About Us
MD.KHALED MOSHARRAF SHOHEL
প্রকাশ ১৩/০৫/২০২১ ১১:৫৭পি এম

বেতাগীতে কলা চাষে ফলন-দাম দুটোই ভাল

বেতাগীতে কলা চাষে ফলন-দাম দুটোই ভাল Ad Banner

কলা চাষে ফলন ও অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী উপজেলার চাষীদের আগ্রহ বেড়েছে কলা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরাঅনেক কৃষকের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাও এসেছে এ কলা চাষেকলার ফলন ও বাজার দর ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে অন্যান্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে শ্রম ব্যয় খুবই কমজৈব সার ব্যবহার করে কলা চাষ করার ফলে স্থানীয় বাজারে এ কলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেতাগী উপজেলায় একটি পৌরসভাসহ ৭ টি ইউনিয়নের ৩ শ ৮৫ হেক্টর জমিতে এ বছর বিভিন্ন প্রজাতির কলা চাষ করা হচ্ছে

কৃষকরা বিঘা প্রতি কলার জাতভেদে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার খরচ করে ৫০-৭০ হাজার টাকা আয় করছেন

একাধিক চাষীরা জানান, জৈব সার ব্যবহার করার কারণে এখানে ফলন ভালো হয়এছাড়াও অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি এবং শ্রমিক খরচ কম যার জন্য কলা চাষে ঝুঁকছে

কলা চাষের জন্য উপযুক্ত মাটি ও পরিবেশএ কারণে ফলনও ভালো হচ্ছে এবং চাষীরা ন্যায্য মূল্য পেয়ে খুশি চাম্পা, চিনিচাম্পা, কবরী, চন্দন কবরী, কাঁঠালী, জাবকাঁঠালী, এটেকলা, বতুর আইটা, গোমা আইটা, আনাজী কলা, ভেড়ার ভোগ, চোয়াল পউশ, বর ভাগনে, বেহুলা, মন্দিরা, মানিক, চিনি, চম্পা, সাগর কলা, অমৃত সাগর, মেহর সাগরসহ বিভিন্ন জাতের চারা রোপণ করা হয় এ এলাকায় প্রতি বিঘা জমিতে ৩শ থেকে ৪শ চারা রোপণ করা যায়প্রায় এক বছর পর পর রোপণকৃত গাছ থেকে কলা পাওয়া যায়

কৃষক আব্দুস সালাম জানান,’কাবেরি ও আনাজি জাতের কলা চাষে তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন

বেতাগী পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলা চাষী কৃষ্ণ কান্ত ঘরামী জানায়, প্রতিটি গাছের জন্য খরচ হয়েছে তাঁর ৮০ টাকা, তাতে এক বিঘায় সর্বমোট খরচ হয়েছে ১৯ হাজার টাকাসব কিছু ঠিক থাকলে প্রতি কাঁধি কলা গড়ে সাড়ে ৩ শ থেকে ৭ শ টাকা দরে বিক্রি করলে তাতে ৫৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করা যাবেকৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ চাইলে যথাযথ পরামর্শ পেয়েছেন বলে তিনি জানান

বয়স ভেদে বিভিন্ন গাছে কলার কাঁদি প্রায় সারা বছরই ফলন দেয়প্রতি কাঁদি কাঁচা কলা স্থানীয় বিক্রেতাদের কাছে পাইকারি বিক্রি হয় প্রকার ভেদে ৩ শ থেকে ৫ শ টাকা পর্যন্ত

জানা গেছে, পৌরসভার বাজারে সপ্তাহে শনি ও বুধবারে হাটের দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা কলা নিয়ে আসেনপাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা হাটের দিনে কৃষকদের কাছ থেকে কলা কিনে নিচ্ছেন এবং তাঁর দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্রি করছেন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য কোর্স সম্পন্নকারী কৃষিবিদ লিটন কুমার ঢালী জানায়,‘কলা গাছে সাধারণ দুই ধরনের রোগের আক্রমণ হয় পানামা এবং সিগাটোকাএসব পোকা আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে আক্রমন কম হয়এ কারণে এখানকার কলায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় নাঅন্য ফসলের চেয়ে এটি অধিক লাভজনক হওয়ায় এ এলাকার কৃষকদের কলা চাষ আগ্রহ বাড়ছে

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার বলেন,‘এ অঞ্চলের মাটি এবং আবহাওয়া দুটোই কলা চাষের জন্য উপযুক্তকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় এ বছর কলার ভালো ফলন হয়েছে

তিনি আরো জানান,‘ ইতিমধ্যে কলাচাষিদের সঠিক পরামর্শসহ যখন যে সরকারি প্রণোদনা আসেছে তা দেয়া হয়েছ


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ