About Us
এসএম হাসান আলী বাচ্চু - (Satkhira)
প্রকাশ ১৮/০৬/২০২১ ০৯:২৬পি এম

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জেলায় আলুর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জেলায় আলুর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম Ad Banner

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলের চাষবাদেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। উৎপাদন খরচ কম ও লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন অঞ্চল তালা উপজেলায় ওলের আবাদ বৃদ্ধি হয়েছে।

ওলের বাম্পার ফলন এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।  উপজেলায় উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে বেলে বা বেলে দোআঁশ মাটিতে এই সাদা সোনা বা ওল চাষ করে তালা উপজেলার কৃষকরা এখন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

গত বছর তালা উপজেলায় ১১০ হেক্টরের কিছু বেশি জমিতে ওলের আবাদ হয়। এ বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ হেক্টর জমিতে, লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ১২০ হেক্টর ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা ব্যাক্ত করেছেন কৃষি অধিদপ্তর তালা। 

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাযায়,উপজেলার সদর,খলিলনগর,তালা সদর ইসলামকাটী চাষীরা এবার ওলের চাষ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে তালা সদর ও খলিলনগর ইউনিয়েন।

এ উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে লাভজনক ফসল হিসেবে ওলের চাষ হয়েছে। এখন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে চাষীরা জমিতে পরিচর্যা করছেন ও হাইব্রিড জাতের কিছু চাষিরা ওল উঠাতে শুরু করেছেন। 

সরেজমিনে গিয়ে ওইসব এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, ওল চাষ খুবই লাভজনক। ওল চাষ সাধারণত চৈত্রের ওলের চাকি লাগাতে হয়। প্রতি বিঘাতে ১০০০ থেকে ১১০০শ’ টি ওলের চাকি লাগে।

ওলের চাকি মাত্র ৪-৬ মাসের মধ্যেই ওল উঠানো যাই।  বিঘা প্রতি ওলের ফলন হয় ৮০-৯০ মণ। এক বিঘা জমিতে ওলের আবাদ করতে খরচ হয় মাত্র ৩০/ ৪০ হাজার টাকা। আর প্রতিমণ ওল বিক্রি হয় ১২০০ - ১৬০০ শ’ টাকা। ওল চাষে কেবল লাভ আর লাভ। কৃষকরা বলেন,ওল বিক্রি করতেও তেমন কষ্ট হয় না। বাজারে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইকাররা ওল কিনে নেই ।

তালা সদর ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক শাহাবুদ্দিন শেখ জানান, প্রতি বিঘাতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৮০ থেকে ৯০ মণ ওল পাওয়া যাই, যার বাজার মূল্য ৯০ থেকে ১০০,০০০ হাজার টাকা।

এতে বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে। তার মতে তিন, চার বিঘা জমিতে ওল চাষ করে ৪ -৬ মাসেই লাখপতি হওয়া সম্ভব। 

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে,বারুইহাটি, আগোলঝাড়া,ভায়ড়া,জাতপুরএবং খলিলনগর ইউনিয়নে দক্ষিণনলতা,মহান্দী,তেতুলিয়া ইউনিয়নে তেতুলিয়া ও শুকদেবপুর গ্রামে প্র্রচুর পরিমাণে ওল চাষ হয়েছে। 

খলিলনগর ইউনিয়নের মহান্দী গ্রামের কৃষক জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে এবার ওলের চাষ করেছে এই পর্যন্ত ৯০হাজার টাকা খরচ হয়েছে, বাজারদর স্বাভাবিক থাকলে তিনলক্ষাধিক টাকা মতো বিক্রি হবে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, তালা উপজেলায় গত বছর ১১০ হেক্টরের কিছু বেশি পরিমাণ জমিতে ওল চাষ হয়েছিলো এবং লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ১১৫ হেক্টর হয়েছিলো।

এ বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ হেক্টর জমিতে। আশা করা হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১২০ হেক্টর হবে তালা এলাকার ওলের চাহিদা অন্য জেলা ও বিভাগীয় শহরে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এখন হাইব্রিড জাতের ওল বাজারে উঠতে শুরু করবেন।

তালা উপজেলায় কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে,আমরা সর্বসময় কৃষকদের সেবা দিয়ে যাবো। আবহাওয়া উপযোগী থাকায় এই উপজেলায় ফসলের উৎপাদন খরচ খুব কম,পাশাপাশি রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় খুব কম,গত বছরের তুলনায় এবার ওলের আবাদ বেড়েছে। আশাকরি এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে ।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ