About Us
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Md.Nezam Uddin - (Chattogram)
প্রকাশ ১২/০৫/২০২১ ০৭:৫৩পি এম

ইসরাইলের বর্বরতায় ফিলিস্তিনির ইন্তিফাদা

ইসরাইলের বর্বরতায় ফিলিস্তিনির ইন্তিফাদা Ad Banner

এমন কোন দিন নেই যেদিন কোন ফিলিস্তিনী ইসরাইলের হাতে গ্রেফতার হচ্ছে না। একটি জাতির স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে, একটি অঞ্চলে অশান্তির আগুন জ্বেলে এবং প্রতিনিয়ত অগণিত নিষ্পাপ মানুষকে হত্যা করে  তবুও বিশ্ববাসীর টনক নড়ছে না। ফিলিস্তিনে যে বর্বরতা ও পাশবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে সেজন্য শুধু ইসরাইল  দায়ী নয়, গোটা মানবজাতিকে  ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

আমেরিকা বা জাতিসংঘ এগিয়ে আসতে পারে আবার নাও পারে। কিন্তু মুসলিম বিশ্ব কোথায়? ফিলিস্তিনী মুসলমানদের দুর্দশায় বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এমন কোন মুসলমান খুঁজে পাওয়া যাবে কি না জানি না যিনি ফিলিস্তিনী মুসলমানদের জন্য চোখের পানি ফেলছে না। আমরা আর কত কাঁদবো?   কোথায় ওআইসি?  কোথায় মুসলিম বিশ্বের শাসনকর্তারা? আর কত প্রাণ ঝড়লে ফিলিস্তিনীর সংকট কমবে। 

গত পবিত্র জুমাতুল-বিদা দিনে নামাযরত অবস্থায় ইসরাইলী পুলিশের গুলিতে আহত হয় ১৩৭ জন,  এই সংঘাত রেশকাটতে না কাটতে পবিত্র  লাইলাতুল কদর রাতে ইহুদি পুলিশ  মসজিদে আল আকসাতে  নামায পড়তে আসা মুসল্লীদের ওপর  স্টান গ্রেনেড  ভারি অস্ত্র দিয়ে গুলি বর্ষণ,  জল কামান ব্যবহার করেছে,পাল্টা তারাও ইট, পাথর ছুড়ে মারছে।

বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন মতো এখনো পর্যন্ত  ৩ শিশু সহ ২৬ জন নিহত ও ৩০০ জনের অধিক আহত এবং  হাজার হাজার লোককে গ্রেফতার করে। এই ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরবতা  কেন? ওআইসির পদক্ষেপ কি ভাবার বিষয়।  ফিলিস্তিন সমস্যা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে পুরানো ও জটিল সমস্যা।

পৃথিবীতে অনেক সংকট দেখা দিয়েছে। আবার সেসব সংকট সমাধানও হয়েছ। কিন্তু ফিলিস্তিনি সংকটের সেই যে শুরু তার আর শেষ নেই। এ সংকেটের শেষ কোথায়, তা কেউ জানে না। ফিলিস্তিনের রয়েছে একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস। চার হাজার বছর ধরে এখানে ওলাট-পালট চলছে। পৃথিবীতে যত নবী-রাসূল এসেছেন তাদের প্রায়ই প্রত্যেকের জন্ম হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। আর মধ্যেপ্রাচ্যের সবচেয়ে পবিত্র স্থান হচ্ছে ফিলিস্তিন। এ ফিলিস্থিনের রাজধানী জেরুজালেম মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের পবিত্রতম স্থান। বিশ্বের প্রথম মানব ও নবী হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত অসংখ্য নবী-রাসূলেরর স্মৃতিধন্য হচ্ছে এ জেরুজালেম। হযরত আদম(আঃ) এর অধঃস্তন পুরুষ ছিলেন হযরত নূহ (আঃ)। 

হযরত নূহ(আঃ) এর দশম অধঃস্তন পুরুষ হলেন হযরত ইব্রাহিম (আঃ)।  হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর দু'পুত্র ছিলেন। তাদের একহনের নাম হযরত ইসমাইল (আঃ)  এবং অন্যজনের নাম হযরত ইসহাক(আঃ)।  হযরত ইসহাক (আঃ) এর পুত্রের নাম হযরত ইয়াকুব (আঃ)। হযরত ইয়াকুব (আঃ) - এর আরেক নাম ইসরাইল। হযরত ইয়াকুবের দ্বিতীয় নাম 'ইসরাইল' থেকে আজকে ইসরাইল  রাষ্ট্রের সৃষ্টি। হযরত ইয়াকুব বাস করতেন ফিলিস্থানে। তাঁর প্রথম স্ত্রী গর্ভে জন্ম নেন হযরত ইউসুফ (আঃ)। হযরত ইউসুফ (আঃ) ছিলেন রূপের অতুলনীয়। 

এ জন্য সৎ ভাইয়েরা তাকে খুব হিংসা করতো। ভাইদের চক্রান্তে তিনি ফিলিস্তান ছাড়তে বাধ্য হন। বিদেশী বণিকদের সঙ্গে তিনি মিশরে এসে উঠেন। তিনি তাঁর যোগ্যতার বলে মিশরের তৎকালীন ফারাওয়ের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত  হন। তিনি যখন মিশরের প্রধানমন্ত্রী তখন  ফিলিস্তিনে দুর্ভিক্ষ  দেখা দেয়। হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁর ১২ জন্য ছেলে নিয়ে মিশরে চলে আসেন। হযরত ইউসুফ (আঃ) পিতে হযরত ইয়াকুব ও তাঁর সৎ ভাইদের সমাদর গ্রহণ করেন। হযরত ইয়াকুবের ১২ পুত্রের পরবর্তী বংশধরেরা ১২ টি গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং দেশ থেকে তাদে  বহিষ্কারে বল প্রয়োগ করে। তখন বনি ইসরাইলের নবী হযরত মুসা (আঃ)। 

হযরত মুসা (আঃ) বনি ইসরাইলদের সঙ্গে নিয়ে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে সিনাই মরুভূমি  পিছনে ফেলে ফিলিস্তিনে জর্ডান নদীর তীরে  এসে উঠেন।  সর্বশেষ নবী  হযরত  মুহাম্মদ (সাঃ) মি'রাজ গমন করেছিলেন জেরুজালেমেরর আল- আকসা মসজিদ থেকেই। মসজিদুল আল-আকসায় তিনি বিগত  সমস্ত নবীদের  নিয়ে নামাজে ইমামতি করেছিলেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর। (রাঃ) ৬৩৬ খ্রীষ্টাব্দে বাইজান্টাইন রোমানদের পরাজিত করে জেরুজালেম দখল করেন তখন থেকে জেরুজালেমে আরব মুসলমানদের বসতি শুরু হয়।

১০৭০ খ্রীষ্টাব্দে সেলজুক তুর্কীরা আরবদের কেছ থেকে জেরুজালেম দখল করে নেয়। এ সময় মুসলমানদের কাছ থেকে জেরুজালেম পুনরুদ্ধারে ইউরোপে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ইউরোপের প্রতিটি খ্রিষ্টান রাজা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করে। ১০৯৭ সাল থেকে ১২৭০ সাল পর্যন্ত জেরুজালেম উদ্ধারে মোট ৮ টি ক্রুসেড  অভিযান পরিচালিত হয়। ১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখলে সক্ষম হয়।

১১৮৭ সালে মুসলিম বীর সেনানী গাজী সালাহউদ্দিন আইউবী  ক্রুসেডারদের কাছ থেকে পুনরায় জেরুজালেম মুসলিম অধিকারে নিয়ে আসেন। ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ  করতে এসে ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। গাজী সালাহউদ্দিন ছদ্নবেশে হেকিম হয়ে ইংরেজ শিবিরে গিয়ে চিকিৎসা করে রাজা রিচার্ডকে সুস্থ করে তোলেন। রাজা রিচার্ড  পরে জানতে পেরেছিলেন, অসুস্থ অবস্থায় যে হেকিম তার চিকিৎসা করেছিলেন তিনি তারই পরম দুশমন সুলতান সালাহউদ্দিন আইউবী। সুলতান সালাহউদ্দিনের মহত্ত্বে তিনি মুগ্ধ হঢে যান এবং একদিন মুসলিম শিবিরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং জেরুজালেমে একটি বার  প্রবেশের প্রার্থনা জানান। সুলতান সালাহউদ্দিন ঘৃণাভরে তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান  করে বলেছিলেন, ' জেরুজালেমে পা রাখতে হলে আপনাকে আমার লাশের ওপর দিয়ে যেতে হবে,  অন্য কোনভাবে নয়'।  সেই জেরুজালেম পারস্পরিক দলাদলি ও আত্নকলহের কারণে মুসলমানরা ধরে রাখতে পারে নি।  এ ঐতিহাসিক নগরী আবার খ্রিষ্টানদের পদানত হয়।

১২৬০ সালে  নাজারাতের যুদ্ধে নেষ্টেরিয়ান খ্রিস্টানদের পরাজিত করে মিশরের মামলুক শাসক ফিলিস্তিন দখল করে নেন। আড়াইশ' বছর ফিলিস্তিন মিশরের একটি প্রদেশ ছিল। তুর্কী সুলতান সেলিম মামলুকদের কাছ থেকে ফিলিস্তিন ছিনিয়ে নেন। তৎকালে ফিলিস্তিনসহ গোটা মুসলিম জাহান ছিল তুরস্ক উসমানীয় খেলাফতের অধীনে। 

১৯১৪ সালে প্রথম মহাযুদ্ধ  শুরু হয়। এ যুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পক্ষে যোগ দেয়। ইংরেজরা জার্মানি ও তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ভারতীয় মুসলমানরা তুর্কী সালতানাতবে সর্মথন দেয়। পক্ষান্তরে, আরব মুসলমানরা  স্বাধীনতা লাভের শর্তে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলায়। শক্তিশালী ইংরেজ আরবদের সমর্থনপুষ্ট হয়ে তুর্কী সালতানাতের বিভিন্ন অংশ দখল করে নিত। থাকে। একজন ফরাসী জেনারেল দামেস্কে ক্রসেড বিজয়ী গাজী সুলতান সালাহউদ্দিন আইউবীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলোছিলেন,  , Saladdin we have came back.  আমরা ফিরে এসেছি সালাদিন। ইংরেজরা যেখানে যাকে  যা বলা সম্ভব তাই বলে দল ভারি করেছিল।

মক্কার শেরিফ আবদুল্লাহ হোসেন ইবনে আলীকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল যে,  তাকে ফিলিস্তিনে একটি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দেয়া হবে। কিন্তু প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবার পর ইংরেজরা তাকে প্রতিশ্রুতি  ভঙ্গ করে। লীগ অব নেশন্স বা জাতিপুঞ্জ ফিলিস্তিন ও জর্দানকে বৃটিশ ম্যান্ডেটরি শাসনে ন্যস্ত করে। প্রথম মহাযুদ্ধে  বৃটিশ সরকার দারুণ অর্থ সংকটে পড়ে। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। 'রথচাইল্ড' নামে একজন ইহুদি ধনুকুবেরের কাছ থেকে প্রচুর ধার গ্রহণ করে।

বৃটিশ সরকার তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিল, তিনি কি চান?  জবাবে তিনি তাঁর জাতি ইহুদির জন্য একটি আবাসভূমি দাবি করেন। বৃটিশ সরকার তার দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়। তদানীন্তন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার এ.জে বেলফোর ইহুদীদের একটি আবাসভূমি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি ঘোষণা দেন। ইতিহাসের এই ঘোষণা 'বেলফোর ঘোষণা' নামে পরিচিত। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনিকে মুসলমান ও ইহুদি  উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে দু'ভাগে বিভক্ত করার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। কুচক্রী ইংরেজরা জাতিসংঘ প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করে ফিলিস্তিন ত্যাগ করে।

পরিস্থিতি অনুকূল পেয়ে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরাইল স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এ ঘোষণার পর মিশর, জর্দান, লেবানন, সিরিয়া,  ও ইরাক ইসরাইল আক্রমণ করে। প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে ইসরাইলই জয়লাভ করে। সে এ যুদ্ধে তার আয়তন ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করে নেয়। মিশর ফিলিস্তিন ভূখন্ডে গাজা এবং জর্দান পশ্চিম তীর দখল করে। ফলে ফিলিস্তিনিরা 'রাষ্ট্রশূন্য ' হয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তু শিবিরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গড়ে উঠে আন্দোলন।  সিভিল ইন্ঞ্জিনিয়ার ইসাসির আরাফাত।  গঠন করেন পি.এল.ও। 

দেশমাতৃকার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে পিএলও কে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান।  পিএলও 'র নেতৃত্ব কাঁধে আসায় আরাফাত হয়ে উঠেন আরো দুর্ধর্ষ।  ইসরাইল তৎকালীন তাঁর মাথার মূল্য  ঘোষণা করে ৫লাখ ডলার।  আরাফাত জর্দানের রাজধানী আম্মান থেকে গেরিলা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে থাকেন। জীবনে শেষ বয়সেও তিনি সংগ্রাম করে ছিলেন। তাঁর জীবনে সবকিছু তিনি উৎসর্গ করেছেন তার জাতিকে। এখনো তিনি ফিলিস্তিনীর অবিসাংবাদিত নেতা।   জাতিসংঘ ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির জন্য ৪৪ শতাংশ ভূখন্ড বরাদ্দ করে এবং বাদবাকি ৫৬ শতাংশ বরাদ্দ করে ১১ লাখ ইহুদিদের জন্য। ফিলিস্তিনীরা জাতিসংঘের এ ভূমি বরাদ্দ ব্যবস্হাকে ঘৃণাভরে  প্রত্যাখান করে।

১৯৬৭ সালে যুদ্ধে ইসরাইল পুরো ফিলিস্তিন গ্রাস করে। ১৯৬৯ সালে মসজিদুল আল-আকসায় ইহুদীরা অগ্নিসংযোগ করে। সারা বিশ্বের  ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠে। গঠিত হয় ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)।  কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়,  ইসরাইল ফিলিস্তিন দখল এবং আল কুদস  আল শরীফে অগ্নিসংযোগের জন্য  কথিত বিশ্বশান্তি ও মানবধিকারের প্রবক্তা যুক্তরাষ্ট্র টু শব্দটি পর্যন্ত করেনি। সে ইসরাইলকে মায়ের আদর দিয়ে আগলে রাখছে।  তার ভেটোকে ডিঙিয়ে কেউ ইসরাইলের গায়ে আঁচর কাটার সাহস পায়নি।  যুক্তরাষ্ট্র ইহুদী প্রেমে বিভোর হয়ে থাকা সত্ত্বে ও মুসলিম দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অনুকম্প নিয়ে টিকে থাকতে চায়। পুঁজিবাদী দেশ আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রো- ডলার কুক্ষিত করে তার সম্পদের বহর বাড়িয়ে তুললেও সে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো বিশেষ করে ফিলিস্তিনির সাথে কেবল প্রতারণাই করছে। আরবরা ইচ্ছে করলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায়ের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে পারে।  কিন্তু কেন এখনো দেয় নি, সেটাই প্রশ্ন।

১৯৭৩ সালে আরবরা তেলকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছিল। তৈলাস্ত্রের কাছে সেদিন শুধু আমেরিকা নয়, সারা বিশ্বে কাবু হয়ে পড়েছিল। বিশ্বব্যাপী দেখা দিয়েছিল মন্দা। আজো এ মন্দা কাটেনি। ১৯৭৩  সালে আরবদের কাছে যে তৈলাস্ত্র ছিল আজো তা আছে। কিন্তু তারা এ অস্ত্র ব্যবহার করছে না। ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদী তোষণ বন্ধ হয়ে যেত।  মুসলমানদের চোখ খুলবে কবে? ফিলিস্তিনির ওপর জুলুম নির্যাতন, ড্রোন হামলা সহ অমানবিক নির্যাতনে এখনো ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না।  ইসরাইল যে পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে ইহুদি বসতি গড়ে তুলছে তাতো তার কোনদিন ছিল না।

সেই ১৯৬৭ সালে ৬ দিনের আরব- ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল জর্দানের কাছ থেকে পূর্ব জেরুজালেমসহ সমগ্র পশ্চিম তীর, সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান এবং মিশরের কাছ থেকে সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয়। ইতিহাস উল্টালে দেখা যায় যে, জেরুজালেম ইসলামের দ্বিতীয়  খলিফা হযরত উমর ফারুক (রাঃ) - এর সময় ইসলামের অধীনে আসে। খ্রিস্টানরা বিনা যুদ্ধে  বিনা রক্তপাতে  হযরত ওমর (রাঃ) - এর কাছে নগরীর চাবি হস্তান্তর করেছিলেন। জেরুজালেমের  সাথে ইসলামের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কেননা, এখানে রয়েছে ইসলামের প্রথম কেবলা মসজিদুল আল-আকসা। মহানবী (সাঃ) মসজিদুল আকসা থেকে মেরাজ শরীফে যাত্রা করেছিলেন। জেরুজালেম ছিনিয়ে নিতে ইউরোপের খ্রিষ্টানরা ক্রুসেড করেছে। ক্রুসেড করেও তারা জেরুজালেম পা দিতে পারে নি। মুসলিম বীর সালাহউদ্দিন আইউবী ক্রুসেডারদের জেরুজালেম দখলের স্বপ্ন চুর্ণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ইহুদী, খ্রিস্টানদের চক্রান্ত থেমে থাকে নি।

১৯৮২ সালে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে শাবরা ও শাতিলা নামে ফিলিস্তিনী শরনার্থী শিবিরে হামলা চালিয়ে ১৭ হাজার ফিলিস্তিনীকে হত্যা করেছিলেন। ১৯৮৭ সালের প্রথম ইন্তিফাদার সময় ফিলিস্তিনিরা ছিল কার্যত নিরস্ত্র। ফিলিস্তিনি তরুণ  এবং কিশোররা পাথর ছুড়ে ইসরাইলী সশস্ত্র বাহিনীকে মোকাবেলা করেগেছে দিন দিন।

২০০০ সাল হতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ইন্তিফাদা ছিল অনেক বেশি রক্তারক্ত।  তিন হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয় সেই সময়। ইসরাইলীদের হারাতে হয় এক গাজার সৈন্য।  ২০১৩ সালে ফিলিস্তিনীর ওপর ড্রোন হামলা , এমনকি ২০১৪ সালে ইসরাইলের বর্বরতায় একদিনে ১৮০০ শত ফিলিস্তিনীদের হত্যা করে।যুদ্ধের পর একদিনে এতো বেশি ফিলিস্তিনীর প্রাণহানি আর ঘটেনি। হাসপাতাল,  পর্যটন কেন্দ্র পর্যন্ত তাদের হামলা থেকে বাদ যায় নি। 

ফিলিস্তিনি ইতিহাসে  ২০১৮ সালে ১৪ মে ফিলিস্তিনিদের জন্য বিষাদময় আরেকটি দিন ছিল।  যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাসীকে বৃদ্ধ আঙ্গুল দেখিয়ে সেদিন ইসরাইলের পক্ষে তাদের দূতবাস উদ্বোধন করেন। আর সেদিন গাজা পরিণত হয়েছিল রক্তারক্তপ্রান্তর। ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয় একদিনে ৫৮ জ  আহত হয় প্রায় তিন হাজার।  ঐ সময় ৪ মাসের শিশুর নাড়িভুঁড়ি বের হয়েগিয়েছিল। তখন ও আমেরিকা চুপ ছিল।আর জাতিসংঘ শুধু নিন্দা জানানো ছাড়া আর কিছু করতে পারে নি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সৈন্য প্রত্যাহারের আহবান  জানিয়ে  ২৪২ ও ৩৩৮ নং প্রস্তাব গ্রহণ করে। কিন্তু ইসরাইল আজো এ প্রস্তাব মেনে নেয়নি। গায়ের জোরে সে ফিলিস্তিনি ভূখন্ড দখল করে রেখেছে। ফিলিস্তিনী গেরিলা সংগঠন 'হামাস' এর উপর যে পরিমাণ হামলা করেছিলো তা নজরবিহীন। ইসরাইল এখন ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা পি.এল.ও - কে ভয় পায় না।

১৯৮৭ সালে ফিলিস্তিন বুকে গড়ে উঠা আরেক মুক্তিকামী গেরিলা সংগঠন হামাসকে ভয় পায়। হামাসের জন্ম থেকে শুরু হয় ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে  ইন্তিফাদা। ইসলামী প্রতিরোধ আনন্দোলনকে আরবী আদ্যাক্ষর অনুযায়ী ' হামাস ' নামকরণ করা হয়েছে। হামাসের সামরিক শাখার নাম আল-কাশেম ব্রিগেড। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংগঠন মোসেদ ও আমানের ষড়যন্ত্র জাল সবদিকে ছড়িয়ে।

১৯৯৭ সালে ইসরাইলী গোয়েন্দারা  মাল্টায় হামাসের দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ইয়াহিয়া আয়াশকে হত্যা করে। জেরুজালেম নিয়ে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প শান্তির পথে হাটেনি, উল্টো তাদের দূতবাস উদ্বোধন করে ফিলিস্তিনকে আরো রক্তারক্ত দিকে নিয়ে গিয়েছিল। এখন বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  জো বাইডেন মধ্যেপ্রাচ্যের শান্তির জন্য কি পদক্ষেপ সেটা দেখার বিষয়। ইসরাইল যেভাবে ফিলিস্তিনীদের জুলুম নির্যাতন, হামলা গ্রেপ্তার সহ বাড়ি ঘর উচ্ছেদ করছে দিন দিন। তবুও ইসরাইল সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্র নয় ।  যুক্তরাষ্ট্র ইহুদীদের ভাষায় সন্ত্রাসবাদী  হচ্ছে ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, সুদান ও ফিলিস্তিন।

২০১৩ সালে বিবিসি ২২টি দেশে একটি জরিপ চালিয়েছিল। সেই জরিপে দেখা যায়,পুরো পশ্চিমা দুনিয়ার যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে একমাত্র দেশ  যেখানে জনমত ইসরাইলের পক্ষে সহানুভূতিশীল।  শুধু তাই নয়, এই দুইদেশের ঘনিষ্ট সামরিক মিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সবেচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সাহায্যে পায় ইসরায়েল। এটা সাহায্যের বড় অংশ খরচ হয় ইসরায়েলের জন্য সামরিক অস্ত্র কেনার জন্য। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের পক্ষে খোলাখুলি সমর্থন যোগানের মতো একটি বৃহৎ শক্তিও নেই।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা একবার  কায়রো সফরকালে বলেছিলেন- ' ফিলিস্তিনীদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যে প্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। তিনি আরো বলেছেন,  আত্ননিয়ন্ত্রণাধিকার প্রত্যাশীদের সন্ত্রাসী বলা শোভন নয়। সন্ত্রাসী হচ্ছে তারা যারা অন্যের অধিকার হরণ করে। ম্যান্ডেলা মতো পাশ্চত্যের শক্তিমান নেতারা যদি সত্য কথা বলতেন এবং ন্যায়ের পক্ষ থাকতেন, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট দেখা দিত না। প্রতিটি মুসলমানের হৃদয় নিজ নিজ সীমানা পেরিয়ে ফিলিস্তিন বিচরণ করছে। শুধু একটি ডাকের অপেক্ষা।  কে দেবেন সেই ডাক?  যদি এমন কোন ডাক আসে তাহলে দেখা যাবে যে, মহাপ্রলয় শুরু হয়ে গেছে।   

ইসরাইলের নাম- নিশানা পৃথিবীর  মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। আমাদের জন্য বড়ই পরিতাপের বিষয় যে,  একদা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হয়েও আমাদের মার খেতে হচ্ছে।  তাই মনে প্রশ্ন জাগে, আজ যদি রসুল (সঃ) আমাদের মাঝে থাকতেন তাহলে তিনি কি ফিলিস্তিন, কাশ্মীর অথবা পৃথিবীর কোথাও মুসলিম নির্যাতন  মেনে নিতেন? রাসূল (সাঃ) পক্ষে যা অসম্ভব আমাদের পক্ষে  তা সম্ভব হচ্ছে কিভাবে? 

আমরা কি বিশ্বব্যাপী মুসলিম নির্যাতন চেয়ে চেয়ে দেখে নিজেদেরকে রাসূল (সাঃ)  উম্মত বলে দাবি করতে পারি? তবে সম্প্রতি তুরস্কে মুসলিম অঞ্চলের পাশে দাড়াতে চেষ্টা করছে। গত কয়েকদিনের ইসরাইলের বর্বরতার হামলায় নিন্দা ও প্রতিবাদ দিয়ে হুশিয়ারী দিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরোদোগানের মতো যদি মুসলিম বিশ্বের শাসক গোষ্ঠীরা এগিয়ে আসে তাহলে ফিলিস্তিনীর সংকট কমবে,  জাতিসংঘ, ওআইসি, ডি-৮ এর গঠিত সংস্থাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে ফিলিস্তিনী  মজলুমদের  কান্না থামবে। 

তবে বিলম্ব হলেও সত্যের জয় হবে, মিথ্যা চিরদিনই পরাভূত হয়। ফিলিস্তিনীরা জিতবে এবং তাদের আত্ননিয়ন্ত্রণাধিকারের কাছে ইসরাইল মাথা নত করতে হবে।     লেখক- নেজাম উদ্দিন শিক্ষার্থী- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য- বাংলাদেশ কলাম লেখক ফোরাম,চবি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ