About Us
Saif - (Dhaka)
প্রকাশ ০৯/০৬/২০২১ ০৮:২৬পি এম

সুন্দরী বউ ঘরে রেখে ছেলেরা কেন চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়

সুন্দরী বউ ঘরে রেখে ছেলেরা কেন চায়ের দোকানে আড্ডা দেয় Ad Banner

ঘরে সুন্দরী বউ রেখে টোং দোকানে বা রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দেখা যায় অনেক বিবাহিত পুরুষকে। কিন্তু কেন? 

আজকের লেখার আমরা এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করব। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অভিমান বা মনোমালিন্য খুবই স্বাভাবিক। সংসার জীবনে এমনটি হয়নি বলে দাবি করা দম্পতি প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই মিথ্যা বলেছে বলে বিবেচনা করতে পারেন। মূলত এই মনোমালিন্য থেকেই পুরুষরা ঘরের বাইরে যায়। অনেক সময় মনোমালিন্য যেন আরো বেড়ে না যায় সেই জন্য ঘরের বাইরে অবস্থান করে থাকে।

কিন্তু কেন এই মনোমালিন্য? স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তো টাকা পয়সা বা জায়গাজমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকে না সাধারণত। আর মনোমালিন্য হলে কেনই বা ঘরের বাইরে যেতে হবে? চলুন মনোমালিন্যের কারণ খুঁজতে আরো একটু গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের বিচরণ ক্ষেত্র বেশি। বাহির জগৎে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের ওঠাবসা বেশি হয়ে থাকে। হাট-বাজার, অফিস-আদালত, মাঠে-ঘাটে, স্থলে-বন্দরে ছেলেদের বিচরণ মেয়েদের ‍তুলনায় অনেকাংশে বেশি। সঙ্গত কারণেই ছেলেরা বিভিন্ন প্রকার মানুষের সাথে মেশার সুযোগ পেয়ে থাকে। আবার প্রতিদিনই নতুন নতুন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয় পুরুষকে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় লক্ষণীয়, বিয়ের সময় ছেলের চেয়ে মেয়ের লেখাপড়া বা চাকরী যদি বড় বা বেশি হয় তাহলে সেখানে বিয়ে হয় না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটাকে ছেলেরা নিজের জন্য অসম্মান মনে করে। তাই প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় স্বামীর চেয়ে স্ত্রী প্রায় সব দিক থেকে দুর্বল থাকে।

অধিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করার কারণে পুরুষদের পরমত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আরো বৃদ্ধি পায় মানুষের সাথে মেশার ক্ষমতা, সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষমতা, বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের একাধিক পদ্ধতি বা কৌশলসহ বাস্তব জীবনের অনেক বিষয়। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অভিজ্ঞ পুরুষরা একটি কাজ সম্পাদনের সহজ পদ্ধতি কোনটা সেটা আবিষ্কার করে ফেলে। আবার কাজটি করতে গেলে কী কী সরঞ্জাম দরকার হবে সেটাও ছেলেদের জানা থাকে অভিজ্ঞতার কারণে।

অন্যদিকে মেয়েদের এ বিষয়গুলোতে বাস্তব অভিজ্ঞতা কম থাকে। তারা নিজের গন্ডির মধ্যে থাকার কারণে যে কোনো কাজ সম্পাদনের বিষয়ে বেশিভাগ ক্ষেত্রেই তারা একাধিক পদ্ধতি জানে না। বিভিন্ন ধরণের ও মনোনের মানুষের সাথে না মেশার করণে মেয়েরা সাধারণত পরমত গ্রহণের চর্চাও কম করে থাকে। যে কারণে তারা স্বামীর কথাও অনেক সময় গ্রহণ করতে পারে না। আর তখনই মূলত সৃষ্টি হয় ঝামেলা। মনোমালিন্য শুরু হয়। স্বামী স্ত্রীকে বোঝাতে গেলে স্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না। এটা মূলতো মেয়েরা নিজের ইগো এবং মুর্খতার কারণে করে থাকে। অনেক সময় স্বামীর জ্ঞানমূলক কথাকে খুব বাজেভাবে ইগনোর করে থাকে। যার কারণে স্বামীও স্ত্রীকে বোঝানোর আগ্রহ হারিয়ে বসে। একারণেই মূলত স্বামী ঘরের বাইরে চলে যায়। আর স্বামী চিন্তা করেন স্ত্রী যেমনই হোক জীবন চালাতে তাকে আপন করেই চলতে হবে। সুতরাং ঘরের মধ্যে থেকে তার সাথে যেকোনো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য করা থেকে একটু দূরে থেকে মন ভালো থাকাই ভালো।

সকল মেয়ে যে একই রকম বিষয়টি কিন্তু এমন না। অনেক মেয়ে আছে যারা স্বামীর যোকোনো জ্ঞানমূলক কথা গ্রহণ করে। কারণ সে জানে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা কম। মূলত এই ধরণের মেয়েরাই সংসারে বেশি অবদান রাখতে পারে। 

আবার অনেক স্বামীও আছে যারা স্ত্রীর মতকে একদমই পাত্তা দেয় না এটাও ঠিক না। বরং স্বামীর উচিৎ স্ত্রীর মতকে গ্রহণ করা এবং স্ত্রীর মতে কোনো দুর্বলতা থাকলে সেটা আরো শক্তিশালী করা। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর উচিৎ স্বামী যদি তার (স্ত্রীর) মত বা চিন্তাকে আরো সুচারু বা শক্তিশালী করতে চায় তাহলে স্বামীকে সহযোগিতা করা।

আমরা বলেছি মেয়েরা অপেক্ষাকৃত ছোট গণ্ডিতে মানুষ হওয়ার কারণে তারা কম দক্ষতা সম্পন্ন হয় বা পরমত সহ্যক্ষমতা কম থাকে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মেয়েদের বাইরে অবাদ চলাচল করতে হবে এমনটি ভাবা যাবে না। আবার বাইরে অবাদে চলাচল করা মেয়েরাও কিন্তু অবসর সময়ে স্বামীকে ঘরে আটকে রাখতে পারে না। এ থেকে উত্তরণের উপায় হলো, মেয়েদেরকে নিজের দক্ষতা বিবেচনা করতে হবে। স্বামীর কাছ থেকে শিখতে হবে। নিজে অনলাইন বা অফলাইনে পড়াশোনা করতে হবে। যেকোনো বিষয় স্বামীর সাথে মনখুলে পরামর্শ করতে হবে। স্বামীর উচিৎ স্ত্রীকে বিয়ের পর থেকেই মানিয়ে নেয়া। 

সর্বপরি সব মানুষেরই ব্যক্তিগত মত বা পছন্দ থাকবে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু একে অন্যের মতকে সহ্যকরতে না পারলে কখনই দুইজন মানুষ শান্তিতে পাশাপাশি অবস্থান করতে পারবে না। তাই স্বামী/স্ত্রীর মত বা পছন্দকে নিজের পছন্দ না হলেও একে অপরের মতকে সম্মান করার মাধ্যমেই কেবল শান্তি।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ