About Us
Mehedi Hasan Pial - (Dhaka)
প্রকাশ ০১/০৫/২০২১ ০৭:০৮পি এম

কালো ছেলে

কালো ছেলে Ad Banner

আম্মাঃ নে বাবা ভাত গুলো খেয়ে নে।

আমিঃ হুরমুরিয়ে বসে পরলাম ভাত খেতে, খাবারের ম্যনুতে আছে দুটি পোরা লংকা, এটা আস্তো পেয়াজ আর আলুভর্তা।

এক লোকমা মুখে নিয়ে, হঠাৎ মায়ের দিকে তাকালাম, আম্মা তুমি তুমি ভাত খেয়েছ? আম্মা একটা মলিন হাসি দিয়ে বললো, হ্য বাবা আমি খেয়েছি, তুই খেয়ে নে, কিন্তু আমি জানি মা খাইনি, খাবেই বা কি করে, সকালে উঠেই আমার ভাতের হাড়ির খবর নেওয়া হয়ে গেছে। যে খাবার ছিল, তাতে আমার একারই হবে না, আচ্ছা, মা গুলা কেন এতো ত্যাগী হয়, কেন এতো ভালো হয়?

চোখ থেকে অজান্তেই দুই পসলা বৃষ্টি ঝরলো, আমি এক লোকমা আম্মার মুখের সামনে তুলে ধরলাম, আম্মার চোখ থেকে গরিয়ে গরিয়ে নোনা জল ঝরছে, আচল দিয়ে চোখটা মুছে, একটা হাসি দিয়ে বললো, আমি খেয়েছি, তুই খেয়েনে, আমি জানি মা তুমি খাও নি, যতোটুকু আছে আমরা মা - ছেলে খেয়ে নেই, দুইজনে খাওয়া শুরু করলাম।

চলুন একটু পরিচয় দিয়ে নেই, আমি মেহেদী হাসান, ইন্টার পাশ করেছি, একটা ভালো ভার্সিটিতে চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছি, আজই প্রথম দিন, ৫ বছর হল বাবা মারা গিয়েছে। মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়, আমিও মাঝে মাঝে দিনের বেলা রিকশা চালাই সাইন্সল্যাব টু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মোড় পর্যন্ত, নীলক্ষেত মোড়ে একটা ছোট খুপরি ঘরে আমি আর মা থাকি, এভাবেই আমাদের দিনগুলো চলে, অনেক পরিচয় পর্ব হয়ে গিয়েছে এখন গল্পের দিকে পা বাড়াই।

খাওয়াদাওয়া শেষ করে, আম্মা বললো, তুই ভার্সিটি তে কখন যাবি, আজ না তো প্রথম দিন, এইতো আম্মা একটু পরই রওনা দিবো

আম্মাঃ তাইলে ভালো মতো যাইস বাবা, আমি কাজে গেলাম

আমিঃ আচ্ছা আম্মা, তুমিও সাবধানে যেও।

কি পরে যাবো তা ভাবছি, আমার তো কোন ভালো জামা - কাপড় ও নেই যে পরে যাবো, ছ্যন্ডেল টা ও হালকা ছিরা, গরীব হলে যা হয়, বলে নিজে নিজেই একটা হাসি দিলাম। আল্লাহ যা করে তার বান্দার ভালোর জন্যেই করে। যা আছে তা পরেই ভার্সিটির দিকে রওনা হলাম, ভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকলাম, বিশাল বড় একটা ক্যম্পাস, অনেক সুন্দর, আমি অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র, অনেক ইচ্ছে ছিল সাইন্স নিয়ে পরবো, কিন্তু টাকার অভাবে আর তা হয়ে উঠেনি। মনের আশা মনের মধ্যেই বাসা বেধে চির নিদ্রায় শায়িত আছে।

সামনে আগাতেই কারো সাথে ধাক্কা খেলাম, সামনে তাকিয়ে দেখি একটা ছেলে, সেই হ্যান্ডসাম, অনেক দামি পোশাক পরে আসছে - হেই ইউ, চোখে দেখিস উগান্ডা কথাকার, তোকে বিক্রি করলেও আমার পোশাক এর দাম হবে না, দিলি তো ধাক্কা দিয়ে ড্রেস টা নোংরা করে, আরও যা তা বলে চলে গেল ছেলেটি।

আমি মাথাটা নিচু করে আছি, তবে আর দাড়ালাম না, ক্লাস রুম খুজতে আমিও পা বাড়ালাম, কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে আছে, কিছু মানুষ বলছে, এমনিতেই কালা নিগ্র তার উপর পরে এসেছে সাদা স্কুল ড্রেস, অনেকেই হাসতে লাগলো, আমার তো কিছু বলার নেই, কারন আমি গরিব, আমি কালো, আমার পোশাক ও ছেরাফাটা, আল্লাহ কে বলবো হে আল্লাহ তুমি আমাকে কালো বা গরীব বানিয়েছ এতে দুঃখ নেই, কিন্তু আমাকে সব অপমান সহ্য করার ক্ষমতা আমাকে দিও, কোট পরা একজন ভদ্রলোক বের হলো, মনে হচ্ছে কোন প্রফেসর হবে, আমি সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, অর্থনীতি বিভাগ টা কোন দিকে স্যার?

সে আমার দিকে ভালো ভাবে তাকালো, এবং আমাকে জিজ্ঞেসা করলো তুমি কি এখানে চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছ?

আমিঃজী স্যার,

উনি বললো, অর্থনীতি বিভাগ, ডানে গিয়ে বামের প্রথম রুম টা, আর মন দিয়ে পড়ালেখা কর। বলে লোকটা চলে গেল।

মাঝে মাঝে ভাবি এখনো দুনিয়ায় ভালো মানুষ আছে। উফ অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, ক্লাস তো মনেহয় শুরু হয়ে গিয়েছে, প্রথম দিন ই লেট, যাই হোক তাড়াতাড়ি ক্লাস রুমে গেলাম, যেটা ভাবছি সেটাই, ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে, দরজায় দাড়িয়ে বললাম, স্যার আসতে পারি?

চলবে। কেমন হলো জানাবেন, ভালো হলে সামনে পর্ব অনেক বড় করে দিবো।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ