About Us
Shoron Sonchoy - (Kushtia)
প্রকাশ ০৮/০৬/২০২১ ১১:৫১পি এম

সুইসাইড

সুইসাইড Ad Banner

আমি একটু পরই সুইসাইড করবো।সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে।সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে গলাটা শুকিয়ে আসছে।আমার খুব ভয় করছে।হাতের আঙুলগুলো ভারী হয়ে আসছে।তবুও লিখছি।আমি জানি এ ভয়টা সুইসাইডের সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনের কারনগুলোর তুলনায় ভীষণ নগণ্য।


সবাই বলে যারা সুইসাইড করে তারা নাকি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়।কিন্তু এত সুস্থভাবে গুছিয়ে সুইসাইড করার পরিকল্পনায় আমার বিকারগ্রস্ততা আমার কাছেই ঠিক যেন প্রচ্ছন্ন।আমি অনেক ভেবেছি।চেষ্টাও করেছি।কিন্তু কোনো পথ খুঁজে পাইনি।আমার ভেতরে একটু একটু করে বাড়তে থাকা চিন্তা, আক্ষেপ, হতাশা কুন্ডলী পাকিয়ে মেঘ হয়ে গেছে।আর নয়।এবার খানিক বৃষ্টি নামুক!


আমি ব্যালেন্স করতে পারছিলামনা না কোনো কিছুতেই নিজেকে।না পারছিলাম কাউকে কিছু বলতে।আমি আসলে একটা মেয়েকে ভালোবাসি।ভীষণ ভালোবাসি।ওকে কথা দিয়েছিলাম আমার গ্র্যাজুয়েশান শেষ হওয়ার হওয়ার সাথে সাথেই যেকোনোভাবে একটা চাকরীর ব্যবস্থা করে নিবো।ওর বাসায় জানাবো।


হুট করেই গতবছরের ফেব্রুয়ারিতে ওর বিয়ের কথাবার্তা শুরু হয়।ছেলেটা একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করে।বড় একটা কোম্পানি প্রজেক্টে ২ বছরের জন্য ছেলেটাকে লিবিয়াতে পাঠিয়ে দেয়া হবে।তাই বিয়েটা দ্রুত সেরে ফেলতে ইচ্ছুক ছিল।ওর অনেক অনুরোধে শুধু এঙ্গেজমেন্টেই রাজি হয়ে গেল ছেলেটা।বিয়েটা পরেই হবে।বাসায় বাবা-মার তীক্ষ্ণ মেজাজ আর কঠোরতায় ও ভীষণ দূর্বল হয়ে পড়ে।


এদিকে হুট করে গত বছরের মার্চে লকডাউন ঘোষণার পর ভার্সিটি বন্ধ হয়ে যায়।আমার ভেতরে অনিশ্চয়তা বাসা বাঁধতে শুরু করে।আমি শঙ্কিত হতে শুরু করি।এখন অবধি ভার্সিটি অথোরিটি কোনো স্টেপ নিতে পারেনি।আমার শিক্ষাজীবনের কোনো অগ্রগতি নেই।আমি এখনো থার্ড ইয়ার স্টুডেন্ট।অথচ এতদিনে ওর বাবা-মাকে আমার বলা হয়ে যেত যে আমার গ্র্যাজুয়েশানটা শেষ।আমাকে একটু সময় দিন।আমি নিশ্চয়ই আপনাদের হতাশ করবোনা।


আমি পারলামনা।শুধু যে ওর জন্য, তা কিন্তু নয়।আমার কাছের মানুষগুলোও আমাকে প্রবলভাবে হতাশ করছে ইদানীং।আমি অস্থির হয়ে থাকি বেশীরভাগ সময়।আমার ভীষণ মন খারাপটা যে কোনোভাবে রাগে বদলে যাচ্ছে সে বিষয়েও কোনো সন্দেহ নেই।ছোট ছোট আঘাত কেমন যেনো কাঁটার মতো খোঁচা দিচ্ছে।আমি আর একটু যন্ত্রনাও বহন করতে পারবোনা।বিভিন্ন ঘটনা আমাকে দূর্বল করছে।এই দূর্বলতাকে খুঁটি বানিয়ে বাঁচার ইচ্ছা আমার নেই।আমাকে ক্ষমা করবেন সবাই।আমার সিদ্ধান্ত আমাকেও আঘাত করেছে।


আপনি কি ভাবছেন পার্থ সুইসাইড করেছে? 

ওকে বাঁচিয়েছে মোহন।ফেসবুকে পোস্ট করার সাথে সাথে নিচতলায় বাড়িওয়ালার ছেলে মোহন তা দেখে ফেলে।কৌশল অবলম্বন করে বেশ তাড়াহুড়ো স্বরে পার্থদের ফ্লাটে এসে কলিংবেল চাপিয়ে চিৎকার করতে করতে বুদ্ধিমান ছেলেটি বলে "পার্থ! পার্থ! আন্টি মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।তাড়াতাড়ি নিচে আসো"। ততক্ষণে পার্থ প্রায় প্রস্তুত।মোহনের কথা শুনেই এক দৌড়ে বাইরে এলো পার্থ।কষে এক চড় পার্থর গালে।কোনোভাবে বাঁচানো গেল, বুঝানো হলো ওকে।ছেলেটা এখন কিছুটা ভালো আছে।কিন্তু  হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারছেনা।








শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Shamem Ahmed - (Dhaka)
প্রকাশ ১৯/০৬/২০২১ ১২:৩২পি এম
MD Rayhan Kazi - (Dhaka)
প্রকাশ ১৩/০৬/২০২১ ১০:০৮পি এম
MD hedaetul Islam - (Sirajganj)
প্রকাশ ১১/০৬/২০২১ ০২:২৭পি এম
Md. Rajibul Islam - (Gazipur)
প্রকাশ ১০/০৬/২০২১ ০৯:৩২পি এম
Md. Rajibul Islam - (Gazipur)
প্রকাশ ১০/০৬/২০২১ ০৮:১৯পি এম