About Us
M Najmul Haque - (Tangail)
প্রকাশ ১৯/০৭/২০২১ ০৩:৫৬পি এম

রোহিঙ্গাদের ঈদ

রোহিঙ্গাদের ঈদ Ad Banner
বিশ্বের মুসলিমদের কাছে পবিত্র ঈদুল আজহা অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। কোরবানীর ঈদ উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে। তবে করোনা মহামারিতে অনেকটাই ম্লান এবারের উৎসব। গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। বিশেষ করে মুসলিম শরণার্থীর সংখ্যার হারই বেশি।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে মুসলমানদের ঈদ আয়োজনে বিশেষ কিছু থাকে না। এই দিনটা তারা কাটেন অন্যান্য দিনের মতোই। তবে বিশ্বে এখন সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির বাংলাদেশের কক্সবাজারে।

বলছি রোহিঙ্গা মুসলিমদের কথা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। হত্যা করে নারী শিশুসহ বহু রোহিঙ্গা মুসলিমকে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো যেটিকে এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নিধন বলে অ্যাখ্যা দেয়।

সে বছর ২৫ আগস্ট রাতে প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে। আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। সে সময় বাংলাদেশ সরকার উদারতার পরিচয় দিয়ে অসহায় মানুষগুলোকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়। টানা কয়েক মাসে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। নারী-শিশুসহ এখন প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে বাংলাদেশে।

এতো মানুষের আবাস, খাদ্য চাহিদা মেটাতে হিমশিম অবস্থা বাংলাদেশের। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রয়েছে হাজার হাজার অধিকার বঞ্চিত শিশু। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের সব ধরণের চাহিদা পূরণের। তবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও কাজ করছে তাদের জন্য।

বারবার বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর চেষ্টা করলেও সাড়া নেই মিয়ানমার সরকারের। নিজ দেশে ফিরতে না পেরে অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিমরা।
জীবন বাঁচানোর তাগিদে যারা আজ ভিটে মাটি ছাড়া সেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের কাছে ঈদের আলাদা করে কোন আনন্দ নেই। ঈদের উৎসবের আমেজ ছোঁয় না তাদের মনে।

যদিও বাংলাদেশ সরকার তাদের ঈদ পালনের জন্য বাড়তি আয়োজন করে থাকে। ঈদের নামাজ আদায়ের সার্বিক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কোরবানীর পশু জবাই সবই করা হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে। সাহায্যের হাত বাড়ায় মানবাধিকার সংস্থাগুলোও। তবে সব আয়োজনই তাদের কাছে বৃথা মনে হয় কেননা নিজ দেশে তারা উদযাপন করতে পারছেন না অন্যতম ধর্মীয় উৎসব।

নিজ দেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা মুসলিমরা সহায় সম্বলহীনভাবে বাংলাদেশে আসে। এরপর যতটুকু জুটে তা দিয়ে জীবন চালাতে হয় তাদের। রোহিঙ্গারা ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ঈদ উদযাপন করছে বাংলাদেশে। প্রতি ঈদে বাড়তি কোন চাওয়া নেই তাদের।

শুধু একটাই আকুতি কবে ফিরবে নিজ দেশে? নিজ দেশে ফেরার আনন্দ হয়ত তাদের কাছে অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের মতোই।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ