About Us
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Shah Ali Md. Pintu Khan - (Dhaka)
প্রকাশ ২০/০৬/২০২১ ০১:০৪এ এম

ব্যর্থতায় হাল ছেড়ো না বন্ধু

ব্যর্থতায় হাল ছেড়ো না বন্ধু Ad Banner

আমরা যেন শুরু করার জন্য শুরু না করি, আসুন শুরু করি যেন শেষ দেখার জন্য। জীবনে একটা কিছু শুরু করা এবং কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। অনেকে শুরু করেন কিন্তু ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় বারবার পরাজিত হয়। এক সময় হতাশ হয়ে পিছু হাঁটেন। শুরু করার আগে ভেবে চিন্তে শুরু করাই ভাল।

কোন কাজে সফলতা পেতে হলে অধ্যবসায় করতে হবে, অধ্যবসায় ছাড়া কোন কাজেই সফল হওয়া যায়না। চেষ্টা না করেই যদি হাল ছেড়ে দেই তাহলে কখনো সফলতার দ্বারে আমরা পৌঁছাতে পারবো না। অনেকেই জানেন পর পর ছয় বার যুদ্ধে রবার্ট ব্রুস আর মাকড়সার গল্প কাহিনি।

রবার্ট ব্রুস একাধিকবার স্কটিশদের ঐক্যবদ্ধ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু বার বার তিনি পরাজিত হতে থাকেন।এক পর্যায়ে সবকিছু হারিয়ে একটি গুহার ভেতর আশ্রয় নিলেন তিনি। বানুকবার্নের যুদ্ধে ইংরেজ দের কে চুরান্ত ভাবে পরাজিত করতে সক্ষম হয় রবাট ব্রুস। এই যুদ্ধের আগে তিনি ছয় বার যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন কিন্তু তিনি হাল ছেড়ে দেননি।

গুহার মধ্যে একটি মাকড়সা তাকে অনুপ্রাণিত করে তোলে। তিনি দেখলেন গুহার ভিতরে একটা মাকড়সা প্রবল বাতাসের মুখে একশত বার চেষ্টা করার পর জাল বুনতে সক্ষম হলো। এই ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রুস আবার সৈন্যদের জড়ো করতে শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত এই বানুকবার্নের যুদ্ধে চুড়ান্তভাবে ইংরেজদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হন। একই সাথে শুরু হয় স্কটিশদের স্বাধীনতা সংগ্রাম।

আমাদের দেশে অনেক যুবক আজকাল নিজে নিজে কিছু করার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রীও সরকারি চাকুরির পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহবান করেছেন। যারা নতুন কিছু করার স্বপ্ন বুনেন, স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ান, তারা কখনো কখনো ব্যর্থ হন। ব্যর্থতার অন্যতম কারণ কাজের প্রতি ধৈর্য ধরে মননিবেশ করতে না পারা ।

এছাড়া অনেকে বড় কিছু দিয়ে শুরু করতে চায়। ছোট কিছু করতে বা ছোট আকারে কোন প্রজেক্ট বা ব্যবসা শুরু করতে লজ্জা বোধ করেন। অনেক অনেক টাকা ছাড়া কোন কিছু করা যায় না এই মনোভাব নিয়ে থাকলে তাদের পক্ষে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব। যারা সফল তাদের অনেকেই ছোট ব্যবসা দিয়ে আজ সফল। বার বার ব্যবসা দিয়ে ব্যর্থ হয়ে আমি নিজেও হতাশ।

হতাশ মনে বৃষ্টির মধ্যে নারিন্দা মোড় (ওয়ারি,ঢাকা) চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ চোখে পরল একটা পান- সিগারেটের দোকান। দেখে বেশ কিছুক্ষন চিন্তা সাগরে হারিয়ে গেলাম। দোকানটি ১২ স্কয়ার ফুটের কম । পাচ-ছয় ফুটের মত একটি সাটার,দোকানটির প্রসস্ত দুই ফুটের কম। আলাপ করতে ইচ্ছে হলো দোকানীর সাথে। এগিয়ে গেলাম। কথা শুরু করলাম। দোকানটির বয়স ৭০ বছর। দোকানটির বর্তমান মালিক মোঃ আাশরাফ। তার পিতা মরহুম সালাম ছিলেন এই দোকানের প্রথম মালিক। সালাম মিয়ার ছিল ৪ ছেলে এবং ৩ মেয়ে। এই দোকানের আয়ে স্ত্রী সহ ৭ সন্তানের ভরনপোষন চালিয়েছেন সালাম মিয়া । তিনি মারা যান ২০০৯ সালে। এরপর তার ছোট ছেলে মোঃ আশরাফ মিয়া পান- সিগারেটের ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলছেন। আশরাফ মিয়ার ১ ছেলে অপু এবং ১ মেয়ে নিয়ে পুরো পরিবার এই দোকানের আয় দিয়ে চলছেন। ছোট্ট এই দোকানটির নাম নুমাইশা পান বিতান, অবস্থান ৪৮ নারিন্দা রোড, ওয়ারি,ঢাকায় অবস্থিত।

মূলকথা হচ্ছে আমরা শুধু শুরু করার জন্য শুরু না করি, আসুন শুরু করি যেন শেষ দেখার জন্য। আমরা যারা হতাশ কিংবা পুজি হারিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনতে পারছিনা। স্বপ্ন ফেরি করাই যাদের মন মননে। যারা বিজয়ী হওয়ার কাজে ব্যর্থ হয়েছি। তারাও যেন অন্যকে পথ দেখানোর চেষ্টা অব্যহতি রাখি। আসুন চাকুরি না খোঁজে ছোট্ট একটা ব্যবসা শুরু করি এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগিয়ে যাই, সফলতা আসবেই।

লেখকঃ শাহ্ আলী মো. পিন্টু খান, সভাপতি -বন্দর প্রেসক্লাব





শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ