About Us
MD. ASHRAF ULLAH - (Bhola)
প্রকাশ ১৯/০৭/২০২১ ১০:০১এ এম

কোভিড- ১৯, সাড়ে ৪ বছরে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পারবে

কোভিড- ১৯, সাড়ে ৪ বছরে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পারবে Ad Banner
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ কোটি মানুষকে টিকাকরণের আওতায় আনার লক্ষ্যে টিকা সরবরাহে নেমেছে সরকার। নানা জটিলতার পর সেই দৌড়ে সুফলও মিলেছে অনেকটা। চীনের সঙ্গে চুক্তি ও কোভ্যাক্সের সুবিধায় টিকার প্রাথমিক সংকট কিছুটা কেটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বলছে, প্রতি মাসে ২৫ লাখ মানুষকে টিকা দিতে চায় সরকার। সে অনুযায়ী মাসে দুই ডোজের টিকা লাগবে ৫০ লাখ। বর্তমানে দৈনিক টিকা দেওয়ার সক্ষমতা ২ লাখ। সে হিসেবে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে সময় লাগবে সাড়ে ৪ বছরেরও বেশি।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান শুরুর পর এখন পর্যন্ত (গতকাল রোববার) ৬৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫০ জনকে টিকা দিতে পেরেছে সরকার। এর মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন মাত্র ৪২ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৮ জন। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ কোটি ২৫ লাখের বেশি মানুষের সাড়ে ৮ কোটি টিকার প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান হারে টিকা দেওয়া হলে আগামী আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ মাসে ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষের টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে আরও সোয়া ৪ কোটি লোককে টিকা দেওয়া কঠিন হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ কেনা ও বিভিন্ন উপায়ে ২ কোটি টিকা পাবে। এর মধ্যে গত শনিবার চীন থেকে দ্বিতীয় দফায় চুক্তির আরও ২০ লাখ টিকা এসেছে। দেশটির সঙ্গে দেড় কোটি টিকা কেনার চুক্তি করেছে সরকার। টিকা পাওয়ার দুয়ার খুলেছে রাশিয়া থেকেও। চলতি মাসেই চুক্তিতে সই হতে পারে দুই দেশের।

অন্যদিকে টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স থেকেও ভালো সাড়া পাচ্ছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দফায় এই মাধ্যমে আজ সোমবার ৩০ লাখ মডার্নার টিকা আসছে। এর আগে ফাইজার ও মডার্নার মোট ২৬ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা এসেছে। আগামী মাসে একই মাধ্যমে ২৯ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া সেরাম থেকেও টিকা পাওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েছে সরকার।

আগামী মাসেই চুক্তির বাকি ২ কোটি ৩০ লাখ টিকার চালান ধীরে ধীরে আসা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইপিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরবরাহ বাড়লেও চলতি বছর ১০ কোটি টিকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ফলে টিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত খুব বেশি আশান্বিত হওয়া যাচ্ছে না।

চীনের সঙ্গে চুক্তি ও কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় টিকার সংস্থান হওয়ায় বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় চলছে প্রথম ডোজের টিকাদান কার্যক্রম। প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
বন্ধের দিন ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চলছে টিকাদান কার্যক্রম। এর মধ্যে ফাইজার রাজধানীর সাতটি সরকারি হাসপাতালে, মডার্না দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং সিনোফার্ম দেওয়া হচ্ছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে।

দেশের ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বা ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৮ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য সরকারের। বিপুলসংখ্যক এই জনগোষ্ঠীকে চার ধাপে টিকা দেওয়া হবে। প্রথম ধাপকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে জনসংখ্যার ৩ শতাংশ মানুষ বা ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ২৮২ জনকে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ভাগের দ্বিতীয় ভাগে ৭ শতাংশ বা ১ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৭ জনকে টিকা দেওয়া হবে। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপে ১১ থেকে ২০ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ২১ থেকে ৪০ শতাংশ এবং চতুর্থ ধাপে ৪১ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। টিকার দেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, ‘বর্তমানে দিনে দুই লাখের মতো টিকা দেওয়া যাবে। এক দিনে আমরা ১ কোটি টিকাও দিতে পারি, সে ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে টিকা দিতে হবে। সেটি করতে হলে সেই পরিমাণ স্বাস্থ্য সহকারী লাগবে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।’

খুরশীদ আলম বলেন, ‘এখনো প্রায় ১১ হাজার পদ খালি। আমি চাইলেই তো হবে না। সামনে আবার সাধারণ টিকা দেওয়া শুরু হবে। এর মধ্যে হাসপাতালের অন্য সেবা ও ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করতে হয়। এখন যদি সরকারি সব হাসপাতালে বেশি টিকা দেওয়া শুরু করি, তাহলে কোভিডসহ অন্য সেবাগুলো ব্যাহত হবে।’

মোট টিকাদানের সময়সীমা কমিয়ে আনার ব্যাপারে ডিজি বলেন, ‘আগে বড় মাপের একটা টিকার চালান পেয়ে নিই, তারপর একেবারে গ্রাম পর্যন্ত আমরা টিকা কার্যক্রম নিয়ে যাব। তখন আশা করা যায় সময় কমে আসবে।’

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা শুধু সরবরাহ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ানো। মাসে অন্তত ১ কোটি মানুষকে টিকাকরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে–নজির আহমেদ বলছেন, ‘লোকবল নয়, পরিকল্পনার অভাব। আমরা চাইলে দিনে এক কোটি টিকা দেওয়া সম্ভব। আমাদের ৫০০ উপজেলা রয়েছে, সেখানে ভাগ করে দেওয়া যায়। আমার যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে মাসে ১ কোটি মানুষকে টিকা দেব, তাহলে দিনে ২ লাখ নয়, ৪ লাখ টিকা দিতে হবে। তাহলে এক বছরেই ১২ কোটি মানুষকে দেওয়া যাবে। তাই, সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’

প্রতি মাসে ৫০ লাখ টিকা পাওয়ার নিশ্চয়তা কতটুকু জানতে চাইলে ডিজি খুরশীদ আলম বলেন, এ জন্য জনসনের এক ডোজের টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীন, রাশিয়া ও কোভ্যাক্স থেকে ভালো পরিমাণ টিকা আসবে। এ ছাড়া সেরাম থেকে আগামী আগস্ট–সেপ্টেম্বরের দিকে কোভিশিল্ডের টিকাও আসবে। সুতরাং, আশা করা যায় টিকা পাওয়ায় সমস্যা হবে না।

এদিকে টিকার সরবরাহ বাড়লেও সংরক্ষণ জটিলতা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছেই। কোভিশিল্ড ও সিনোফার্ম টিকার সংরক্ষণ ঠিকঠাক করা গেলেও মডার্না ও ফাইজার নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়তে হচ্ছে সরকারকে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, ফাইজারের টিকার সংরক্ষণ টেকনিক্যালি অনেক ডিমান্ডিং, দিতেও অনেক ঝামেলা। এই টিকা দিতে হলে যে অভিজ্ঞতা দরকার, তা করতে যত লোক লাগাবে তাতে সব জনবল ওখানেই লেগে যাবে। আর আমি চাইলেই জনবল বাড়িয়ে দিতে পারব এমন সুযোগ নেই।

গ্রাম পর্যায়ের হতদরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষের টিকাকরণের ব্যাপারে ডিজি বলেন, তাদের টিকা কোন প্রক্রিয়ায় দেওয়া যায়, তা নিয়ে সভা ডাকা হয়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে। যে নিয়মে বর্তমানে টিকার নিবন্ধন হচ্ছে, তাতে গ্রামের মানুষ এটি করতে পারবে না। তাই, সাধারণ নিয়মে টিকা দেওয়া যায় কি না, ভাবা হচ্ছে।

এদিকে শিশু–কিশোর ও গর্ভবতী মায়েদের টিকাকরণের ব্যাপারে এখনো নীতিগত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে এই শ্রেণির মানুষদের টিকা দেওয়া হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো ইতিবাচক বার্তা না দেওয়ায় অনুমতি দিতে চাচ্ছে না ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি (নাইট্যাগ)। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে জানিয়েছেন নাইট্যাগের সদস্য অধ্যাপক বে–নজির আহমেদ।

আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, বিশ্বব্যাপী এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা জাতীয় ইস্যু, আলোচনার প্রয়োজন আছে। যতক্ষণ না জাতীয়ভাবে এটির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসে, ততক্ষণ কিছু বলতে চাই না।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ