About Us
MD Anik Dewan - (Chapainawabganj)
প্রকাশ ০৬/০৬/২০২১ ১১:৪৯পি এম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিদর্শন করলেন : ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিদর্শন করলেন : ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা Ad Banner

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কোন দেশের কোন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ সেটি বড় কথা কথা নয়। এমনকি সাধারণ মানুষের জন্য ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে না জানলেও চলবে। ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে নীতি নির্ধারনী মহল জানলেই হবে। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকানো যাবে না। মাস্ক ব্যবহার করলে সবধরনের ভ্যারিয়েন্ট থেকেই রক্ষা মিলবে।  রবিবার (০৬ জুন) বিকেলে সীমান্তবর্তী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে কয়েকটি কারনে সংক্রমণ বেড়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ মনে করে, ঈদের সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘরে ফেরা ও ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে চলাফেরা করার কারনেই জেলায় সংক্রমণ বেড়েছে। তবে সর্বোপরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারনেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা আরও বলেন, করোনা সংক্রমণ বাড়লে তখন আর রোধ করা সম্ভব নয়। আমরা দেখেছি, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পর করোনা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখনই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। অতি প্রয়োজনীয় কারন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া বন্ধ করতে পারলে সুফল মিলবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করতে হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে কঠোর লকডাউন চলছে, গত কয়েকদিনে তার সুফল পাওয়া গেছে। সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে।

তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের লকডাউনের চিত্র দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সংক্রমন নিয়ন্ত্রনে অন্তত ২-৩ সপ্তাহ জেলাবাসীকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।  গীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের বিষয়ে ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আপাতত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপরেও স্থানীয় প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিরা মিলে যেকোন সীধান্ত নিতে পারবেন। সামাজিক দুরত্ব মেনে চলা ও মাস্ক পরিধানকে অধিক গুরুত্ব দেন তিনি। ধৈর্য ধরে লকডাউন পালন করলে সংক্রমন কমবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।  সরকারি সফরে রবিবার (০৬ জুন) বেলা ৩টায় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম ঘুরে দেখেন। এসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উর্দ্ধমুখী সংক্রমণ প্রতিরোধ, হার নিয়ন্ত্রণে ও করনীয় নির্ধারনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা সিভিল সার্জন, হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ও চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা, সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম রাব্বানীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। 

এর আগে দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন তিনি।  উল্লেখ্য, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ, মৃত্যু ও ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলছে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন। রবিবার (০৬ জুন) ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের ১৩তম ও দ্বিতীয় দফায় ৭দিনের লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিন চলছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ