About Us
Aktaruzzaman - (Khulna)
প্রকাশ ২১/০৬/২০২১ ১২:৫৪এ এম

সমসাময়িক অর্থনীতি

সমসাময়িক অর্থনীতি Ad Banner
দালালের অর্থনীতি -২
*******************
আকতারুজ্জামান (সরকারি, বি, এল কলেজ,খুলনা,অর্থনীতি বিভাগ)

গত পর্বে দালালের অর্থনীতি আলোচনায় শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে দালালের সম্পর্ক দেখানোর চেষ্ঠা করেছিলাম।
আজকের আমাদের শিরোনাম 'নিলাম বা ডাক 'পদ্ধতিতে ক্রয় বিক্রয়ে দালালের চরিত্র। আগেই বলেছিলাম সকালে morning walk এর কল্যানে আমি যে কোন একটি বিষয় বা ঘটনাকে আমার subconscious mind এ ধারণ করার চেষ্টা করি। কারণ সকালে নিস্তব্দ পরিবেশে উক্ত চিন্তা ভাবনা গুলো আমাদের subconscious mind সহজে catch করে ফেলে এবং পরবর্তীতে সেটা conscious mind এ পৌছিয়ে দেয় এবং সেটাই আমাদের মস্তিষ্ক খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারে।
যাই হোক মূল আলোচনায় আসি। ছোট বেলায় অনেক সময় দেখতাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী গ্রামের লোকেরা গাছের প্রথম ফল, হাঁস মুরগি অথবা হাসঁ মুরগির প্রথম ডিম স্রষ্টার উদ্দশ্যে মসজিদে দান করতো। মসজিদ কমিটি বা ইমাম সাহেব সেটাকে নিলাম বা ডাকের মাধ্যমে বিক্র করতেন। তখনোও বুঝতাম না এটাই নিলাম বা ডাক পদ্ধতির ক্রয় বিক্রয়।যদিও ইসলামে নিলাম বা ডাক তো দূরের কথা মসজিদে সবধরণের ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ।এখনোও আমাদের সমাজের কোথাও কোথাও এই পদ্ধতি চালু আছে জানি না তারা কোন ধর্মীয় দৃষ্টিতে এটা করে থাকেন।
যাই হোক সেটা আমাদের আলোচনার বিষয় না, আমাদের আলোচনার বিষয় আধুনিক অর্থনীতিতে নিলাম বা ডাক পদ্ধতির ক্রয় বিক্রয়ের আইন গত বিধিমালা। এবং আমাদের সমাজের নিলামে দালালের ভূমিকা।
গত কয়েকদিন আগে সকালে হাটতে হাটতে মোস্তফা মৎস আড়তের দিকে গেলাম। দেখি বড় একটি ঘরের এক এক জায়গায় কিছু লোক জড় হয়ে আছে এবং একজন লোক একটি মস্ত বড় লাঠি দিয়ে টিনে বাড়ি দিয়ে ডাক তুলছেন। কৌতুহলী হয়ে ভিতরে গেলাম। কিছু ছবি তুললাম এবং পর্যবেক্ষণ করলাম
হ্যা এটাই নিলাম বা ডাক পদ্ধতি।
*****************************
সুতরাংনিলাম এক বিশেষ ধরনের বিক্রয় পদ্ধতি। এতে কোনো পণ্য কেনার জন্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্য প্রস্তাব করার জন্য লোকজনকে আহ্বান করা হয়। বিক্রেতার প্রতিনিধি হিসেবে নিলামকারী ব্যক্তি তার টেবিলে হাতুড়ির আঘাত করে সর্বোচ্চ দরদাতার অনুকূলে দ্রব্য বিক্রির ঘোষণা দিয়ে নিলামের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অবশ্য প্রথাসিদ্ধ যে কোনো পদ্ধতিতে নিলাম অনুষ্ঠিত হতে পারে।
পণ্য বিক্রয় আইনের ৬৪ ধারায় নিলামে বিক্রির পদ্ধতি বলা হয়েছে। ওই ধারার ১ উপধারা অনুসারে, যখন পণ্য পৃথক পৃথক স্তূপ আকারে বিক্রির জন্য উপস্থাপন করা হয়, তখন প্রত্যেক স্তূপ আপাতদৃষ্টিতে একটি পৃথক বিক্রয় চুক্তির বিষয় বলে গণ্য হবে।
২ উপধারায় বলা হয়েছে, যখন নিলামদাতা হাতুড়ি দিয়ে বা অন্য কোনো প্রচলিত প্রকারে নিলামের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন, তখনই বিক্রি সম্পূর্ণ হবে। এভাবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত যে কোনো নিলাম ডাকদাতা তার নিলাম ডাক প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।
# এখন। প্রশ্ন হলো এখানে দালাল পক্ষের ভূমিকা কি।
এখানেও দালালেরা বিক্রেতার Agent বা প্রতিনিধি হিসেবে দালালের ভূমিকা পালন করে।এখানে নিলামের শুরুতেই দালালপক্ষ এমন একটি দাম প্রস্তাব করে যেটা বিক্রেতা বা মালিক পক্ষের সাজানো থাকে ফলে অন্যান্য প্রতিযোগীকে তার চেয়ে বেশি দাম তুলতে হয়। অনেক সময় এমন পর্যায়ে দাম ওঠে যে সেই দামে পন্য ক্রয় করে সেই ক্রেতার পক্ষে সর্বনিম্ম দামে বা লোকসানে সাধারণ বিক্রেতাদের কাছে বিক্রয় করতে বাধ্য হয়।
আমি নিজেই চোখে দেখেছি আমার সামনে দিয়ে মাছ কিনে এনে আমার বাসার সামনে রোডে বিক্রি করে একজন বিক্রেতা।
তবে এটা সম্পূর্ন নির্ভর করে পন্যের যোগানের উপর।
**********************************************
এবার কিছু নিলাম বা ডাক পদ্ধতির বিধিমালা তুলে ধরা হলো :-
৬ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, বিক্রেতা যদি মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য ভান করে নিলাম ডাকেন, তাহলে ক্রেতার ইচ্ছানুসারে সেই বিক্রি বাতিল হয়ে যাবে।
দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ নম্বর আদেশের ৬৪ নম্বর নিয়ম থেকে ৮৮ নম্বর নিয়ম পর্যন্ত নিলামে বিক্রি সম্পর্কে সাধারণ নিয়ম বর্ণিত হয়েছে। ২১ নম্বর আদেশের ৬৫ নম্বর নিয়মানুসারে, অন্য কোনো বিধান ছাড়া ডিক্রি জারির ফলে প্রত্যেক নিলাম বিক্রয় আদালতের কোনো কর্মচারী কর্তৃক বা এই উদ্দেশ্যে আদালত-নিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত হবে এবং নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা সম্পূর্ণ করতে হবে। ৬৬ ও ৬৭ নম্বর নিয়মে নিলাম বিক্রয়ের ইশতেহার সম্পর্কে বলা হয়েছে।
আবার ২১ নম্বর আদেশের ৭৩ নম্বর নিয়মে বলা হয়েছে যে কোনো নিলাম অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কোনো অফিসার বা অপর কোনো ব্যক্তির ওপর কোনো দায়িত্ব আরোপিত থাকলে ওই অফিসার বা ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিলাম ডাকতে পারবেন না বা ডাকার চেষ্টাও করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, শুধু নিলামের বিজ্ঞাপন-দান নিলামকারীকে পণ্য বিক্রয়ে বাধ্য করে না। তবে তিনি যদি শর্তহীনভাবে নিলামের বিজ্ঞাপন দেন এবং নিলামের ডাক গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে পণ্য বিক্রিতে বাধ্য থাকবেন। একজন নিলামকারী নিলামকৃত পণ্যে কেবল তার অধিকার জ্ঞাপন করেন এবং ওই পণ্যে বিক্রেতার স্বত্বে কোনো ত্রুটি নেই বলে জানান।
তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ