About Us
Robiul Islam - (Rajshahi)
প্রকাশ ০৮/০৬/২০২১ ০৫:০৯পি এম

রাজশাহীর আমের মূল্য হ্রাস, চাষী ব্যাবসায়ীর মাথায় হাত

রাজশাহীর আমের মূল্য হ্রাস, চাষী ব্যাবসায়ীর মাথায় হাত Ad Banner

গ্রীষ্মকালীন আমের মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় দশ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। আম বাগান পরিচর্যা, সংগ্রহ ও পরিবহন, বিক্রিসহ অন্যান্য ধরনের কাজে যুক্ত হন তারা। এ অঞ্চলের মানুষের  সারাবছরের আয়ের অন্যতম মৌসুম এটি। 

রাজশাহীর আম বলতে বাঘা উপজেলার আম অন্যতম। এ উপজেলার আমের মধ্যে ফজলি, হিমসাগর (খিরসাপাত), গোপালভোগ, মহনভোগ, ল্যাংড়া বিখ্যাত। এছাড়া বৌ-ভোলানি, রাণিপছন্দ, জামাই খুশি, বৃন্দাবন, তুতাপরি, লখনা, বোম্বাই, দাউদ ভোগ, সিন্দুরি, আম্রপালি, আশ্বিনা, ব্যানানা, মল্লিকা, ক্ষুদি খিরসাপাত, কালীভোগসহ শতাধিক জাতের আম রয়েছে।  মেসার্স শাহাদোলা ফল ভান্ডারের সরকার,দুলাল হোসেন বলেন- এ-ই বছর আমের মুল্য অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক কম। বাজারে আমের চাহিদা নেই বললেই চলে। মুকামে (আড়ৎ) আমের চাহিদা তেমন নেই এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানের সম্মুখীন হতে পারে। আমের দাম এত কম কেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন - বাজারে আমের আমদানি বেশি। সে তুলনায় ব্যবসায়ীরা কম এসেছেন। ক্রেতা কম থাকায় আমের দামও তুলনামূলক কম।   

বাঘা পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বালিকা বিদ্যালয়ের দক্ষিণে পাইকারী ও খুচরা আম বিক্রেতা রবি শেখ জানান, এ বছর শ্রমিকদের মজুরি এবং সার ও কীটনাশক বেশি দিতে হয়েছে। ফলে আম উৎপাদনে খরচ বেশি হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বাজারে না আসা পর্যন্ত আমরা ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হব। মুকামে হিমসাগর ( খিরসাপাত) আমের চাহিদা ব্যতীত অন্যান্য আমের তেমন চাহিদা নেই। বাজার খবর নিয়ে জানা যায়, ২সাপ্তা আগে হিমসাগর আম ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪০-৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবুও এ-ই আম ছাড়া বাকি আমের মুল্য পাচ্ছে না ব্যবসায়ী গন। এছাড়া কয়েক গত বছরের থেকে চলতি বছরে অনলাইন আমের ব্যবসা অনেকগুন বেশী। এই করোনার কারণে বাজার প্রায় ক্রেতা শুন্য। বাজারে লকনা আম ২০-২২ টাকা প্রতি কেজি ও ন্যাংড়া আম ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেঁথুলিয়া কামার পাড়া মোড়ের আম ব্যাবসায়ী রুবেল হোসেন জানান, লাভের আশায় আম কিনে লচে (ক্ষতি) আম বিক্রি করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমার মতো আম ব্যাবসায়ীদের কে পথে বসতে হবে। এছাড়াও আমাদের অঞ্চলের প্রধান আয়ের উৎস এটি। এতো কম দামে আম বিক্রি করতে হলে চাষিরাও পরবে বিপদে।   

বিভিন্ন ব্যবসায়ী দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমের এমন দাম থাকায় তাদের ব্যবসার প্রতি আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। আমের দাম বছর পার হচ্ছে আর কম হচ্ছে। এমন ভাবে চললে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ঋণের চাপ মাথায় উঠব। দেশে যে কয়েকটি আমের মোকাম রয়েছে, সবগুলোয় একই সঙ্গে আমবাজারে উঠেছে ও মোকামগুলো চালু হয়েছে। বাজারে আম বেশি থাকলেও ক্রেতা কম রয়েছে। ফলে চাষিরা দাম পাচ্ছেন না। 

গত বছরের তুলনায় এ-ই বছরে রাজশাহীর বাঘায় ব্যাপক আমের উৎপাদন হয়েছে। যদি সঠিক দাম আম চাষিরা পেত তাহলে তারা অনেক লাভবান হত। কিন্তু আমের চাহিদা অন্যান্য বছরের মত এ বছর অনেক কম।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Aktaruzzaman - (Khulna)
প্রকাশ ১৯/০৬/২০২১ ০৭:৩১পি এম