About Us
Robel Ahammed - (Tangail)
প্রকাশ ১৯/০৭/২০২১ ০৪:৫৯পি এম

চলে গেলেন দানবীর শিক্ষক অধ্যক্ষ শেখ আব্দুর রহমান

চলে গেলেন দানবীর শিক্ষক অধ্যক্ষ শেখ আব্দুর রহমান Ad Banner
ছোট বেলা থেকেই তিনি ছিলেন চুপচাপ স্বভাবের মানুষ। কথা কম বলতেন। প্রয়োজনের বেশি কোন শব্দই তিনি ব্যবহার করতেন না। সবাই তাকে নানা বলে ডাকতেন। পেশায় ছিলেন একজন জাদরেল মাপের শিক্ষক। নাম ছিল আব্দুর রহমান ।

মতিঝিলের টিএনটি স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের কথাই বলছি। অতি সাধারণ চেহারার অসাধারণ মানুষ ছিলেন তিনি। শেষ বেলায় টাংগাইলের শিবনাথ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অতি নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। তিনি তার জীবদ্দশায় গরীব, দুঃখী ও মেহনতী মানুষের জন্য কাজ করেছেন।

তার পারিবারিক ঐতিহ্যর বলয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি গ্রাম। যার নাম টাংগাইলের সন্তোষের জান-মাহমুদাবাদ নামক গ্রামটি। তারই ওয়াকফ করা জায়গায় বিনামূল্য চিকিৎসার জন্য নিমা’ণ করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট মসজিদ (নিমা’ণাধীন)। টাংগাইলের অনেক কৃতি সন্তানদের নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় এবং বরণীয়। কিন্তু, জীবিত অবস্থায় তিনি কখনোই মিডিয়ামুখী হননি। উৎসাহদাত্রী পত্নী বিয়োগের পর খুব বেশী একা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দুই ছেলে আর এক মেয়েকে করেছেন সু-প্রতিষ্ঠিত।

বড় ছেলে থাকেন সু-দূর প্রবাস ফ্রান্সে। মেয়ে করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নির দাদার নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজ এইচ এম ইনিষ্টিটিউশনের শিক্ষিকা আর ছোট ছেলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।

গ্রহ পরিচারিকা রেখে দিলেও মাঝে মাঝে একাকীত্বের বিষন্নতা তাকে ঘীরে ধরতেন। কখনো নিজের মন বেদনার কথা কাউকে বলতেন না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন।

তাহাজ্জুদে সময় ব্যয় করতেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর টা লাঠিটা আর কত টুকুই বা ভার বহন করতে পারে। তবুও মনের জোর টা যেন তাকে বেঁচে থাকার স্বপ্ন যুগিয়ে যেত প্রতিদিন। কিন্তু, একাকীত্বের ভার বড় নিম’ম। তারই হাত ধরে এই তিনি একাকী অনেক গুণগ্রাহীকে কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ী জমান এই নিরব দানবীর মানুষটি। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।

ভাল থাকুক ওপারে প্রচার বিমুখ দানবীর শিক্ষক অধ্যক্ষ শেখ আব্দুর রহমান।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ