About Us
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ২২/০৬/২০২১ ০২:০৬পি এম

'বাবা' এই ছোট্ট একটা শব্দের ব্যপকতা বিশাল

'বাবা' এই ছোট্ট একটা শব্দের ব্যপকতা বিশাল Ad Banner
'আমি এখনো আমার মেয়েকে সময় পেলে স্কুলে নিয়ে যাই। তার শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি। সন্ধ্যার পর থেকে টেলিভিশন, ইন্টারনেট সব বন্ধ করে দেই। সিনেমা রিলিজের ডেট কখনো বলিনা যখন দেখি ওর পড়াশুনার চাপ কম তখন ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওকে প্রিমিয়ারে নিয়ে যাই। ওর এই বয়সটায় ওকে ওর মূল দায়িত্ব সম্পর্কে শতভাগ সচেতন করে তোলা একজন বাবা হিসেবে আমার কর্তব্য। আমার পেশা ,আমার পরিচয় নিয়ে ওর দম্ভ করা কিংবা আমাকে নিয়ে ভাবা ওর এই বয়সে নিষ্প্রোয়জন। আমার স্ত্রীকে সবসময় বলি ওর জন্য বাসায় তৈরি খাবার টিফিনে দিতে। প্রয়োজনের বেশি টাকা আমি কখনোই ওকে দেইনা।যে জিনিসটা চায় আমি সেই জিনিসের দাম জেনে নিয়ে খাতায় লিখে রাখি যাতে ১ পয়সা বাচলেও সেটা সে ফেরত দেয়। আমি জানি এক পয়সা এমন কিছুইনা কিন্তু এই এক পয়সার হিসাব দেওয়াটা তার honesty এর practice হবে। সে নিজেও তখন কাউকে ঠকাতে পারবেনা।

এই বিষয়ে আমার বাবাকে নিয়ে গল্প বলি আমার যখন যা লাগতো আব্বু তাই এনে দিতো। রাত ১ টায় একবার আমার রসোগোল্লা খেতে ইচ্ছে করেছে। আব্বু দোকানের ময়রাকে ঘুম থেকে তুলিয়ে আমার জন্য রসোগোল্লা বানাতে বলেছিলেন। হাই স্কুলে পড়ার সময় টিফিনের জন্য এবং যাতায়াত খরচ সহ আমাকে ৪০ রুপি দিতেন ।আব্বু জানতেন সেখান থেকে ৮ রুপি সবসময় বেচে যাবে।তবুও আমি একদিন না বলে লজেন্স কিনার জন্য আব্বুর পকেট থেকে ২ রুপি চুরি করেছিলাম। ভেবেছিলাম ২ রুপিই তো আর বলার কি আছে! কিন্তু আমার মনে আছে ওইদিন আমার আব্বু আমাকে প্রচন্ড মেরেছিলেন আর বলেছিলেন, "আজ তুমি আমাকে ঠকালে কাল তুমি নিশ্চয়ই আরেকজনকে ঠকাবে।

সৃষ্টিকর্তা তাহলে কখনোই তোমার সহায় হবেন না।আমি সেখান থেকেই সততা শিখেছি। লেখাপড়ার ব্যাপারে আমার বাবা ভীষণ কঠোর ছিলেন। তিনি বেশ কয়েক ব্যবসায় লস করেছেন কিন্তু কোনোদিন আমাদেরকে সেই কথা বলেননি। এমন একটা মাস গিয়েছে আব্বুর হাতে কোনো টাকা ছিলোনা কিন্তু আমার পরীক্ষার ফি পরদিন দিতে হবে। আব্বু সেদিন একটা ইলেকট্রিক দোকানে রাত ৩ টা পর্যন্ত কাজ করে আমার পরীক্ষার ফির টাকা জোগাড় করেন। আব্বু জমিদার বংশের লোক দাদা তাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন তিনি নেন নি। কারন তিনি বলেছেন ," বাবা শুনো আমি নিজেও এখন একজন বাবা। আমার ছেলে মেয়েরা আমার পরিশ্রমটাই দেখবে এবং তারাও শিখবে কিভাবে আত্মমর্যাদা নিয়ে সমাজে টিকে থাকতে হয়। আমি তাদেরকে হাত পাততে শিখাতে পারবোনা। আসলে বাবারা এমনই হন।"- বাবার স্মরনে (নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী) ।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ