About Us
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Md. Nasir Uddin - (Dhaka)
প্রকাশ ২২/০৬/২০২১ ০৫:০০পি এম

মৃৎশিল্প : যে ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে

মৃৎশিল্প : যে ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে Ad Banner
কুমোর-পাড়ার গোরুর গাড়ি/বোঝাই করা কলসি হাঁড়ি/গাড়ি চালায় বংশীবদন/সঙ্গে যে যায় ভাগ্নে মদন/ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাট কবিতার এই চরবণটি পড়লেই বোঝা যায় কুমোর আর মৃৎশিল্প বাঙালির গৌরবময় ঐতিহ্যের একটি শিল্প৷তবে কালের আবর্তে এই শিল্পটির জৌলুস এখন মৃতপ্রায়।

অতীতে এদেশে মৃৎশিল্পের বেশ কদর ছিল কিন্তু বর্তমানে তা নেই বললেই চলে। আগে আমাদের ব্যবহার্য বাসনকোসনের বেশিরভাগই ছিল মাটির তৈরি। কুমোর ছিল, ছিল কুমোর পাড়া।

সাধারণত মাটির তৈরি জিনিসপত্রকে মৃৎশিল্প বলে। আর যারা মাটির তৈরি এসব হাঁড়ি-পাতিল, ফুলদানি, টব,পুতুল বানান তাদের বলা হয় কুমোর ।

কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেকটা মৃতপ্রায় এই মৃৎশিল্প। মাটির জিনিসপত্রের জায়গা দখল করে নিয়েছে মেলামাইন, প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্র। তাই মাটির তৈরি তৈজসপত্রের তেমন চাহিদা নেই। চাহিদা না থাকায় অনেক কুমোর বাধ্য হয়ে পেশা ছাড়ছেন। 

পাবনার বেড়া উপজেলা এক সময় মাটির তৈরী জিনিসের জন্য বিখ্যাত ছিলো। কয়েকবছর আগেও এখানকার কুমোররা বানাতেন মাটির হাঁড়ি, ফুলদানি, ট্যাপা পুতুল, টব আরো কত কী! এখন আর সেই তোরজোড় নেই।

হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের মালদাপাড়া গ্রামের মেনে বালা পাল অত্যান্ত দুঃখের সাথে জানান, ''আগের মতো মাটির তৈরী জিনিসের আর কদর নেই। তাছাড়া এটেল মাটি ও মাটির বাসন তৈরীর অন্য সকল সামগ্রীও আগের মতো সহজে পাওয়া যায় না। তাই এ পেশায় এখন আর স্বাবলম্বী হওয়া তো দুরের কথা, দু‘বেলা দু‘মুঠো খাবার জোটানো কঠিন হয়ে পড়ে''। সচেতন মানুষ অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে নিজেদের বাড়িঘর সাজানোর জন্য মৃৎশিল্পই বেছে নেন। হয়ত সেজন্য কিছুটা চাহিদা এখনো আছে। তবে সেটা খুবই সামান্য।

এই শিল্পের চাহিদা সৃষ্টি করে একে বাঁচানো সম্ভব। নিজেদের ঐতিহ্য অবজ্ঞা করা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দ্রুত সরকারি বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের এসব ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নেয়া সময়ের দাবী। এগুলো আমাদের অহংকার।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ