About Us
Mohammad Ali - (Pabna)
প্রকাশ ০৮/০৬/২০২১ ০৯:৪৩পি এম

কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ Ad Banner

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ড.হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে  মামলা দায়ের করেছে দুর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল সোমবার (৭ জুন) বিকেলে পাবনা সদর থানায় দুদক পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

বাংলাদেশের পাবনা জেলায় অবস্থিত অবিভক্ত ব্রিটিশ বাংলায় প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ পাবনা।১৮৯৮ সালে শ্রী গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনাম ও গৌরব অর্জন করে আসছে।বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ তালিকায় চতুর্থতম হিসেবে অবস্থান করছে  কলেজটি।তবে বর্তমান অধ্যক্ষ নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই কলেজের উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাওয়ার পরিবর্তে ক্রমান্বয়ে কলেজটির অবনতি হতে থাকে।

মূলত এর নেপথ্যে কলেজটির অধ্যক্ষ।বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন দুর্নীতি করে আসছেন,তারই প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া আবেদন ও বিল ভাউচার তৈরী করে অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর মজুমদার নিজেই অনুমোদন করে কলেজের ছাত্র সংসদ তহবিল, উন্নয়ন তহবিল, বিবিধ তহবিল, ভর্তি কার্যক্রম ও ফরম ফিলাপ তহবিলের ৫৬ লক্ষ ৮ হাজার ৯৮৬ টাকা অগ্রনী ব্যাঙ্ক কলেজ গেট শাখা থেকে উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেছেন।

যা দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্ণীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গত ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত  কয়েক দফা তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে সোমবার বিকেলে এ মামলা দায়ের করা হয়।

এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, কলেজটির ছাত্র সংসদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও অধ্যক্ষ ছাত্র সংসদ তহবিল থেকে পাঁচজন ছাত্রলীগ নেতা ও কর্মচারীর নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ১৫টি চেকের মাধ্যমে ৫ লাখ ২ হাজার টাকা, উন্নয়ন তহবিল থেকে কমিটির সুপারিশ ও কোটেশন ছাড়াই ভাউচার করে ৩৮টি চেকের মাধ্যমে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৩৮ টাকা এবং বিবিধ তহবিল থেকে ভুয়া আবেদন ও ভাউচারের মাধ্যমে ৩৭টি চেকের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৪২ টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেন। 

এছাড়াও উন্নয়ন তহবিলের বেসরকারি আদায় তহবিলের দুটি হিসাব থেকে ২৮টি চেকের মাধ্যমে ১৮ লাখ ৩ হাজার ৭০৬ টাকা আত্মসাতের প্রমাণও মিলেছে বলে দুদক অভিযোগ এনেছে। 

দুদকের পাবনার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মোজাম্মেল হক জানান, অধ্যক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দূর্ণীতির আরো বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, মামলার প্রয়োজনে তাকে যে কোন সময় গ্রেফতার করা হবে।  এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ ড. হুমায়ুন কবির মজুমদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে এ মামলা হয়েছে তা আমি জানি না। 

ইতিপূর্বে দুদক থেকে আমার কাছে কিছু তথ্য-প্রমাণ চেয়েছিল, তা যথাযথভাবে তাদের দিয়েছি। আর আমার জ্ঞাতসারে আমি কোনো দুর্নীতি বা জালিয়াতি করিনি। একটি মহল আমাকে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্রমুলক এসব করছে।

যদি মামলা হয়ে তাকে তাহলে আদালতে সঠিক প্রমান দিতে প্রস্তুত আছি  এ ব্যাপারে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হুমায়ুন কবির মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দুদককে ভূল বুঝিয়ে আমাকে হেনস্থা করানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, সঠিক তদন্ত করা হোক। আমাকে ফাঁসানোর জন্য ভাউচার সরিয়ে আমার বিরুদ্ধে দুর্নাম রটানো হচ্ছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ