About Us
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Minhajulhaque chowdhury - (Dhaka)
প্রকাশ ১৫/০৬/২০২১ ০৮:২৩পি এম

রোজনামচার পরিচয় ও প্রয়োজনীয়তা

রোজনামচার পরিচয় ও প্রয়োজনীয়তা Ad Banner

রোজনামচার পরিচয় ও প্রয়োজনীয়তা


যারা লেখক হতে চায়,অথবা যারা নিজের মনেরভাবটুকু ভালোভাবে প্রকাশ করতে চায় তাদের জন্য রোজনামচার অতীব প্রয়োজনীয় এক বিষয়। আমরা আজকের লেখা থেকে এ বিষয়টি জানার প্রয়াস পাব, রোজনামচার পরিচয় ও প্রয়োজনীয়তা ।

রোজনামচার পরিচয়

রোজনামচার প্রতিশব্দ হতে পারে দিনলিপি। অর্থাৎ প্রাত্যহিক জীবনে আমি-আপনি যে কাজ বা চিন্তা করি তাই লেখার নাম হল রোজনামচা। আমরা দৈনন্দিন অনেক কাজ করি, এ কাজ করতে গিয়ে তৈরি হয় আমাদের নানা অভিজ্ঞতা। কোন কাজটি কিভাবে করা হল, জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়ন বা বিকশিত করার জন্য আপনি যে পরিকল্পনা গ্রহন করেন তাই হতে পারে আপনার রোজনামচার অংশ।

যেমন ঃ আজ আমি সকালে উঠেছি, রাত্রের ঘুমের অভাবে সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে পারি নি , ৮ টার দিকে টেবিলে মা নাস্তা দিলেন, নাস্তা সেরে রওয়ানা হলাম কোচিং সেন্টারের দিকে,এভাবে আপনি আপনার কাজের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করতে পারেন,অথবা কোন পরিকল্পনা উল্লেখ করতে পারেন,অথবা রাস্তায় বের হয়েছেন,কোন দৃশ্য দেখে আপনার মাঝে এক অনন্য অনূভূতি সৃষ্টি হয়েছে,তাই হতে পারে আপনার রোজনামচার অংশ ।


রোজনামচা লিখার উপকারিতা

আমি আপনাকে যে উপকারিতার কথা বলব, তা একান্ত আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলা,আপনি যদি রোজনামচার একজন প্রেমিক হন,তাহলে আপনিও পেতে পারেন এর চেয়ে ভিন্ন কোন উপকারিতা।

১। রোজনামচা আপনার অতীতকে সংরক্ষন রাখার একটি অন্যতম মাধ্যম । অতীতকে জ্ঞানীরা সংরক্ষণ করে রাখে। কেননা অতীত ভবিষ্যতের কাজগুলোকে সংশোধন ও নির্ভুল করার প্রেরণা দেয়। অতীতের পরিনীতির ভয়ে মানুষ ঐ পথে আগের অভিজ্ঞতাকে পুনরাবৃত্তি করতে চায় না। পক্ষান্তরে মানুষ অতীতের সফলতাগুলোকে আমলে নেয়। সেটার উপর পর্যবেক্ষন করে কাজকে আর প্রটেক্টিভ বা নিরাপদ করে তোলে। আর সুচারু ও নির্ভুলভাবে কাজকে আঞ্জাম দেয় । অতীতের সফলতাই আরেক সফলতার জন্ম দেয়। তাই আপনি যদি নিয়মিত রোজনামচা লিখে যান তাহলে আপনার অতীত হারিয়ে যাবে না, তা সংরক্ষিত থাকবে ডায়েরির পাতায়। আপনার এ রোজনামচার আপনার প্রিয়জনদের উপকার বয়ে আনবে,তারা আপনার অর্জনগুলো থেকে উতসাহ পাবে । আপনার জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহন করবে । আপনাকে কৃতজ্ঞতার সহিত স্মরণ করবে । এছাড়া আমি আপনি যখন শৈশব,কৈশোরের বন্ধুদের সাথে দীর্ঘদিন পর মিলিত হই তখন অতীতের স্মৃতি নিয়ে আলোচনা করি, হাসি বা কাঁদি, এ দিনগুলোকে বর্তমানের সাথে মিলিয়ে দেখি, হায়! মানুষের মাঝে কত পরিবর্তন। কালকের বিতাড়িত জায়েদ আজ সবার মুখে মুখে,সবাই যেন তাকে কাছে পেতে চায়,তার শরনাপন্ন হতে চায়,এভাবে আপনার রোজনামচার ডায়েরিটি আপনার বন্ধুর স্থলাভিষিক্ত  হবে । আপনাকে আনন্দিত করবে। নিজ জীবনের এ সংরক্ষণ সত্যিই আপনাকে অনেক আত্ববিশ্বাসী ও আনন্দিত করে তুলবে। এর জন্য আপনার কোনদিনও আফসোস হবে না। এটা আপনার জন্য একটি লাভজনক মাধ্যম ।


২। আপনি কি সাহিত্য চর্চা করতে চান! আপনার লিখার বানানগুলো নির্ভুল করতে চান! তাহলে এ রোজনামচা আপনার এ ইচ্ছাকে পূরণ করবে ইনশাআল্লাহ্। আপনি নিয়মিত রোজনামচা লিখে যান, দেখবেন আপনার মাঝে সাহিত্যের একটা ভাব চলে আসবে,আপনি বানানের ভুলগুলো বুঝতে পারবেন, এই মনমানসিকতাই আপনাকে আরো আগে বাড়িয়ে দিবে। আপনার লিখার মান দিনদিন বাড়তে থাকবে। আপনার মাঝে প্রত্যহ সৃজনশীলতার একটি পরিবর্তন দেখা যাবে। আপনার অজান্তেই আপনি হয়ে উঠবেন একজন সফল লেখক। যে কোন বিষয়ে আপনি প্রবন্ধ লিখার প্রাথমিক বিশয়গুলো রোজনামচাই তৈরি করে দিবে।


৩। রোজনামচা আপনার জীবনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাবে। আপনাকে প্রত্যহ সফল হওয়ার প্রেরণা দিবে। নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করে দিবে। আপনার জীবনের চিন্তাশক্তিকে আর শক্তিশালী করে তুলবে। 


তাই আপনি অলসতা না করে আজ থেকেই বসে পড়ুন রোজনামচা লিখতে। প্রতিদিন একটি সময় বের করুন রোজনামচার জন্য, সেটা হতে পারে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে। আর রোজনামচার জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন একটি ডায়েরি কিংবা আপনার স্মার্টফোন,ল্যপটপ ইত্যাদি। আপনার ফেসবুকের পোষ্টগুলোই হতে পারে একেকটি রোজনামচা। তাই আজ থেকেই এ যোগ্যতা অর্জনের এ মাধ্যমকে মূল্যায়ন করুন ।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ