About Us
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
SATYAJIT DAS - (Habiganj)
প্রকাশ ১৬/০৬/২০২১ ১২:০৬এ এম

সনাতন ধর্মে নারীদের শ্রদ্ধা,সম্মান ও অধিকার

সনাতন ধর্মে নারীদের শ্রদ্ধা,সম্মান ও অধিকার Ad Banner

সনাতন ধর্মের পবিত্র বেদ গ্রন্থে ও মনুসংহিতায় নারীদের নিয়ে কি কি বলা হয়েছে—


❏ নারীদের শ্রদ্ধা ও সম্মানঃ —


যে সমাজে নারীদের যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হয় সেই সমাজ উত্তরোত্তর উন্নতি লাভ করে। আর যারা নারীদের যোগ্য সম্মান করে না, তারা যতই মহৎ কর্ম করুক না কেন, দুর্দশা আর ব্যর্থতার গ্লানি তাদের বয়ে বেড়াতে হয়”।


নারীদের হিন্দু শাস্ত্রে যে কতভাবে সন্মানিত করা হয়েছে.....

নারী হলো মঙ্গলময়ী লক্ষ্মী।।

(অথর্ববেদ, ৭/১/৬৪)


নারী হলো জ্ঞানের ধারক।।

(অথর্ববেদ, ৭/৪৭/২)


নারী শিক্ষা গ্রহণ শেষে পতিগৃহে যাবে।।

(অথর্ববেদ, ১১/৫/১৮)


নারীর যেন দুঃখ কষ্ট না হয়।।

(অথর্ববেদ, ১২/২/৩১)


নারীকে উপহার হিসেবে জ্ঞান উপহার দাও।।

(অথর্ববেদ, ১৪/১/৬)


গর্ভজাত সন্তান ছেলে হোক আর মেয়েই হোক তাকে সমান যত্ন করতে হবে।। (অথর্ববেদ, ২/৩/২৩)


“যে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট রাখে না, সে তার সমগ্র পরিবারের জন্য দুর্দশা বয়ে আনে। আর যদি স্ত্রী পরিবারের প্রতি সুখী থাকেন, তবে সমগ্র পরিবার শোভাময় হয়ে থাকে”। (মনুসংহিতা, ৩/৬২)


“স্ত্রী লোকেরা সন্তানাদি প্রসব ও পালন করে থাকে। তারা নতুন প্রজন্ম বা উত্তরসুরির জন্ম দেয়। তারা গৃহের দীপ্তি বা প্রকাশস্বরূপ হয়। তারা সৌভাগ্য ও আশীর্বাদ বয়ে আনে। তারাই গৃহের শ্রী”। (মনুসংহিতা, ৯/২৬)


“প্রজন্ম থেকে প্রজন্মোন্তরে স্ত্রীরাই সকল সুখের মূল। কারণ, সন্তান উত্পাদন, ধর্ম পালন, পরিবারের পরিচর্যা, দাম্পত্য শান্তি এসব কাজ নারীদের দ্বারাই নিষ্পন্ন হয়”। (মনুসংহিতা, ৯/২৮)


“নারী ও পুরুষ একে ভিন্ন অপরে অসম্পূর্ণ। এজন্য বেদে বলা হয়েছে ধর্মকর্ম পত্নীর সাথে মিলিতভাবে কর্তব্য”। (মনুসংহিতা, ৯/৯৬)


“জ্ঞানী ব্যক্তিগণ কখনো মাতা-পিতা, ভগিনী, পুত্রবধূ, পুত্র, স্ত্রী, কন্যা ও ভৃত্যবর্গ –এদের সাথে বিবাদ করবেন না। (মনুসংহিতা, ৪/১৮০)


“যে পিতা কন্যাকে বিবাহযোগ্য সময়ে কন্যাকে পাত্রস্থ না করেন, যে স্বামী স্ত্রীর ন্যায্য দাবী পূরণ না করেন এবং যে সন্তান তার বিধবা মাতার রক্ষণাবেক্ষণ করেন না, তারা সকলেই নিন্দার পাত্র হন”। (মনুসংহিতা, ৯/৪)


❏ ঋতুস্রাব ঋতুকালীন সময়ে মৈথুন নিষিদ্ধঃ —


সমানশয়নে চৈব ন শ্যীত তয়া সহ।

রজসাভিপ্লু তেজো বলঃ চক্ষুরায়ুশ্চৈব প্রহীয়তে।।

(মনুসংহিতা, ৪/৪০)


অনুবাদঃ— কামে একান্ত উন্মত্ত হইলেও রজদর্শনে নিষিদ্ধ দিনত্রয়ে স্ত্রীগমন করিবে না, এবং তাহার সহিত সহবাস করিবে না।


❏ বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধঃ —


"একজন অবিবাহিত কুমারী বিদুষী (শিক্ষিতা) কন্যাকে তার(কন্যার) পছন্দের পাত্রের সাথেই বিয়ে দেয়া উচিত। কন্যাকে অল্প বয়সে বিয়ে দেয়ার কথা চিন্তাও করা উচিত নয়।" (ঋগ্বেদ, ৩/৫৫/১৬)


অনেকে মনে একটা প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে হিন্দু মেয়েরা কি তাদের পছন্দ অনুসারে অন্য ধর্মের ছেলেদের বিবাহ করতে পারবে?


আসুন দেখি পবিত্র বেদ কি বলে—


সমগ্র বিশ্ববাসীকে আর্য্য ধর্মে দীক্ষিত করণ!


"হে মনুষ্যগণ (আর্য্যগণ) তোমরা ঈশ্বরের মহিমাকে বর্দ্ধিত কর। স্বত্ত্বাপহারী অনার্যগণকে সমুচিত শিক্ষা দাও এবং সমগ্র বিশ্ববাসীকে আর্য্যধর্মে দীক্ষিত করিতে থাক।" (ঋগ্বেদ, ৯/৬৩/৫)


❏ বহুবিবাহ পাপঃ — নিষিদ্ধের এর চেয়ে স্পষ্ট নিদর্শন আর কি থাকতে পারে!


“পতি ও পত্নী মৃত্যু পর্যন্ত একসাথে থাকবেন। তারা অন্য কোন জীবনসঙ্গী গ্রহণ করবেন না বা ব্যাভিচার করবেন না। এই হলো নারী-পুরুষের পরম ধর্ম”।

(মনুসংহিতা, ৯/১০১)


তাই যে সব সমাজ বহুবিবাহ অথবা যৌন-দাসত্ব ও সাময়িক বিবাহের মতো জঘণ্য আচারকে অনুমোদন করে তারা ধর্মসূত্র লঙ্ঘনের দায়ে দুর্দশা ভোগ করতে বাধ্য।


(ঋগ্বেদ, ১০/১০৫/৮) বলেছে যে একাধিক স্ত্রীর অস্তিত্ব মানেই জাগতিক সকল দুঃখের আনায়ন।


(ঋগ্বেদ, ১০/১০১/১১) বলেছে দুই স্ত্রীযুক্ত ব্যক্তিকে সেভাবেই কাঁদতে হয় ঠিক যেভাবে চলমান রথের ঘোড়া উভয় দিক থেকে চাবুক এর আঘাতে হ্রেষা রব করে!


(ঋগ্বেদ, ১০/১০১/১১) এও বলেছে যে একাধিক স্ত্রী জীবনকে লক্ষহীন করে তোলে।


(অথর্ববেদ, ৩/১৮/২) বলেছে একজন নারীর কখনো যেন কোন সতীন (Co-wife) যেন না থাকে।


❏ স্ত্রীলোকের স্বাতন্ত্র্যঃ —


“নারীদের টাকা- পয়সা ঠিকমত হিসাব করে জমা রাখা এবং খরচ করা, গৃহ ও গৃহস্থালী শুদ্ধ রাখা, ধর্ম-কর্ম সমূহের আয়োজন করা, অন্ন প্রস্তুত করা ও শয্যাসনাদির তত্ত্বাবধান করা –এসব কাজে স্ত্রীলোকদের স্বাতন্ত্র্য ও নেতৃত্ব দানে স্বাধীনতা প্রদান করবে। (মনুসংহিতা, ৯/১১)


“যে স্ত্রী দুঃশীলতা হেতু নিজে আত্মরক্ষায় যত্নবতী না হয়, তাকে পুরুষগণ ঘরে আটকে রাখলেও সে ‘অরক্ষিতা’ থাকে। কিন্তু যারা সর্বদা আপনা-আপনি আত্মরক্ষায় তত্পর, তাদের কেউ রক্ষা না করলেও তারা ‘সুরক্ষিতা’ হয়ে থাকে। তাই স্ত্রীলোকদের আটকে রাখা নিষ্ফল। স্ত্রীজাতির নিরাপত্তা প্রধানত তাদের নিজস্ব সামর্থ্য ও মনোভাবের উপর নির্ভরশীল”। (মনুসংহিতা, ৯/১২)


❏ নারীর নিরাপত্তা বিধানঃ —


“স্ত্রীলোককে রক্ষণরূপ ধর্ম সকল বর্ণের পক্ষে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, অর্থাত্ শ্রেষ্ঠ কর্তব্য। তাই অন্ধ, পঙ্গু ও দুর্বল স্বামীরাও নিজ নিজ স্ত্রীকে যত্নপূর্বক রক্ষা করবে”।

(মনুসংহিতা, ৯/৬)


“স্ত্রীলোক কখনো পিতা, স্বামী বা পুত্রের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। কারণ তা পিতৃকুল ও পতিকুল উভয়কুলকেই কলঙ্কিত করে তোলে”।

(মনুসংহিতা, ৫/১৪৯)


❏ নারীদের সম্পত্তিতে অধিকারঃ —


পিতার সম্পত্তিতে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে।। (ঋগ্বেদ, ৩/৩১/১)


“কন্যা পুত্রের সমান। তার উপস্থিতিতে কেউ তার সম্পত্তিতে অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারেন না”। (মনুসংহিতা, ৯/১৩০)


“মাতার যা স্ত্রীধন থাকবে, তা কুমারী কন্যারই থাকবে”। (মনুসংহিতা, ৯/১৩১)


“যদি কোন নারীকে সুরক্ষা দেবার জন্য পুত্র বা কোন পুরুষ পরিবারে না থাকে, অথবা যদি সে বিধবা হয়ে থাকে, যে অসুস্থ অথবা যার স্বামী বিদেশে গেছে, তাহলে রাজা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। যদি তার সম্পত্তি তার কোন বন্ধু বা আত্মীয় হরণ করে, তাহলে রাজা দোষীদের কঠোর শাস্তি দেবেন এবং সম্পত্তি ঐ নারীকে ফেরত দেবেন”। (মনুসংহিতা, ৮/২৮-২৯)


“যদি কেউ কোন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া মা, বাবা, স্ত্রী বা সন্তান ত্যাগ করে, তাকে কঠিন দণ্ড দিতে হবে”। (মনুসংহিতা, ৮/৩৮৯)


❏ সনাতন ধর্মে যৌতুক প্রথা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধঃ —


যৌতুক প্রথা নিয়ে রচনা লিখ কিংবা টীকা প্রথমেই লিখা উঠবে হিন্দুসমাজ বা ধর্ম হতে উৎপত্তি। এরপর সতীদাহ প্রথা। এটা হিন্দু সমাজের হিন্দু ধর্মের নাকি ঘৃণ্য আচার। বিধবাদের জন্য কোন সম্মান নেই। নেই দ্বিতীবার বাচার অধিকার!


আসুন এবার দেখি সনাতন #ধর্মগ্রন্থে কি আছে?


বৈদিক নিয়মে পণ/যৌতুক দান বিবাহকে "অসুরী বিবাহ" বলে।


আসুন দেখি পবিত্র বেদ কি বলে—


(অথর্ববেদ, ১৪/১/৬) এ বলা হয়েছে—

"মেয়েকে বিয়ের সময়ে অর্থসম্পত্তির যৌতুক দিওনা, তাকেজ্ঞান সম্পদের যৌতুক দান কর (সুশিক্ষিত করে বিয়ে দাও)।"


অনুবাদঃ— একমাত্র বৈদিক শাস্ত্রই নারীদেরকে পুরুষের সমান আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বিবাহের সময় কন্যার পিতা বরপক্ষকে নয় বরং বরপক্ষই সম্মানপূর্ব কন্যাকে ধন দ্বারা আদৃত করবেন।


"যাসাং নাদদতে শুলকং জ্ঞাতয়ো ন স বিক্রয়ঃ।

অর্হণং তত্ কুমারীণামানৃশংস্যঞ্চ কেবলম্।।

(মনুসংহিতা, ৩/৫৪)


অনুবাদঃ— কন্যার পিতা প্রভৃতি আত্মীয়সজন যেখানে কন্যাকে বরপক্ষপ্রদত্ত ধন গ্রহন করে না,সেখানে অপত্ত ত্যগ হয় না। কন্যাকে সম্মানপ্রদানপূর্বক বরপক্ষকে কন্যার পিতার নিকট এই ধন প্রদান করতে হয়।


"পিতৃভির্ভ্রাতৃভিশ্চৈতাঃ পতিভির্দেবরৈস্ত থা।

পূজ্যা ভূষয়িতব্যশ্চ বহুকল্যাণমীপ্সু ভিঃ।।


অনুবাদঃ- তবে বিবাহকালে বরই শুধু কন্যাপক্ষকে কন্যার প্রতি সম্মানপূর্বক ধন দেবেন এমন নয়।বিবাহোত্তর কালে কন্যার পিতা, ভ্রাতা ইত্যাদি যদি কন্যার সুখের জন্য কিছু দান করতে অভিলাষী হন, সেক্ষেত্রে বর কনেকে নিমন্ত্রনপূর্বক ভোজনাদি বা কন্যাকে বস্ত্রালঙ্কারাদি দ্বারা ভূষিত করবে।

(মনুসংহিতা, ৩/৫৫)


❏ বিধবা বিবাহ —


ইয়ং নারী পতি লোকং বৃণানা নিপদ্যত উপত্ব্য মর্ন্ত্য প্রেতম্।

ধর্মং পুরাণমনু পালয়ন্তী তস্ম্যৈ প্রজাং দ্রবিণং চেহ ধেহি।।

(অথর্ব্ববেদ, ১৮/৩/১)


বঙ্গানুবাদঃ- হে মনুষ্য! এই স্ত্রী পুনর্বিবাহের আকাঙ্ক্ষা করিয়া মৃত পতির পরে তোমার নিকট আসিয়াছে। সে সনাতন ধর্ম্মের পালয়িএী। তাহার জন্য ইহলোক সন্তান ও ধন দান কর।


উদীষর্ব নার্ষ্যভি জীবলোকং গতাসুমেতহমুপশেষ এহি।

হস্তাগ্যাভস্য দিধিষোস্তবেদং পত্যুর্জনিত্বমভি সংবভূব।।

(অথর্ব্ববেদ, ১৮/৩/২)


বঙ্গানুবাদঃ- হে নারী! তুমি এই মৃত পতির পার্শ্বে কেন শয়ন করিয়া আছ। ওখান হইতে উঠিয়া জীবিত মানুষ্যদের নিকটে এখানে এস। তোমার পাণি গ্রহণকারী পতির সঙ্গে সেই পত্নীত্ব টুকুই জন্মিল।


❏ সনাতন ধর্মে সতীদাহ প্রথাঃ —


এই সতীদাহ প্রথা নিতান্তই সনাতন সমাজ থেকে উৎপত্তি বললে হাসিঁ পায়। কারণটা লক্ষ করুন রামায়ণ ও মহাভারতে–


দশরথ পত্নী কৌশল্যা, কৈকেয়ী, সুমিত্রাপ

পান্ডু পত্নী কুন্তী

শান্তনু পত্নী সত্যবতী

বিচিত্রবীর্য পত্নী অম্বিকা অম্বালিকা

কৌরব একশত কূলবধূ

কৌরব রাজকন্যা দুঃশলা


লক্ষ্য করুন এদের কেউই সতীদাহ প্রথার শিকার তো হয়নি। যেখানে সত্য ত্রেতা দ্বাপর এই এমন ঘৃণ্য আচার হয়নি সেখানে কলি যুগ এর প্রারম্ভে এসেই এমন অশাস্ত্রীয় আচার।


কিছু দালাল এসে মধ্যযুগীয় অত্যাচার এমন ভাবে মিলিত হয়েছে যে, সনাতন ধর্মের মত পবিত্র ধারা'কে কলুষিত করার জন্য ইচ্ছা মত সাজিয়েছে। আর শাস্ত্র গুলিকে বগলে চেপে রেখেছিল তাই বলা যায় এই সতীদাহ প্রথা মোটেও শাস্ত্রীয় নয়।


এরপর ও যদি কেউ যৌতুক প্রথা, সতীদাহ প্রথা নিয়ে কিছু বলে সজোরে থাপ্পড় লাগিয়ে দিবেন। আর বিধবা বিবাহের কোন কথা বললে রেফারেন্স সহ যুক্তি দিয়ে দেখিয়ে দিবেন। কেউ যদি বলে সনাতন ধর্মে নারীর অবস্থান নিচে কিংবা সম্মান নেই। রেফারেন্স সহ তুলে ধরবেন এবং প্রতিবাদ করবেন।


সনাতন ধর্মে কি বলা আছে—


যথেমাং বাচং কল্যাণীমাবদানি জনেভ্যঃ

ব্রহ্মরাজন্যাভ্যাং শূদ্রায় চার্য্যায় চ স্বায় চারণায়।

প্রিয়ো দেবানাং দক্ষিণায়ৈ দাতুরিহ, ভূয়াসময়ং মে কামঃ সমৃধ্যতামুপ মাদো নমতু।।

(যজুর্বেদ, ২৬/২)


বঙ্গানুবাদঃ— হে মনুষ্যগন আমি যেরূপে ব্রাক্ষণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র, স্ত্রীলোক এবং অন্যান্য সকল জনগনকে এই কল্যানদায়িনী পবিত্র বেদবানী বলিতেছি, তোমরাও সেই রূপ কর। যেমন বেদবানীর উপদেশ করিয়া আমি বিদ্বানদের প্রিয় হয়েছি, তোমরাও সেইরুপ হও। আমার ইচ্ছা বেদবিদ্যা প্রচার হোক। এর দ্বারা সকলে মোক্ষ এবং সুখ লাভ করুক।


                       ধর্ম এব হতো হন্তি।

                       ধর্ম রক্ষতি রক্ষিত।।


❏ নারীদের ক্ষতিকারীদের কঠোর শাস্তিঃ —


“নারী অপহরণকারীদের মৃত্যুদণ্ড হবে”।

(মনুসংহিতা, ৮/৩২৩)


“যারা নারী, শিশু ও গুণবান পণ্ডিতদের হত্যা করে, তাদের কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে”।

(মনুসংহিতা, ৯/২৩২)


“যারা নারীদের ধর্ষণ করে বা উত্যক্ত করে বা তাদের ব্যাভিচারে প্ররোচিত করে তাদের এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে তা অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে এবং কেউ তা করতে আর সাহস না পায়”। (মনুসংহিতা, ৮/৩৫২)


“যদি কেউ মা, স্ত্রী বা কন্যার নামে মিথ্যা দোষারোপ করে তবে তাকে শাস্তি দিতে হবে”।

(মনুসংহিতা, ৮/২৭৫)


“যদি কেউ কোন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া মা, বাবা, স্ত্রী বা সন্তান ত্যাগ করে, তাকে কঠিন দণ্ড দিতে হবে”। (মনুসংহিতা, ৮/৩৮৯)


“কন্যার আত্মীয়রা যদি কন্যার স্ত্রীধন (সম্পত্তি, ধনাদি, স্ত্রীযান বা বস্ত্রাদি) অপহরন করে তবে তারা অধোগতি প্রাপ্ত হয়। (মনুসংহিতা, ৩/৫২)


❏ নারীর অগ্রাধিকারঃ —


“বাহনে বা যানে আরোহী ব্যক্তির পক্ষে বয়স্ক ব্যক্তি, ক্লান্ত ব্যক্তি, ভারবাহী ব্যক্তি, বর, রাজা, স্নাতক এবং স্ত্রীলোকদের পথ ছেড়ে দেয়া কর্তব্য”।

(মনুসংহিতা, ২/১৩৮)


ঋগ্বেদ এর তিনটি মন্ত্র যথাক্রমে (ঋগ্বেদ, ১/২৪/৭), (ঋগ্বেদ, ৪/৩/২) ও (ঋগ্বেদ, ১০/৭১/৪) এ বলা হয়েছে।


"যায়েব পত্য উষতে সুভাসহ।


অর্থাত্‍ যেভাবে জ্ঞানীগন জ্ঞানপ্রাপ্ত হন ঠিক সেভাবে একক পতি-পত্নীযুক্ত সংসার আনন্দ ও সুখ লাভ করে।


(ঋগ্বেদ, ১০/৮৫/২৩) এ বলা হয়েছে—

স্বামী ও স্ত্রীর সবসময় উচিত পুনরায় বিয়ে না করার ব্যপারে সংযমী হওয়া।


(অথর্ববেদ, ৭/৩৮/৪) বলেছে—

"স্বামীর উচিত শুধু একমাত্র স্ত্রীর প্রতি অনুরক্ত থাকা।দ্বিতীয় কোন নারীর প্রতি অনুরাগ তো দুরে থাক, অন্যকোন নারী সম্বন্ধে তার আলোচনাও করা উচিত নয়।"

আসুন,নারীদের সম্মান করি,নারীদের অধিকার আদায়ে তাদের সহযোগী হই। সকলের প্রচেষ্টায়ই পারে এ সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে। 



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ