About Us
Md. Ashraful Alam
প্রকাশ ০৮/০৬/২০২১ ১২:০১পি এম

পুনরায় স্কুল খোলার প্রয়োজনীয়তা ও করনীয় বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠক

পুনরায় স্কুল খোলার প্রয়োজনীয়তা ও করনীয় বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠক Ad Banner

করোনা পরিস্থিতি আমাদের সকলের জানা। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনলাইনে পাঠদানের উদ্যোগ নিলেও শিক্ষার্থীর একটা বড় অংশই থেকে যাচ্ছে পাঠ অর্জনের বাহিরে। অভিভাবকের ক্ষেত্রেও রয়েছে সচেতনতার অভাব।

উপযুক্ত ডিভাইস না থাকা অথবা শক্ত নেট সংযোগের অভাবে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগে মিলছে না আশানুরুপ ফল। অবস্থার উন্নতি কবে হবে কেউ জানে না।     

সমবার (৭জুন) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রেডিও সারাবেলা ৯৮.৮ এফএম এর আয়োজনে গোল টেবিল আলোচনায় সহযোগিতা করেন গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ। সকাল ১০ টায় আলোচনার সুচনা করেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোছা. রোখছানা বেগম বৈঠক পরিচালনা করেন। গোল টেবিল আলোচনায়  অংশগ্রহণকারীগণ বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষার জন্য যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি অনুসরন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পক্ষে মতামত জানান। বক্তারা বলেন- শিক্ষার্থীর একটা বড় অংশের হাতে উপযুক্ত ডিভাইস অথবা নেট সংযোগ না থাকায় অনলাইন শিক্ষায় আমাদের শিক্ষার্রীরা সকলে অংশগ্রহণ করতে ব্যার্থ হচ্ছে। ফলে শহরে শিক্ষার্থীদের সাথে গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা অর্জনের একটি ফারাক তৈরী হচ্ছে। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় তুলনামূলক গ্রামের শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ দুর্বলতার শিকার হচ্ছে। প্রায় একবছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের সুযোগ থেকে দুরে। গ্রাম পর্যায়ে অভিভাবকের তেমন সচেতনতা না পড়া লেখার ক্ষেত্রে উদসীন। এই সময়ে অনেক শিক্ষার্থীল মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে। যা গ্রামীণ শিক্ষার্থীল ক্ষেত্রে বেশি লক্ষ করা যায়।     

বক্তারা আরও বলেন- অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে শিক্ষার্থীদের সাময়িক পাঠদানের একটা পরিবেশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা নিলেও অনেক শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যুক্ত হওয়া থেকে দুরে থাকে  অথবা অনেকেই অংশগ্রহনেই করেন না তা নিয়ে শিক্ষকদের অভিভাবকের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পুরনে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা জরুরী। বক্তারা প্রস্তাব রাখেন-সপ্তাহিক ভিত্তিতে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে পাঠদানের পরিকল্পনা নিয়ে বিদ্যালয় খোলা যেতে পারে। তাতে কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের মনের হতাশা দুর হবে। একই সাথে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের গ্রাম ভিক্তিক দায়িত্ব দিয়ে ক্যাচমেন্ট এলাকার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকের সহায়তায় পাঠদান এবং সাপ্তাহিক মুল্যায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের চর্চা এবং লেখা পড়ার তাড়না সৃষ্টি হবে। বৈঠকের আলোচনা কি নোট এর মাধ্যমে আগামী দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে সকল ধরনের স্বাস্থ্য বিধি এবং শিক্ষার যথাযথ পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং সকল অভিভাবকের সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। 

বৈঠকে যারা বক্তব্য রাখেন তারা হলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল হাসান, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহান, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েত হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হোসেন আলী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নার্গিস জাহান, জেলা তথ্য অফিসার মুহাঃ মাহফুজার রহমান, আহম্মদ উদ্দিন শাহ্ শিশু নিকেতন স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাহেদুল ইসলাম, এসকেএস স্কুল এ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. অনামিকা সাহা, ইউপি চেয়ারম্যান এ এম মাজেদ উদ্দিন খাঁ এবং আমিনুর রহমান রিংকু, বিটিভি সাংবাদিক আবেদুর রহমান স্বপন, দীপ্ত টিভি এবং দৈনিক মাধুকার প্রতিনিধি ভবতোষ রায় মনা, এসকেএস পাবলিক রিলেশন সমন্বয়কারী মো. আশরাফুল আলম, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলজিসি কর্মসূচির জেলা সমন্বয়কারী মো. আব্দুল হালিম, ফ্রেন্ডশীপ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম। শিক্ষক এসএম শামসুন্নাহার বেগম, এসএম সামীমা সুলতানা, মাহাবুবা সুলতানা, স্কুল শিক্ষার্থী অদিতা, পুর্ণতা, আসিফা আফিয়া, ফাররুখ আহমেদ এবং তালহা সাহান রাফে।     

গোল টেবিল বৈঠক আলোচনায় উপস্থাপনা করেন রেডিও সারাবেলার সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার মাহাফুজ ফারুক। রেডিও সারাবেলার দক্ষ কর্মী ও স্বেচ্চাসেবকদের সার্বিক সহযোগিতা গোল টেবিল বৈঠক সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।         


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ