About Us
Hasib Mahmud - (Dhaka)
প্রকাশ ০৮/০৬/২০২১ ১১:৪০পি এম

কিভাবে দূরে থাকবেন ব্লাক ফাংগাস নামক বিরল রোগ থেকে

কিভাবে দূরে থাকবেন ব্লাক ফাংগাস নামক বিরল রোগ থেকে Ad Banner

মিউকরমইকোসিস  বা কালো  ছত্রাক হলো ফাংগাস বা ছত্রাক মিউকরের কারণে সৃষ্ট বিরল গুরুতর ছত্রাকের সংক্রমণ। আমাদের পরিবেশে উপস্থিত ছত্রাকের স্পোরের সংস্পর্শে এসে সংক্রামিত হয়ে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে একজন মানুষ।   


যার প্রভাবে আমাদের দেশে ও এই ছত্রাক শনাক্ত হয়েছে। তবে ফান ফ্যাক্ট হলো, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আমার-আপনার চারপাশে আগেও ছিলো, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

বরং বিষয়টা এমন না যে এই প্রথম বাঙলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে! আর বড় কথা হলো, রোগটি কিংবা জীবানুটি ছোয়াছে নয়। তার মানে, আমি আপনি, এইদিকেও সেইফ!  যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বিশেষ করে এইডস, ক্যান্সার বা ডায়াবেটিক রোগে ভূগছেন তাদের সংক্রমণ হবার সম্ভাবনা একটু বেশি।

তাছাড়া কোভিডের চিকিৎসায় অপরিকল্পিত স্টেরয়েড ব্যবহারে প্রথমত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় আর ডায়াবেটিক রোগীর ব্লাড শ্যুগারও বেড়ে যায়।

না জেনে শুনে আইভারমেকটিন বা রেমডিসিভির জাতীয় ওষুধ না খাই। কারন এসব ওষুধ অপরিকল্পিতভাবে স্টেরয়েডের ব্যবহার হয়। অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি কোভিড রোগীর অক্সিজেন মাস্ক বা আইসিইউ সরঞ্জাম ঠিকমত স্টেরাইল বা জীবাণুমুক্ত না হলেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ হতে পারে। এজন্যই কোভিড থেকে সুস্থ্য হওয়া রোগীদের এই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। 

Photo Courtesy: Online  রোগের লক্ষণগুলি  নাকের বাধা অথবা নাকের হাড় ভাঙ্গা , ফেসিয়াল বা গালজ্বাল ব্যথা, কালচে ভাব এবং গন্ধযুক্ত নাকের স্রাব,  গাড় বা লালভাব এবং চোখ এবং নাকের ফোলাভাব এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কোভিড ১৯ চিকিত্সাধীন রোগীদের এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলির শনাক্ত করা হয়েছে ভারতে। 

অন্যান্য লক্ষণগুলি হ'ল মাথা ব্যথা এবং জ্বর, খিঁচুনি, পরিবর্তিত মানসিক অবস্থা, কাশি এবং রক্ত-দাগযুক্ত থুতু, শ্বাসকষ্টের ক্রমবর্ধমান সমস্যার সাথে শ্বাসকষ্ট হওয়া, দাঁত ব্যথা  হওয়া, এবং নেক্রোসিসের সাথে ত্বকে কালচে বর্ণহীনতা (কোষ বা টিস্যুর মৃত্যু) রোগ বা আঘাতের মাধ্যমে)।     

কীভাবে কালো ছত্রাক সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন?   

কোভিড -১৯ রোগীদের কালো ছত্রাকের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসকরা চিনির মাত্রার  এবং স্টেরয়েড আরও ভাল নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন, অক্সিজেনের সময় হিউমিডাইফায়ারগুলির জন্য পরিষ্কার বা জীবাণুমুক্ত জল থেরাপি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। 

অনুজীববিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে উপদেশ রইলঃ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন, করোনা মুক্ত হবার জন্য অবশ্যই, মাস্ক দ্বিতীয়বার ব্যবহারের পূর্বে সম্ভব হলে ধুঁয়ে নিন অথবা অন্তত রোদে শুকিয়ে নিন। মনে রাখবেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে আপনার পরিচ্ছন্নতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই যথেষ্ট।   

এরপরও যদি কেউ সংক্রমিত হ'য়ে যান তবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে। অবহেলা করবেন না, এতে অঙ্গহানি থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হ'তে পারে। বাঙলাদেশে প্রচুর সিস্টেমেটিক ফানজিসিডাল ওষুধ রয়েছে।যেমন ধরুন, মাইকোনজোল জাতীয় ওষুধ গুলো।

তবে এই চিকিৎসায় ধৈর্য রাখতে হবে, অনেকটা লম্বা সময় চিকিৎসার প্রয়োজন হ'তে পারে। পরিষ্কার পরিছন্ন থাকুন, নিয়মিত সাবান দিয়ে গোসল করুন, আর অবশ্যই, মাস্ক ব্যবহার করুন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ