About Us
oyasim uddin - (Kishoreganj)
প্রকাশ ০১/০৫/২০২১ ০১:২২এ এম

হবলু পাগলা সমাচার পর্ব-- ৮

হবলু পাগলা সমাচার পর্ব-- ৮ Ad Banner

হবলু আর দেরি না করে বৃদ্ধকে বললো মুরব্বি রিকশাটা আমি চালাই আপনি সিটে বসেন। 

-- না না আমি চালাইতে পারি। কেন আপনার কাছে টাকা নাই? মাগনা যাওয়ার ধান্দা!! 

 -- না এমন কিছু না।  প্রয়োজনে আপনাকে আমি আগেই টাকা দিয়ে দেই।  এই বলে চল্লিশ টাকা ফতোয়ার পকেটে গুজে দিল। 

-- না ভাই আমার রিকশা আমিই চালাইবো।

-- আরে শুনুন, মাহফিল শোনার পর সারারাত্র অঘুমে কাটাইছি। এখন যদি সিটে বসি তাহলে তাহলে চোখে ঘুম আসবে। আর ঘুমিয়ে পড়লে রিকশার চাকার নিচে পড়ে গিয়ে মরে যাব। আপনার বিপদ হবে।

-- এ কোন পেসেন্জারের খপ্পরে পড়লাম রে,,, হবলু কোন রকম রাজি করিয়ে মুরব্বি রিকশাওয়ালাকে সিটে বসিয়ে প্যাডেল ঘুরাতে লাগলো। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর জিজ্ঞেস করে মুরব্বি এই বয়সে আপনি রিকসা চালান কেন?

-- রিকসা চালাই তো পেটের দায়ে। না চালালে খাবো কি?

-- কেন আপনার ছেলে মেয়ে নাই?

-- আছে আল্লার মাল তিন ছেলে তিন মেয়ে। সবাইকে বিয়ে সাদী করাইছি। এখন সংসার নিয়ে যারতার ধান্দায় আছে।

-- আপনার খোঁজ খবর নেয়না। 

-- খোঁজ খবর আর কিভাবে নিবে। মেয়েরা স্বামীর বাড়ীতে থাকে। দুই ছেলে সংসার নিয়ে সিলেটে থাকে। আর এক ছেলে জুয়া খেলে গান্জা খায়। মাঝে মাঝে রিকশা চালায়। ওদের সংসারই চলেনা আমাদের খাওয়াবে কি?

--  মুরব্বি পিতা মাতাকে খাওয়ানোর জন্য সচ্ছলতার দরকার পড়েনা। শুধু দরকার মানুষ হওয়ার। আপনি তাদের মানুষ করতে পারেননি মনে হয়।

-- হুম ঠিকই কইছেন। একটা পোলাপানও মানুষ হইল না।  আমি তো জনমদুখী গরীব মানুষ। তাই বলে কি বয়সকালে মা বাবাকে লালন পালন করিনি?  কামলা মজুরী দিয়াওতো মা বাবা ভরনপোষণ করছি। ছয়টা পোলাপানকেও খাওয়াইয়া পরাইয়া বড় করছি।

-- সিলেটে থাকা সন্তানদের সাথে কথা হয়না? আর কি কথা হইবে ভাই মাঝে মাঝে কথা কইলে বউয়েরা চিল্লাচিল্লি করে। ওরা ভাবে আমারে বোধহয় টাকা পয়সা দেলাইতাছে। আমার পোলাডি ভালাই আছিন। বউদের জন্য পারেনা।

-- ছেলে ভালো হইলে বউয়েরা কি ফিরাইয়া রাখতে পারে?

-- পারে ভাই পারে -- আপনার বাড়ী আছেনা?

-- হুম আছে - বিয়ে সাদী করার পরে যদি আপনার বাড়ীতে ছয়টি মেহগনি গাছ লাগাইতেন। তাহলে আজ তা আপনার সুসন্তান হয়ে কাজে লাগতো। এই বয়সে রিকশা চালিয়ে খেতে হতোনা।

-- মুরব্বি চুপ হয়ে ভাবতে লাগলো ঠিকইতো বলছে। পাঁচ  ছয় বছর আগে একটা রেইট্রি গাছ লাগাইছিলাম  বলেইতো বিক্রি কইরা রিকশাটা কিনতে পারছি। 

-- চুপ হয়ে গেলেন কেন?

--  না ভাবতাছি ঠিকই বলছেন। মস্তবড় ভুল কইরা ফালাইছি। এই কাজটি যদি করতে পারতাম তাহলে অনেক ভালই হইত।  তবে আমি ভুল করছি করছিই।  গ্রামের আর কাউকে এই ভুল করতে দিব না। আলাপচারিতায় রিকশায় প্যাটেল মেরে কাজলা শিবিরের বাজারের কাছে চলে এলো।   মুরব্বি বলে আপনি তো অনেক চালাইলেন।  শরীলটা ঘামে বিইজা গেছে।  এখন আমাকে একটু দেন গাড়ীটা চালাই।

-- আরে আমি বল্লাম না, আরাম পাইলে ঘুম এসে যাবে। তাছাড়া শরীর ঘামলে ক্ষতি নাই অনেক উপকার হয়। 

-- তাহলে চলেন বাজারে চা পান খাইয়া লই।

-- হুম তা খাওয়া যায়। রিকশাটা খামিয়ে নামতে যাবে,,,, এমন সময় কি যেন ভেবে হবলু না করে দিলো। চা খাওয়া হলোনা।  গানের সুর তুলে আবার প্যাডেল মারতে শুরু করলো। মমতাজ আলী খানের সেই বিখ্যাত গান,,,,,, এইযে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া  এত যত্নে গড়িয়াছে সাঁই ছায়াবাজি পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ যেমনি নাচাও তেমনি নাচে পুতুলের কি দোষ যেমনি নাচাও তেমনি নাচি তুমি খাওয়াইলে আমি খাই।।  পুরো গানটি গেয়ে শেষ করলো 

-- বাহবা আপনি দেখছি সুন্দর করে গানও গাইতে পারেন। চলমান,,,,,,,,, ( এই উপন্যাসের সকল ঘটনাই কাল্পনিক শুধুমাত্র  ভালোলাগার স্থান ও গ্রামের নাম সংযুক্ত করেছি)


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ