About Us
Adv.Md.Sarwar Hossain
প্রকাশ ১৮/০৭/২০২১ ০৪:৩৯পি এম

কাল বৈশাখী ঝড়

কাল বৈশাখী ঝড় Ad Banner
বসন্তের বিকাল, ফুলে ফলে চারদিকে মোহ মোহ ঘ্রাণ। বসন্তের প্রাণ জুড়ানো বাতাস, মাঝে মাঝে হালকা মৃদু বাতাস আচড়ে পড়ে অভির লম্বা চুলের উপর। পরম শান্তি পায় অভি। বিশ্ববিদ্যালযের ছাত্র অভি বেজায় রশিক। মুহুর্তেই মানুষকে আপন করে নেওয়ার মত যতগুলো গুন থাকা প্রয়োজন তা তার মধ্যে রয়েছে।

সারা জীবন ভেজালহীন জীবনের পক্ষে সে তবে পরোপকারী। এলাকায় যখন প্রবেশ করে ছোটবড় সব ধরনের মানুষ তার সাথে চমৎকার ব্যবহার করে। মনে হয় আপন মনের মানুষ। একটি সুন্দর স্বপ্নীল ভোরের প্রত্যাশায় দিন কাটে তার। কোন সোনালী ভোরে ডেকে উঠবে ভোরের পাখি। পাখি গুলো করবে কোলাহল, গ্রামের ছোট ছোট বাচ্চা ছেলে-মেয়েগুলো করবে হৈচৈ। আনন্দে ভরে যাবে গোটা গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদী তার একজন সঙ্গী। আষাঢ়ে বৃষ্টিতে ভিজে যেমন কদম ফুল কুটি কুটি হয়, সোনালী আকার ধারন করে চকচকে হয়। তেমনি সেই ছোটকাল থেকে এ নদীতে সাতার কাটা, মাছ ধরা আর কখনো পানির মধ্যে ছুটাছুটি ছিল তার নিত্যদিনে সাথী। শৈশব পার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখলেও ভুলতে পারেনি সে সব রঙিন দিনের স্মৃতি। এখনও যখন রোদ্রের খরতাপে নদীর বুক শুকিয়ে চরের সৃষ্টি হয় আর চরের মাঝে সবুজ ঘাসের ডানা মেলে নকশী কাঁথার মত বিছানা তৈরি হয় সেসব দেখেও তার মন জুড়িয়ে যায়। গ্রামের টাটকা খাবার গুলো তাকে মোহিত করে। গ্রামের বেল, সফেদা, ডাবের পানি তার নিকট অমীয় স্বাদ।

এত সুন্দর সময়গুলির মাঝে অভিকে মাঝে মাঝে বিষন্ন দেখায়। বন্ধুরা তাকে জিজ্ঞেসা করে তোমার মন খারাপ নাকি? সে মাথা নাড়িয়ে বলে নাহ। তবে যে তোমাকে বিষন্ন দেখাচ্ছে ? শুধু জবাব দেয় আর কত দিন এভাবে শান্তিতে থাকতে পারব। আল্লাহ তুমি সবাইকে হেফাজত করো। সৃষ্টি নিয়ে তার ভাবনার শেষ নেই। টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গিয়ে অভি চিন্তা করে, কে এমন কোন প্রকার মেশিন বা তেল বা বিদ্যুৎ বিহীন একটি পানির কল তৈরির পরিকল্পনা নিল। দারুন এক সৃষ্টি, যার তুলনা হয় না। কোন বিল দিতে হয় না অথচ কত স্বচ্ছ পানি পান করছি।

অভি একবার ঢাকা থেকে চাঁদপুর লঞ্চে যাচ্ছিল। লঞ্চে খুব ভিড় ছিল। সামান্য জায়গায় আটসাট করে কোন রকমে ঘুমাতে হলো রাতে। ঘুমের আগে চিন্তা করল মানুষের হাতপাগুলো যদি যন্ত্রের মত নাট বল্টুর মতো খুলে রাখা যেতো তাহলে মনে হয় কিছুটা সহজ হতো। এভাবে চিন্তা করতে করতে সে ঘুমিয়ে গেল। সকালে চেঁচামেচির মধ্যে তার ঘুম ভাঙ্গল। সে শুনতে পেল একজনের ব্যাগ হারিয়েছে, আর একজনের মানিব্যাগ হারিয়েছে। কারো কাপড়ের ব্যাগ পাচ্ছে না। সে ভাবলো রাতে কি ভাবলাম আর সকালে কি হলো। যদি মানুষের হাত পা গুলো খুলে রেখে মানুষ ঘুমাতো তাইলে কি হতো। তাইলে তো হাত পাই হারিয়ে যেত। আল্লাহ কি চিন্তা করলাম এগুলো। আমাকে মাফ করো।

বন্ধুরা যখন সবাই খোশ গল্পে ব্যস্ত অভি তখন আপন মনে ভাবছে। বন্ধুরা বলল আবার কি হলো তোমার? ও বলল আমাদের জীবনে এমন কাল বৈশাখী ঝড় আসছে যা কোন ভাবেই দমন করা সম্ভব নয়। সে বলল চিন দেশে এক মহামারী দেখা দিয়েছে আর সেটা হলো করোনা ভাইরাস। আর সব রাষ্ট্র চীনে তার বানিজ্য করে । এক সাথে পুড়ো পৃথিবী আজ ধ্বংসের মুখে। আর এমন একটি রোগ কোন ভাবেই দমন করা যাচ্ছে না। যিনি এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তার পরিবার আক্রান্ত হচ্ছে । সে এলাকার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে গোটা দেশ। এভাবে ছড়িয়ে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীতে। বন্ধুরা বলল তাহলে এখন কি হবে? সেটাইতো ভাবছি আমরা কি করতে পারি এজন্য।

আমরা সবাই মিলে এক হয়ে রোগের বিরুদ্ধে লড়ব। দুর্বলদের সাহায্য করব। অসহায়দের খাবারের ব্যবস্থা করব। সবাইকে যার যার ঘরে অবস্থান করতে বলব । মহান আল্লাহর কাছে এ রোগ থেকে বাচার জন্য সাহায্য চাইব। তিনি এই কাল বৈশাখী ঝড় থেকে আমাদের মুক্ত করে দিন।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Md Enamul Huq - (Sylhet)
প্রকাশ ২৩/০৭/২০২১ ০৯:০০পি এম
Md Enamul Huq - (Sylhet)
প্রকাশ ২৩/০৭/২০২১ ০২:৫৮পি এম