About Us
Md.Rabiul Awal Robi - (Mymensingh)
প্রকাশ ২০/০৭/২০২১ ১২:২১পি এম

কোরবানির চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

কোরবানির চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা Ad Banner
আর মাত্র একদিন পর কোরবানি ঈদ। এবার ঈদে পশুর চামড়া কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ময়মনসিংহের চামড়া ব্যবসায়ীদের কপালে। চামড়া ব্যবসার সাথে জড়িতরা বলছেন, একে তো করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্থ অর্থনীতি অপরদিকে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিগত কয়েক বছরের পাওনা প্রায় কয়েক কোটি টাকার মতো পুঁজি আটকে আছে তাদের।

এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ময়মনসিংহের বৃহত্তর চামড়ার বাজার শম্ভুগঞ্জ চামড়ার হাটের একজন ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল মোতালেব বলেন, আমি গতবছর প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি কাঁচা চামড়া কিনেছি কিন্তু এই ঈদে চামড়া কিনতে পারবো কিনা সন্দেহ আছে। কারণ ঈদের পরেই সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে চামড়া কিনে বিপদে পড়তে হয় কিনা সেটাই ভাবছি।

নগরীর চামড়ার আড়তখ্যাত চামড়া গুদাম এলাকায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম শরিফের সাথে তিনি বলেন, আমরা ছোট থেকে দেখে আসছি এই চামড়া গুদাম এলাকায় প্রতি বছরের কোরবানি ঈদে ব্যাপক চামড়া কেনা-বেচা হয় কিন্তু বেশ ক’বছরের চামড়ার ব্যবসায় লোকসানের কারণে ব্যবসায়ীরা চামড়ার কেনা-বেচা বন্ধ করে দিয়ে বাপ-দাদার ঐতিহ্যের ব্যবসা পাল্টে নতুন ব্যবসায় নেমেছে।

সবচেয়ে বড় আড়ত এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তবে নানান ফড়িয়া ও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা আছেন। তবে এসব চামড়া ব্যবসায়ীর প্রায় সবাই এখন মূলধন হারিয়ে অভাবে দিনাতিপাত করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা যায়, গত বছর ময়মনসিংহ জেলায় ৯৬ হাজারের বেশি গবাদিপশু কোরবানি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার গরু ও বাকি ৫০ থেকে ৫৫ হাজার অন্যান্য গবাদিপশু। এবছর প্রায় ১ লাখেরও বেশি গবাদিপশু কোরবানি দেওয়া হবে। আর জেলায় প্রতি বছরের কোরবানি মৌসুমে প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি চামড়া কিনে নেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। জেলার মোট চামড়া ব্যবসায়ীর সদস্য সংখ্যা প্রায় দু’শতাধিক।

চামড়া ব্যবসায়ী মানিক বলেন, এখন চামড়া কেনার পর সংরক্ষণের জন্য লবণ কেনার মতো টাকাও নেই ব্যবসায়ীদের কাছে। এবার কে চামড়া কিনবে তা বলা যাচ্ছে না। কারণ যারা প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ী তাদের কাছে টাকাও নেই।

আরেক চামড়া ব্যবসায়ী খোকন বলেন, ট্যানারি মালিকরা চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা না দিয়ে তারা ভিন্ন পন্থা অনুসরণ করে। যে জেলায় পাওনাদার আছে সেই জেলায় তারা দ্বিতীয়বার নিজে না গিয়ে তাদের লোক পাঠিয়ে চামড়া কিনে। এভাবেই দেশের চামড়া ব্যবসায়ীদের মূলধন আটকে রেখে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এবছর কোরবানি ঈদে জেলায় লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়া প্রতি বর্গ ফুট ৩৩ টাকা থেকে ৩৭ টাকা, খাসির চামড়া প্রতি বর্গ ফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা এবং বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, ঈদের পর লকডাউন থাকলেও চামড়া কেনা-বেচায় কোন প্রভাব পড়বে না। তাছাড়া এবছর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ নিয়ে আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছি, আশাকরি তারা কোন জটিল সমস্যা ছাড়াই কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করতে পারবেন।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ