About Us
সত্যজিৎ দাস - (Habiganj)
প্রকাশ ১১/০৬/২০২১ ১২:২৬এ এম

মহাকালের স্বাক্ষী ঊনকোটি পাহাড়

মহাকালের স্বাক্ষী ঊনকোটি পাহাড় Ad Banner

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ঊনকোটি পাহাড়টি তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। এটি পাথরে তৈরি বৃহৎ আকৃতির দেবদেবীর জন্য বিখ্যাত। ভারতের সেভেন সিস্টারের অন্যতম ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাসহর লাগোয়া এই পাহারের নামেই জেলাটির নাম হয় ঊনকোটি। ঊনকোটি অর্থ এক কোটি থেকে এক কম। ভারতের আইজল সার্কেলের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের মতে, এখানে পৌরাণিক দেবদেবীদের মধ্যে শিব, গৌরী, পার্বতী, গঙ্গা, গনেশ, বিষ্ণু, নৃ:সিংহ, হরহরি, হিরিম্বা, হনুমান এবং গজমুখী মূর্তি রয়েছে।


হিন্দু পুরানের এই নামকরণের কাহিনীতে কথিত আছে যে কালু কামার নামে একজন স্থাপত্যকার ছিলেন, সেই সাথে দেবী পার্বতীর ভক্ত ছিলেন। একবার দেবী-মহাদেবের সাথে কৈলাসে যাচ্ছিলেন তখন কালু কামার বায়না ধরলেন তাকে যেন তাদের সঙ্গে নেন। তখন মহাদেব উনার উপর শর্ত আরোপ করে বলেন উনি যেতে পারেন তবে তার জন্য তাকে এক রাত্রির মধ্যে এককোটি দেবদেবীর মূর্তি তৈরী করে দিতে হবে। কিন্তু কালু কামার এককোটি থেকে একটি কম মানে ঊনকোটি টি মূর্তি তৈরী করে দিতে সক্ষম হন।


ঊনকোটির মুর্তিগুলি নিয়ে একাধিক কাহিনি প্রচলিত আছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আর একটি কাহিনি আছে, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র হল মহাদেব। দেবাদিদেব শিব একবার দেবতাদের নিয়ে ত্রিপুরার উপর দিয়ে বারানসী যাচ্ছিলেন। মহাদেবকে নিয়ে দেবতাদের সংখ্যা ছিল এক কোটি। সন্ধ্যে নামার পর রাত্রিবাসের ব্যবস্থা হয় এই রঘুনন্দন পাহাড়ে। পথপরিশ্রমে ক্লান্ত দেবতারা গভীর নিদ্রায় অচেতন হলেন। পরেরদিন সূর্যোদয় হওয়ার আগে সবার বারানসীর উদ্দেশে যাত্রা করার কথা, কিন্তু মহাদেব ছাড়া অন্য কোনো দেবতাদের নিদ্রাভঙ্গ হল না। মহাদেব বিরক্ত হয়ে একাই বারানসীর উদ্দেশে রওনা দিলেন। গভীর নিদ্রায় সমাধিস্থ দেবতাদের কালনিদ্রা আর ভাঙ্গল না এবং তারা অনন্তকালের জন্য পাথর হয়ে রইলেন। এই দেবতাদের সংখ্যা ছিল এক কম কোটি তাই ঊনকোটি। সেই থেকেই এই রঘুনন্দন পাহাড় হয়ে গেল শৈবতীর্থ ঊনকোটি।


পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা মূর্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জটাধারী শিব এবং ৩০ ফুট উঁচু কালভৈরবের মূর্তি। এছাড়া গণেশ, দুর্গা, বিষ্ণু, রাম, রাবণ, হনুমান এবং শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি। ঊনকোটির একটি প্রধান দ্রষ্টব্য হল গণেশকুন্ড। কুন্ড সংলগ্ন পাথরের দেওয়ালে দক্ষ হাতে খোদাই করা আছে তিনটি গণেশ মূর্তি। এদের ডান পাশে রয়েছে চতুর্ভুজ বিষ্ণু মূর্তি। ঐতিহাসিকদের মতে, ঊনকোটির অভিনব ভাস্কর্য তৈরী হয়েছিল অষ্টম বা নবম শতাব্দীতে।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া।                                                    ✍️ সেলিম আহমেদ ✍️ বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Tanmoyhasan - (Gazipur)
প্রকাশ ০৭/০৬/২০২১ ০৮:২৭পি এম