক্রমে অধিক ভোজন করে রোগাক্রান্ত হওয়া বা অসুস্থ হয়ে পড়া কারো কাম্য নয়। প্রম্ন উঠতে পারে তাহলে কি ঈদের দিনে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে? অবশ্যই নয়। তবে, পরিমিত খাদ্য গ্রহন করতে হবে।

আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গিয়ে এক টুকরো গোসত বা একটি টিক্কা খেতে পারি। এক চামচ পোলাও বা বিরিয়ানি খেতে পারি। ঈদের দিন রাতে একেবারে উপবাস তাকা ভালো। কারন, পাকস্থলি সারারাত হজমের সময় পায়। ঈদের পরদিন থেকে শাক সবজি, ছোট মাছের তরকারি এবং গোসত অল্প পরিমান খাওয়া যায়। এতে পেট গরম হয়না।পানি একটু বেশি খাওয়া প্রয়োজন।

আর খাওয়ার সময় রাসুল সা: এর কথা স্মরন করতে পারি-‘তোমরা খাওয়ার সময় পাকস্থলির এক ভাগ পূরন করবে খাদ্য দিয়ে, আরেক ভাগ পানি দিয়ে এবং এক ভাগ খালি রাখবে শ্বাস- প্রশ্বাস গ্রহনের জন্য, তাহলে সুস্থ থাকবে।‘ কোরবানির বর্জ্য পরিস্কার করে পরিবেশ সুস্থ রাখুন-
কোরবানি করার পরে রাস্তাঘাট বাড়ির আংগিনায় পশুর বর্জ্য, প্রবাহিত রক্ত, চামড়া, গোবর ইত্যাদি পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে।

এ দ্রব্য গুলো পঁচে গন্ধ ছড়ায়, রোগব্যাধি ছড়ায়। এগুলো কোরবানির পর পরই ধুয়ে- মুছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফেলতে হবে। গোবর ও অবশিষ্ঠাংশ মাটির নিচে পুতে ফেলতে হবে।

আসুন, ঈদের আনন্দে গা ভাসিয়ে না দিয়ে ত্যাগের মহিমায় জীবনকে আলোকিত করি এবং পরিমিত খাদ্য গ্রহন করে সুস্থ থাকি।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ