About Us
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Ashik Islam - (Rajshahi)
প্রকাশ ২০/০৭/২০২১ ০৭:২৪পি এম

পেটের দায়ে ভ্যান চালাচ্ছেন রাবি শিক্ষার্থী

পেটের দায়ে ভ্যান চালাচ্ছেন রাবি শিক্ষার্থী Ad Banner
‘পড়ালেখা করলে তো করোনা ধরে, যার জন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাই পেটের দায়ে ভ্যান চালানো শুরু করেছি। পেট তো বোঝে না করোনা কী জিনিস।’ গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের একটি ছবি দিয়ে ক্যাপশনে কথাগুলো লিখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোশারুল ইসলাম।

মোশারুল হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। শহীদ হবিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে। রাবি অ্যাথলেটিক দলের তারকা খেলোয়াড় মোশারুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পাঁচবার স্বর্ণপদকসহ জিতেছেন ১০টি রোপ্য। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতায় রাবিকে করেছেন চ্যাম্পিয়ন। প্রতিযোগিতার মাঠে তার এই দাপটে লড়াই মুগ্ধ করেছে সবাইকে। তবে করোনার দীর্ঘ ছুটিতে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে লড়ে যাচ্ছেন একাই। নিম্নবিত্ত পরিবারের হাল ধরতে রাস্তায় নেমেছেন ভ্যান নিয়ে। করছেন কৃষি কাজও।

বাবা ফেরিওয়ালা এবং গৃহিণী মায়ের দ্বিতীয় সন্তান মোশারুল। তার আরো রয়েছে এক ভাই ও বোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। বড় ভাইও বিবাহিত, করেন কৃষিকাজ। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় মাধ্যমিকের পর থেকেই নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হয়েছে তাকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপবৃত্তি ও টিউশনির টাকায় চলত পড়ালেখা। তবে করোনার কারণে সেসব উপার্জনের রাস্তা এখন বন্ধ। ফলে বাধ্য হয়ে বাবার ফেরিকাজের ভ্যান চালিয়ে পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন তিনি।

মোশারুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস খোলা থাকাবস্থায় রাজশাহীতে টিউশনির পাশাপাশি টুকটাক কিছু কাজ করে যা পেতাম, সেটা দিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে নিতাম। তাছাড়া খেলাধুলা করেও বিভিন্ন সময়ে কিছু টাকা আয় হতো। কিন্তু করোনায় এসব কিছু বন্ধ। দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে দরিদ্র পরিবারের কষ্ট দেখতে না পেরে বাবার ফেরির ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। পাশাপাশি কৃষিকাজও করছি।

তিনি আরো বলেন, রাজশাহী থাকতে বেশ কয়েকটি শো-রুমে পার্টটাইম চাকরির জন্য যোগাযোগ করেছি, কিন্তু পাইনি। দু-এক জায়গায় চাকরি দিতে আগ্রহ দেখালেও কেউই তিন-চার হাজারের বেশি বেতন দিতে রাজি হয়নি। সে জন্য রাজশাহী থাকা সম্ভব হয়নি। কেননা যা উপার্জন করব তা দিয়ে রাজশাহীতে টিকে থাকা হলেও পরিবারের জন্য কিছুই করতে পারব না।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, মোশারুল ইসলাম আমাদের বিভাগের গর্ব। তার পাশে আমরা রয়েছি। এব্যাপারে বিভাগ এবং অ্যালামনাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত ভাল কিছু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নব নিযুক্ত ভিসি (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম বলেন, মোশারুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। আমি তার বিষয়ে জেনেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে বলেছি। শিক্ষার্থীদের এমন বিপদে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা তাদের পাশে থাকবে বলে জানান ভিসি।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ