About Us
Rofiqul Islam
প্রকাশ ০৮/০৬/২০২১ ০৩:১৪পি এম

মুখে মুখে ভলতেয়ারপন্থি, আর চেতনায় স্ট্যালিনপন্থি

মুখে মুখে ভলতেয়ারপন্থি, আর চেতনায় স্ট্যালিনপন্থি Ad Banner

হুমায়ুন আজাদ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল সহ অনেকেই। এই তালিকায় আছেন আহমদ ছফাও। অন্যরা বেঁচে না থাকায় পাল্টা আক্রমণ করতে পারেন নি। কিন্তু আহমদ ছফা ছিলেন জাতির সার্বিক মুক্তি নিয়ে আগ্রহী একজন মানুষ। শুধু লেখা নয়, মিছিলে হাঁটা মানুষ।

অন্যদিকে হুমায়ূন আজাদ আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি-জামায়াত নিয়েই ছিল তার রাজনৈতিক চিন্তার চৌহদ্দি। তাই ইট মেরে পাটকেলটা খেয়েছিলেন ঠিকমতোই-হুমায়ুন আজাদের করা প্রথম কিস্তির আক্রমণের জবাব শুরুই করেছিলেন এই বলে যে, ~"শুয়োরের বাচ্চার দাঁত উঠলে আগে বাপের পাছায় কামড় দিয়ে ধার পরখ করে।" সঙ্গে অবশ্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন-

"হুমায়ুন আজাদের কোন উপকার আমি কোনদিন করিনি, তথাপি কেন তিনি অনুগ্রহটা করলেন, সেটা ভেবে ঠিক করতে পারছিনে। সত্য বটে, একবার তাঁকে আমি সজারুর সঙ্গে তুলনা করেছিলাম। সেটা একটুও নিন্দার্থে নয়। আসলেই হুমায়ুন আজাদ একটা সজারু। বাঘ, সিংহ কিংবা অন্যকোন হিংস্র প্রাণী নয়। লেখক হিসেবে আমি যে কত সামান্য সেটা অনেকের চাইতেই আমি অনেক বেশি ভাল জানি। অনেকে আমার নাম উল্লেখই করেন না। অন্তত হুমায়ুন আজাদ গাল দেয়ার জন্য হলেও আমার অস্তিত্বটা অস্বীকার করেননি, সেজন্য হুমায়ুন আজাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। আর এটা একটুও মিথ্যে নয় যে, আমি জন্তু-জানোয়ার নিয়ে কাটাই। আমার জন্তু-জানোয়ারের সংগ্রহশালাটি যদি আরো বড় হত, সেখানে আজাদের জন্যও একটা স্থান সংরক্ষণ করতাম।"
কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে তৎকালীন সময়ে যখন হুমায়ুন আজাদের ''নারী' বইটি নিষিদ্ধ হয়! এই আহমদ ছফাই প্রথমে এর প্রতিবাদ জানান। এমনকি শাহবাগের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে তিনি 'নারী' বইটি বিক্রি করেন।
ব্যক্তি আমার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার জন্য পিনাকি ভট্টাচার্যর দ্বারস্থ্য হতে হবে না। যুগে যুগেই দেখে এসেছি নিষিদ্ধ হওয়া বইগুলি পরবর্তী সময়ে মানব জীবনে বিরাট প্রভাব ফেলে। পিনাকি ভট্টাচার্য-র বইগুলি রকমারি কিংবা অন্য যেকোনো জায়গা থেকে উঠিয়ে নেয়া কোনো সমাধান না। যেখানে যুক্তি নেই সেখানে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। তার বইয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বন্ধ করতে হলে অবশ্যই অবাধ বিক্রির নিশ্চয়তা প্রদান জরুরি। কেননা নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি মানুষের জোঁকটা একটু বেশিই থাকে।

ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ারের একটি উক্তি খুব বিখ্যাত- আমাদের দেশের অনেককেই দেখি সেটি উদ্ধৃতও করেন, ‘আমি তোমার কথার সঙ্গে বিন্দুমাত্র একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তোমার কথা বলার অধিকার রক্ষার জন্য আমি জীবন দিতে পারি"-এটি কী কথার কথাই নাকি- ‘সকল ভিন্নমতই কারও না কারও কাছে সহমত। এবং প্রত্যেকেই এক একটি সহমত ভাই৷ ভিন্নমত যতক্ষণ সহমতের লক্ষ্মণরেখার ভেতরে থাকে, ততক্ষণ ভলতেয়ারগিরি ঠিক আছে৷ গণ্ডি পার হলেই ভলতেয়াররা স্ট্যালিন হয়ে ওঠে।  আমরা আসলে সবাই মুখে মুখে ভলতেয়ারপন্থি, আর চেতনায় স্ট্যালিনপন্থি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Tanmoyhasan - (Gazipur)
প্রকাশ ০৭/০৬/২০২১ ০৮:২৭পি এম