About Us
Abdullah-al-Jaber - (Bagerhat)
প্রকাশ ১১/০৬/২০২১ ০৭:৩২পি এম

বাগেরহাটে অক্সিজেনের সংকট নেই, আইসিইউ চালু হয়নি

বাগেরহাটে অক্সিজেনের সংকট নেই, আইসিইউ চালু হয়নি Ad Banner

 বাগেরহাটের রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ৫০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে আরও ৫০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের জন্য কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থায় চালু হয়েছে মঙ্গলবার। তবে ভেন্টিলেটর ও চিকিৎসক না থাকায় এ জেলায় আইসিইউ সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি।   

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৭ হাজার ১৯০ লিটার তরল অক্সিজেন দেওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থায় তা যুক্ত করা হয়।

প্রায় ১ বছর পর অক্সিজেন প্ল্যান্টটি চালু হওয়ায় এখন হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চ চাপে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া যাবে। তবে প্রয়োজনে পুরো হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড করে ফেলতে কোনো প্রস্তুতি এখনো নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বা দিকনির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।   

এ বিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এর আগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা হাসপাতালকে সবুজ, হলুদ ও লাল জোনে ভাগ করেছি। প্রয়োজনে নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সে ধরনের উদ্যোগ নেব।আমাদের বর্তমানে ছয়টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা আছে। তবে ব্যবহার করার মতো ভেন্টিলেটর নেই। প্রশিক্ষিত জনবল না থাকায় ৩টি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) শয্যা থাকলেও আইসিইউ চালু করা যাচ্ছে না। এ জন্য আমরা ১০ জন চিকিৎসক ও ১৫ জন নার্সকে পর্যায়ক্রমে ছয় মাসের প্রশিক্ষণে পাঠাব।’   

সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন কবির আরও বলেন, বাগেরহাট সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যার হলেও জনবলকাঠামো এখনো ৫০ শয্যার হাসপাতালের। তার ওপর করোনার জন্য আলাদা ৫০ শয্যা। মোট ১৫০ শয্যার বিপরীতে যে জনবল, তাতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ শূন্য আছে। তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে সবার সহযোগিতা এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’   

জেলার করোনা পরিস্থিতি বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯টি নমুনা পরীক্ষায় আরও ৫৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৩৮ শতাংশ। যা গত ২৪ ঘণ্টার তুলনায় ৭ শতাংশ কম।

জেলার সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মোংলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ৫৩ শতাংশ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলার ফকিরহাট উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এক দিনে সেখানে নতুন রোগী ১৪ জন। সংক্রমণের হার ৪৮ শতাংশ। তবে আজ জেলায় করোনা কারও মৃত্যু হয়নি।   

জেলার মধ্যে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মোংলা উপজেলায় ৩০ মে থেকে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধ ঢিলেঢালাভাবে চলছে। প্রশাসনের তৎপরতার মধ্যেও স্থানীয়রা লুকোচুরি করে চলাফেরা করছে। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।   

বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ও করোনাভাইরাসের তথ্য কর্মকর্তা সুব্রত দাস সকালে বলেন, মোংলাতে সংক্রমণের হার ৫০-৭০ শতাংশে ওঠানামা করছে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালে স্থাপিত সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টে যে পরিমাণ অক্সিজেন মজুত আছে, তা দিয়ে রোগীদের প্রায় তিন মাস অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে।   

আইসিইউ চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আইসিইউ চালু করার মতো প্রশিক্ষিত জনবল আমাদের নেই। আমরা ১০ জন চিকিৎসক ও ১৫ জন নার্সকে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণে পাঠাব। তাঁদের অন্তত ছয় মাসের প্রশিক্ষণ লাগবে। হাসপাতালের নতুন ভবন ছয়-সাততলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করে ১০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য জুলাই মাসে গণপূর্ত বিভাগ দরপত্র আহ্বান করবে। এই কাজ শেষ হলে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ চালু হবে।’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ