About Us
Mominul Islam Babu - (Kurigram)
প্রকাশ ০১/০৫/২০২১ ১১:১২পি এম

কাজ আসছে না ১৪কোটি টাকার রাবারড্যাম

কাজ আসছে না ১৪কোটি টাকার রাবারড্যাম Ad Banner





কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ০১-০৫-২১
দীর্ঘ ১২বছরও আলার মুখ দেখেনি রৌমারী উপজেলার জিঞ্জিরাম নদীতে ১৪কােটি টাকা ব্যয় নির্মিত খেওয়ার চর রাবার ড্যাম প্রকল্পটি। অনেকটা অবহেলা, অযন্ত এবং বাঁধ নির্মাণের অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের এ প্রকল্পটি। দীর্ঘদিন ধরে অকেজাে পড়ে থাকায় ও দেখভালের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে ৮৫মিটার দৈর্ঘ্যের রাবার ব্যাগটি।
কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত ঘেঁষা খেওয়ারচর এলাকায় জিঞ্জিরাম নদীতে ২০১০সাল খেওয়ারচর রাবার ড্যাম প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। দু’দফায় এ প্রকল্প সরকারের মােট ১৪কােটি টাকা ব্যয় হয়। প্রথম দফায় ১২কােটি এবং দ্বিতীয় দফায় অতিরিক্ত আরও ১কােটি ৯৪লাখ টাকা ব্যয় হলেও সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে এলাকার কৃষকরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,উপজেলার লালকুড়া খেয়া ঘাট হতে খেওয়ারচর রাবার ড্যাম এলাকা তিন কিলােমিটার সড়ক রয়েছে। কাঁচা এ সড়কটির বেশিরভাগ এলাকা চলাচলের অযােগ্য হয়ে পড়েছে। প্রকল্পের সুরক্ষা ও নদী শাসনের জন্য ২কিলােমিটার সিসি ব্লক ও রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। চলাচলের জন্য নির্মান করা হয়েছে ৮৫মিটার সেতু।সেতুর দু’পাশের সিসি ব্লক নদীতে ধসে গেছে।সেতুর নিচে নদীতে ড্যামের রাবার ফুলানাের অভাবে রাবার ড্যামের ব্যাগটি নষ্ট হতে বসেছে। এলাকা ঘুরে প্রকল্পটি দেখভালের জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।
প্রকল্প এলাকার কৃষক আব্দুল মানান অভিযােগ করে বলেন, প্রকল্পটি চালু না হওয়ায় বেশি দামে তেল কিনে কৃষকদের ইরির (বােরাে)আবাদ করতে হয়। এতে লাভবান হয়েছে ঠিকাদার আর একটি স্বার্থনেষী মহল। তাই সরজিমন তদন্ত করে অতিদ্রুত রাবার ড্যামটি চালুর দাবি স্থানীয় কৃষকদের।
খেওয়ারচর রাবার ড্যামর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির(পাবসস) সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, এই রাবার ড্যাম প্রকল্পের আওতায় চারশ কৃষক সদস্য রয়েছেন। দীর্ঘ এক যুগেও প্রকল্পটি চালু না হওয়ায় এলাকার প্রায় ১২শ কৃষক ডিজেল চালিত অগভীর নলকূপ বসিয়ে চাষাবাদ করছেন।এতে ফসল উৎপাদনে ব্যয় বাড়ছে। তিনি আরও জানান, পাবসস সমিতির সদস্যরা প্রকল্পটির কােনো সুবিধা না পাওয়ায় রাবার ড্যাম এলাকার সমিতিটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণসহ রাবার ড্যাম প্রকল্পটি চালুর দাবি জানান তিনি।
রৌমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাহাদৎ হােসেন বলেন, রাবারড্যাম প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। ওই এলাকার আড়াই হাজার কৃষক পরিবারের ২হাজার হেক্টর আবাদি জমি। নদীতে মাছ চাষে লাভবান হবেন এখানকার অনেক চাষি। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি চালু হলে এলাকায় অগভীর নলকূপর সংখ্যা কমে যাবে। এতে ভূমিকম্পর ঝুঁকিও অনেকটা কমে আসবে। 
রৌমারী উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেজবাহ আলম বলেন, রাবার এলাকার নদীর দু’পাশে যে পরিামাণ বাঁধ নির্মাণ করা দরকার, তা না করায় প্রকল্পটি চালু করা যাচ্ছে না। বাঁধ নির্মাণ না করে রাবার ফুলিয়ে সেচ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কমপক্ষে ৭কিলােমিটার পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ করলে এ প্রকল্পর সুফল পাবে কৃষকরা সেতুর দু’পাশের সিসি ব্লক ধসে যাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বন্যার সময় সিসি ব্লকের ক্ষতি হয়েছে। নতুন বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে।#


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ