About Us
SATYAJIT DAS - (Habiganj)
প্রকাশ ২০/০৭/২০২১ ০৬:০৩পি এম

হুমায়ুন আহমেদ লক্ষ তরুণকে বই পড়া শিখিয়েছিলেন

হুমায়ুন আহমেদ লক্ষ তরুণকে বই পড়া শিখিয়েছিলেন Ad Banner
✍️ডাঃ সৈয়দ দিদার হাসান✍️
সিলেট।


১৯ শে জুলাই। প্রিয় লেখক"হুমায়ুন আহমেদ " চলে যাওয়ার নবম বছর। সময় কি দ্রুতই চলে যায়! চলে যাচ্ছে!

স্যারের লেখার সাথে প্রথম পরিচয় সেই ১৯৯৩ সালে।আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। আব্বু, আমার মতই আরেক হুমায়ুন ভক্ত, পুতুল আর পোকা এই দুইটি বই নিয়ে এসেছিলেন আমার জন্য। সেই থেকে শুরু, ২০১১ সাল পর্যন্ত বাপ ছেলের হুমায়ুন স্যারের বই পড়া, উনার নাটক দেখা এক সাথেই চলছিল।

ঈদের দিন আসলেই চ্যানেল আই এ স্যারের নাটক দেখানো হতো। আব্বু আগে থেকেই আমাকে মনে করিয়ে দিতেন।

সকাল-সন্ধ্যা, বহুব্রীহি, কোথাও কেউ নেই, এই ধারাবাহিক গুলোর সিডি কেনা ছিল, মাঝে মাঝেই অবসরে এক সাথে দেখা হতো আব্বুর সাথে। আর গল্পের বই গুলো ছিল আমাদের নিত্য দিনের মনের আনন্দের খোরাক। নতুন বই কেনা হলে এর সাময়িক মালিকানা নিয়ে চলতো বাপ ছেলের নানান লুকোচুরি।

আবার পড়া হয়ে গেছে! নতুন বই নেই, তো কি হয়েছে! পাল্লা দিয়ে চলতো পুরাতন বই পড়া। কেন জানি এই লিখাগুলো কখনো পুরাতন মনে হতো না আমাদের কাছে। এমনিই ছিল তাঁর লেখনীর জাদু। প্রিয় লেখকের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর সৃষ্টিশীলতার প্রতি ছিল তাই আমাদের নিখাদ ভালোবাসা। হঠাৎই ছন্দপতন!!

আমাদের পরিবারের জীবন এলোমেলো করে দেয়া ২০১১ সন। ১৯ শে জুন,আব্বুর ক্যান্সার ধরা পরে আর মাত্র সাড়ে চার মাসেই উনি আমাদের রেখে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে চলে যান চিরতরে। আব্বুর চলে যাওয়ার পর আমি বাস্তবিক অর্থেই বই কিনা ছেড়ে দেই। তাঁকে ছাড়া বই পড়া, বই কিনা আমার কাছে হয়ে পরে অর্থহীন।

জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি, আমার শৈশব, কৈশোর- তারুণ্যের বই পড়ার সঙীকে কে রেখে আর কখনোই সেভাবে বই কেনা/ পড়া হয়ে উঠেনি, উঠবেও না।

শুরু করেছিলাম হুমায়ুন স্যারকে নিয়ে লিখবো বলে, অজান্তেই লেখার অনেকটা জুড়েই চলে আসলেন এমন একজন মানুষ, যাকে ছাড়া হুমায়ুন বন্দনা করা সম্ভব নয়, অন্তত আমার পক্ষে।

আব্বুর হাত ধরেই আমার হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ার হাতেখড়ি। কত কিছুই শেখালেন হুমায়ুন স্যার। জ্যোৎস্না বন্দনা, বৃষ্টিকে ভালোবাসা, চারপাশে ঘটে চলা হাসি, কান্না আর মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি। আসলে বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের সুখ-দুঃখ আর আনন্দ-বেদনার কাব্য হুমায়ূন আহমেদ এতটাই সহজ সাবলীল ভাবে লিখতেন, পড়তে পড়তে মনে হতো আরে! এ বুঝি আমারই-আমাদেরই গল্প!

তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব দেশে এক বিশাল তরুণ পাঠকসমাজ তৈরি করা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর মানুষ তার লেখা মোহগ্রস্ত হয়ে পড়তেন। তিনি না জন্মালে হিমু, মিসির আলী কিংবা শুভ্রকে বাঙালি কোনদিনই চিনতো না।

আজ প্রিয় লেখকের চলে যাওয়ার দিন। বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় কিংবা জ্যোৎস্নালোকিত রাতে আপনি সবসময়ই আমার মত লক্ষ পাঠকের স্মৃতিকে অনুরণিত করে রেখেছেন- রাখবেন।

ওপারে ভালো থাকুন স্যার।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ