About Us
Ali imran - (Tangail)
প্রকাশ ০৬/০৬/২০২১ ০১:৩৭পি এম

"খালিস্তান"

"খালিস্তান" Ad Banner

পাঞ্জাব ভারতের ২৮ টি রাজ্যের  মধ্যে একটি।কৃষি কাজের জন্য এই রাজ্যটি শুধু দেশ নয়,দেশের বাহিরেও জনপ্রিয়।১৯৬৬ সালে এই রাজ্য একক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।এই রাজ্যের জনসংখ্যা ২ কোটি ২৭ লক্ষ।পাঞ্জাবের পশ্চিমে পাকিস্তান,উত্তরে কাশ্মীর ও হিমাচল এবং দক্ষিন-পূর্বে রাজস্থান ও হরিয়ানা এবং উত্তরখন্ড অবস্থিত।রাজ্যটির সংখ্যাগুরু মানুষ শিখ ধর্মের অনুসারী।আর এই রাজ্যের অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দির সকল শিখ ধর্মীয় মানুষের প্রধান তীর্থ স্থান।

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে যখন ৬ দফাতে মুসলিমদের নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র গঠন করতে চায় তখন শিখ সম্প্রদায়ের নেতারা দাবি জানায় "যদি মুসলিমদের নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করা হয় তাহলে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র ব্যবস্থা করতে হবে"  যার ফলে ১৯৪৭ দেশ ভাগের আরো অনেক দিন পর এই দাবি ধীরে ধীরে আরো দৃঢ় হতে থাকে।তারা খালিস্থান নামক স্বাধীন দেশের দাবি করে।যে স্থানটি হবে শিখ ধর্ম অনুসারী মানুষের দেশ। সে দাবি না মানায় শিখ নেতাদের এক অংশ সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে।১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ায় তারা নিজেদের দেশ গঠনের স্বপ্নে প্রাণ পেতে থাকে।

অন্য দিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা "র" এর তথ্য ভিত্তিতে ভারতীয় সরকার প্রশাসন নড়ে চড়ে বসতে বাধ্য হয়।খালিস্তানের বিষয়টা দিন দিন বিষ ফোড়াতে পরিনত হয় ভারতীয় সরকারের কাছে।ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আরো তথ্য দেয় যে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই খালিস্তান গঠনের জন্য পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতা করছে এমন অবস্থায় যদি এখনি শিখ আন্দোলন কারিদের থামানো না হয় পাঞ্জাব নামের রাজ্য ভারতের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।এমন অবস্থায় সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী অনেকটা বাধ্য হইয়েয় সেনা বাহিনীকে নির্দেশ  দেন শিখ আন্দোলন কারিদের দমনের জন্য।ভারতীয় সামরিক বাহিনী এই অভিজানের নাম দেন অপারেশন "ব্লু স্টার" ।শিখ আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিয়ে ছিলেন শিখ ধর্মের সবচেয়ে পবিত্রতম স্থান স্বর্ণ মন্দিরে।শিখ আন্দোলনকারীদের দমন  করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী সিদ্ধান্ত নেন মন্দিরের ভিতরে অভি্যান চালাবে,কারণ এছাড়া তাদের হাতে আর কোন পথ খোলা ছিল না।অনেকে এই অভিযানের ব্যাপারে এক মত ছিলেন না কারণ এটা শিখদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।

১০ জুন রাত বারোটায় শুরু হয় সেনাবাহিনীর অপারেশন "ব্লু স্টার"। ভারতীয় সেনাবাহিনী ভেবে ছিল ঘন্টা দু একের মধ্য অপারেশন শেষ করে ফেলবে। কিন্তু শিখ আন্দোলনকারী দের পল্টা প্রতিঘাতের জন্য এটা গড়িয়ে যায় ভোর পর্যন্ত।এই অভিযানে ভারতীয় সেনা মারা যান ৯২ জন এবং শিখ ধর্মাবলীর প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়।

শিখধর্মের মানুষ ফুস ছিলেন তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় হামলার জন্য।এ যেন কোন জলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো অবস্থা।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সে সময়ের দেহরক্ষীর মধ্য দু জন শিখ ধর্মের।অপারেশন ব্লু স্টার এর পর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করেছিলেন যেন এই দুই শিখ দেহরক্ষীকে যেন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী যখন শুনলেন যে তাদের সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে তখন তিনি বাধাদেন এবং বলেন এরা আমার কোন ক্ষতি করবে না।


৩১ শে অক্টোবর হঠ্যৎ স্তব্ধ গোটা ভারত।শোনাগেল তাদের প্রধানমন্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেছে তারই সেই দুই শিখ দেহরক্ষী।

আগুনের শিখা বের হয় এরপরই যা শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি।দিল্লী,উত্তর প্রদেশ,বিহার,মধ্য প্রদেশ সহ আরো অনেক প্রদেশে শুরু হয় নারকীয় হত্যা।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ১ নভেম্বরের হত্যাযোগ্যটি ছিল ভারতীয় শিখদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য।যাতে তারা আর কখনও স্বাধীনতা দাবি করতে না পারে।এই দাঙায় প্রায় কয়েক হাজার নির্দোষ শিখ অনুসারী মারা যান।দিল্লীর রাস্তা যেন রক্তের দাগে চেনা যাচ্ছিল না সে দিন।


শিখ সম্প্রদায় এই দাঙার ব্যাপারে আন্দোলন করলেও মূলহোতারা রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে।পাঞ্জাবের মানুষ এখনও দাবি করে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য কিন্ত দেশের ভেতরে কিংবা রাজ্যে আর সেই জোরালো ভাবে বলতে পারে না।কিন্তু অনেক শিখ নেতারা রাজনৈতিক আশ্রইয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে তারা স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি ও আন্দোলন করছে।

কিন্তু এখনো অনেক শিখ ধর্মীয় মানুষ স্বপ্ন দেখে স্বাধীন খালিস্তানের।


লেখাঃ আলী ইমরান।

শিক্ষার্থী,আইন বিভাগ

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। 

ইমেইলঃRahul.aliemran@gmail.com


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ