About Us
শনিবার, ১৫ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
মোহাম্মদ শামছুল আলম ইঞ্জিনিয়ার - (Rangamati)
প্রকাশ ০৪/০৫/২০২১ ০২:৩৬এ এম

অপরাধী নয়, অপরাধ দেখে বিচার করুন

অপরাধী নয়, অপরাধ দেখে বিচার করুন Ad Banner

গুলশান একটি ফ্ল্যাটে গত কয়েক দিন আগে যে মেয়েটি মারা গিয়েছিল তার নাম মোসারাত জাহান মুনিয়া। এই মুনিয়াকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যম, প্রিন্ট মিডিয়া,ও প্রত্যেক টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে অনেক রকমের আলোচনা সমালোচনা এই পর্যন্ত শুনেছি। অনেক জনে অনেক রকমের করে বিচার বিশ্লেষণ করে যার যার যতো বলেছেন। এই বিষয়ে আমার নিজস্ব কিছু মন্তব্য আমি এখানে পাঠকদের সাথে শেয়ার করতে চাই।

আমি এখানে মুনিয়া ও তার পরিবার কি রকম ছিল পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভির ও কে বা কতো, বড় ধনার্ঢ্য ব্যক্তি তা নিয়ে কোন মন্তব্য করছি না। আমি এখানে আমার বিশ্লেষণটি করবো, শুধুমাত্র আল্লাহর সৃষ্টি দুটি মানুষের সম্পর্ক নিয়ে। এখানে অনেক লোকের মন্তব্য এমন ছিল যে মুনিয়াকে তার বড় বোন ও ভগ্নিপতি অর্থলোভে ঐ ধরনের একটি রাস্তায় ব্যবহার করেছেন। ধরে নিলাম এটাই সত্য। কিন্তু তাই বলে একজন মানুষ একটা ফ্ল্যাটে বন্ধ দরজা অবস্থায় মারা গেলে তার কি কোন বিচার হবে না? আমরা তার চরিত্র নিয়ে সমালোচনা ও বিচার না হয় পরেই করলাম, কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে তার মৃত্যু রহস্য কি উদঘাটন করবো না?

ধরুন যে সমস্ত যৌন কর্মী পতিতালয়ে যে কোন কারণে যৌন কাজ করে রোজগার করে, তাদের কেউ একজন যদি কোন কারণে খুন হয়ে যায় তাহলে আমরা কি সে পতিতা ছিল তাই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে চালিয়ে দেব? তার কি এই সমাজে বিচার পাওয়ার অধিকার নেই? আমাদের সমাজে এই নেতিবাচক মনোভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা দারে দারে ঘুরেও বিচার পান না। মুনিয়া নিজে টাকার লোভে সায়েম সোবহান আনভির এর প্রেমে জড়িয়ে ছিলেন, না তাকে কেউ এই কাজে জড়িত করিয়েছেন, সেটা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করার সময় অনেক পাবো। কিন্তু এই সমালোচনার অন্তরালে যদি হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্যটি ঢেকে যায় এবং তার কোনো বিচার না হয়, তাহলে তো এই সমাজের ভবিষ্যত বিচারহীনতার সাগরে ডুবে যাবে। ফলে অপরাধীরা বীরদর্পে আরো বেশি অপরাধ করতে দ্বিধা সংকোচ করবে না।

এইবার আসুন সায়েম সোবহান আনভির চৌধুরী কে নিয়ে একটু বলি। শুরুতে বলা হয়েছিল বাংলাদেশের স্বনামধন্য একজন শিল্পপতি মুনিয়ার প্রেমিক ছিলেন। কিন্তু নাম বলতে অনেক বড় বড় মিডিয়া ভয় পেয়েছিলেন। এমন কি মুনিয়া ও সোবহান আনভির ফটো দেখাতে গিয়ে ও দেখলাম সোবহান আনভির এর ফটো টি ঝাপসা করে দেখানো হয়েছে। মানবতা কতটুকু পৌঁছলে তবে সমাজের অবস্থা এরকম হতে পারে আমার বোধগম্য হচ্ছে না। সত্য প্রকাশে এতো ভয় কেন? সোবহান আনভির বাংলাদেশের যতো বড়ই শিল্পপতি হোক না কেন, তিনি তো তার ইচ্ছা মতো কাজ করতে পারেন না। তিনি একজন বিবাহিত পুরুষ। তাঁর ছেলে মেয়ে আছে। তার কাছে অর্থ আছে বলে সে একজন অবিবাহিত কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে মাসিক এক লাখ টাকা ভাড়া দিয়ে অভিজাত ফ্ল্যাটে রাখার কি যৌক্তিকতা আছে?

আমার কাছে টাকা আছে বলে আমি সমাজে যা ইচ্ছা তাই তো করতে পারি না। একজন বিবাহিত লোক তার স্ত্রী পুত্র রেখে অন্য একটি অবিবাহিত মেয়েকে নিয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে দিনযাপন করা এটা কি অপরাধ নয়? সে তাকে বিয়ের প্রলোভনে প্রলোভিত করে কেন তাকে শেষ পর্যন্ত ব্লাকমেইল করে তার কাছে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পাবে বলে টেলিফোনে হুমকি দিয়ে কথা বলে তাকে হতাশাগ্রস্ত করেছিলেন? যদি তিনি তাকে বিয়েই করতে না পারেন, তাহলে কেন মিথ্যে প্রলোভন দিয়ে মাসিক এক লক্ষ টাকা ভাড়ায় মুনিয়াকে তার জীবনে এই রঙ্গিন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

মুনিয়া ও তাঁর পরিবারের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যাই হোক সেটা আসবে পরে কিন্তু মুনিয়ার মৃত্যু হলো কিভাবে তার রহস্য উদঘাটন করে তার যথাযথ বিচার যদি এই সমাজ করতে না পারে তাহলে আগামীতে আরো এরকম হাজার হাজার মুনিয়া অর্থের কাছে অসহায় হয়ে জীবন দেবে কিন্তু কোন বিচার হবে না। আর যদি দেশের বিচার ব্যবস্থা এই রকমই হয় তবে মনে করবো বড় বড় শিল্পপতি ও ধনাঢ্য ব্যক্তি ছাড়া, অন্য কারো বসবাসের আবাসভূমি এই সমাজ তথা এই দেশ নয়।

মনে রাখবেন, অপরাধ কি এটা দিয়েই বিচার করতে হয় অপরাধী কে তা দিয়ে নয়। অপরাধী যেই হোক না কেন তা না দেখে বিচার করুন তার অপরাধ টা কি তাই দিয়ে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় সকলের দৃষ্টিভঙ্গি এই রকম হলে অবশ্যই বিচারহীনতার কবল থেকে এই সমাজ ও দেশ মুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে এইটুকু বলবো মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে না সে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন তা বিশ্লেষণ করার জন্য সিসি টিভি ফুটেজ, মুনিয়ার মোবাইল ফোন, ও তার লিখা ডায়েরি গুলো সূক্ষ্ম তদন্ত করলে ই আমার বিশ্বাস আসল হত্যা রহস্য বের হয়ে আসবে। যেভাবেই হোক যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আসল রহস্য উম্মোচন করে এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক একটা বিচার হোক' এটাই কামনা করি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Mehedi Hasan Pial - (Dhaka)
প্রকাশ ১৩/০৫/২০২১ ০৪:৫৪পি এম