About Us
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ০৩/০৫/২০২১ ০৩:২৫এ এম

করোনায় কাঁপছে ভারত, আমরা ব্যাস্ত ঈদ শপিংয়ে!

করোনায় কাঁপছে ভারত, আমরা ব্যাস্ত ঈদ শপিংয়ে! Ad Banner

সরকার শপিংমল ও মার্কেট গুলো স্বাস্থ্য বিধি মেনে সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছেন। পাশাপাশি ৫ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে সরকার অনেকটা ছাঁড় দিয়েছে। প্রতিবেশী ভারতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন সে দেশে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতা কোথায় নিয়ে ঠেকিয়েছে।তা প্রায় দৃশ্যমান। সংক্রমিত হয়ে প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন। যা করোনার ভয়াবহতায় বিশ্ব রেকর্ড। প্রতিদিন ভারত ভাঙ্গছে ভারতের রেকর্ড। চিতায় লাশের লাইন। স্বজনরা লাশ নিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন। সিরিয়াল আসলে তবেইনা সৎকার করবে। রাস্তায় লাশ পরে থাকতে এবং কুকুর টানাটানি করতে দেখা যায়। শ্বশ্নানে লাশ পোড়ার কালো ধোয়ায় আকাশ ধোয়া আচ্ছন্ন, বাতাসে লাশের গন্ধ।প্রায় অধিকাংশ মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হিন্দু- মুসলীম সবাই মরছে করোনার ভয়াল থাবায়। 

বাংলাদেশের মানুষ যেন চোখ থাকতেও অন্ধ।বেশির ভাগ মানুষ স্বাস্থ্য বিধি মানছেনা। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা জমাচ্ছেন।চায়ের দোকান যেন নাটকের মঞ্চ। অবস্থা দৃষ্টে  মনে হচ্ছে জনগণকে স্বাস্থবিধি মানাতে হলে সরকারকে নজরদারি বাড়াতে হবে।নিম্ন মধ্যবিত্তরা শপিংমল গুলোতে উপচে পরছে।স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যাচ্ছে না।অনেকেই সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখছে না। শিশু কিশোর যুবা মহিলা পুরুষ জীবনের শেষ ঈদের জামা কাপড় কিনতে ভীড় করছেন  শপিংমলগুলোতে। ঈদ যত আগাচ্ছে অসহায় হতদরিদ্র মানুষ দুইবেলা খাবারের জন্য রাস্তায় নামে আর নিম্মবিত্ত- নিম্মমধ্যবিত্ত অতিউৎসাহী মানুষ নানা  অজুহাত বের হচ্ছেন বাহিরে। 

গত ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে মারা যায় ৫৭ জন।  যা বিগত ১৫ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম। আক্রান্ত নতুন শনান্তের হার ও ১৮ থেকে ১০ শতাংশে কমে এসেছে। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি আমাদের  করোনার ভয়াবহতা দেখতে হয়নি। আমরা এখনো শংন্কা মুক্ত নই। যে ভাবে মানুষ শপিংমলে ভীড় করছে, গণপরিবহন চালু হলে তা আরো কয়েকগুন বাড়বে। এতে শেষ পরিনতি সময়ই ভালো বলতে পারবে। 

স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী মাস্ক পড়া, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা, লিফট যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা, একান্ত ব্যবহার করতে হলে দূরত্ব রেখে ও মুখোমুখি না দাঁড়ানো, সিড়ি ব্যবহার কালেও দূরত্ব রেখে চলা ও সিঁড়ির হাতলে স্পর্শ না করা, কিছুক্ষন পর পর ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোঁয়া ইত্যাদি বাস্তবে   কি আছে হাট ঘাট বাজারে! কতটুকুন মানা হচ্ছে?   

মানুষের মৃত্যুর ভয় থাকলে এভাবে শপিং করতোনা। টাকা দিয়ে এবার জামা কাপড় না কিনে দিন আনে দিন খায় শ্রমজীবী মানুষকে দান করতে পারতেন। তাহলে রিক্সা,ভ্যান চালক, ডে-লেবারদের প্রচন্ড গরমে কষ্ট করতে হতোনা। লকডাউনে রিকশা নিয়ে বের হওয়ার অপরাধে পুলিশের হাতে মার খেতে হতোনা।  মানুষ অনেক বদলে গেছে, হারিয়েছে মনুষ্যত্ব। 

বদলে গেছে আমাদের মানবিকতা ও মনুষ্যত্ব। এই করোনা মহামারি আমাদের করেনি মানবিক বরং আমরা হয়েছি আরো বেশি ,অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক। সামাজিক দুরত্ব যে আমাদের মাঝে অনেক আগ থেকেই বাসা বেঁধে রেখেছিল, তা করোনা না এলে হয়তো বুঝা যেত না।  আসুন বৈশ্বিক মহামারি করোনায়  ঈদ শপিং বন্ধ রাখি, দিনমজুর ও অসহায়  মানুষকে সাহায্য করি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।   

লেখক - এডভোকেট শাহ্ আলী মো. পিন্টু খান  সভাপতি বন্দর প্রেসক্লাব, নারায়ণগঞ্জ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ