About Us
Nayan Das - (Rangpur)
প্রকাশ ৩০/০৪/২০২১ ০৯:১৯পি এম

উলিপুরে সর্বত্র চলছে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কর্মব্যস্ততা

উলিপুরে সর্বত্র চলছে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কর্মব্যস্ততা Ad Banner

উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের মৌজা মধুপুর গ্রামে জমজমে উঠছে ধান মাড়াইয়ের কাজ করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে বিশ্বের সবকিছু থমকে গেছে। দিশেহারা সমগ্র বিশ্ব। এক অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো। আমাদের দেশেও করোনা মোকাবিলায় দফায় দফায় সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করছেন সরকার। সবকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুললেও শুধু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন মূল্যায়ন করে কিছুতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তই নিতে পারেনি সরকার।     

 গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে অদ্যাবধি এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নেই তেমন পড়ালেখার চাপ। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহে গ্রামে গ্রামে ভাগালো গ্রুপ গঠন করে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে অনেক স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের।       

কুড়িগ্রামের উলিপুরে  ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের মৌজা মধুপুর গ্রামের মোঃ রুবেল হোসেন, মধুপুর মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী।   

বাবার আয় উর্পাজন কমে গেছে করোনার লকডাউনে। পড়া-লেখার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে রুবেল হোসেন এর পরিবারের মত অনেকের পরিবার। গতবারের ন্যায় এবারও ধান কাটার কাজ করেছে রুবেলসহ অনেক শিক্ষার্থী।     

 ভাগালো গ্রুপের দলনায়ক মোঃ রুবেল হোসেন সাথে কথা বলে জানা যায়, ১২ জন স্কুলের বন্ধু মিলে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করছে। তাঁরা সকাল থেকে ধান কাটে দুপুুর পর্যন্ত। দুপুরে কাটা ধান নিয়ে যায় বাড়িতে। খাওয়া দাওয়া শেষে কাটা ধান গাছের গুড়ি, তেলের বড় টিনের ড্রাম ও সিমেন্টের ঢালায়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাড়াইয়ের কাজ হয়।       

ভাগালো গ্রুপের সদস্য মোঃ বাইজিদ  শ্রীঃ জয়ন্ত চন্দ্র দাস, বাবু, রাশেদুল, লাদেন, সাহেব বাবু, গোপেশ,সগর,সুমন, যীশু মোঃ রুবেল হোসেন, শরিফুল এর সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, তাদের পরিবাবের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। পরিবারে অভাব অনটন যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। তাদের অধিকাংশ পরিবারের আয়ের উৎস হলো কৃষি কাজ। ২-৪ জন স্কুলের বন্ধু মিলে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করছে। তাঁরা সকাল থেকে ধান কাটে দুপুুর পর্যন্ত। দুপুরে কাটা ধান নিয়ে যায় বাড়িতে। খাওয়া দাওয়া শেষে কাটা ধান গাছের গুড়ি, তেলের বড় টিনের ড্রাম ও সিমেন্টের ঢালায়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাড়াইয়ের কাজ হয়।       

বাবা ব্যাটারিত চালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্সা চালিয়ে সংসার চালায় তবে লকডাউনের বিপর্যয়ে উর্পাজন নেই বললেই চলে। তাই পরিবারের সমস্যার কথা চিন্তা করে তাঁরা বন্ধুরা মিলে ভাগালো গ্রুপ করে কৃষিকাজ করছে।       

মৌসুমে প্রায় ২০-২২দিন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলে গড়ে প্রতিদিন মজুরি সাড়ে ৩'শ থেকে ৪'শ টাকা করে পায় মোট ৮-৯ হাজার টাকা আয় করে প্রতিজন। অর্জিত আয়ের কিছু টাকা সংসারের খরচ চালাতে পরিবারকে সহায়তা করে অবশিষ্ট টাকা দিয়ে পড়ালেখার খরচ বহন করবে।   

এভাবে উলিপুর  উপজেলা ধরণীবাড়ী ইউনিয়ন এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডের মৌজা মধুপুরের সুজন ও সুমন এরা ৪ জনের ভাগালো গ্রুপ করে ধান কাটছে। তারা সবাই ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অর্জিত অর্থ দিয়ে ৮ম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি দিবে ও বাকি অর্থ পরিবারে দিবে বলে আই নিউজ বিডি পত্রিকার সংবাদকর্মী নয়ন দাস'কে  জানিয়েছে।       

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তারিকুল ইসলাম বলেন, এই এলাকা থেকে প্রশাসনের ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে শ্রমিককে ধান কাটতে হাওরে পাঠানো হচ্ছে জীবিকার জন্য সেক্ষেত্রে মনে করছি পরিবারের সহযোগিতার জন্য তারা ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তাদেরকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।       

উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বললেন, করোনাকালীন সময়ে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের এমন কাজ নিঃসন্দেহ ভালো উদ্যোগ। তারা কিছুটা হলেও শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি নিজেরা আর্থিক ভাবে সচ্ছল হচ্ছে। উপজেলায় এবছর ২২ হাজার ১৭৬ হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।     এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন,সরকার থেকে তাদের উপর এমন কোন নির্দশনা দেয়া হয়নি। তবে পড়ালেখা ঠিক রেখে বসে না থেকে বাবা-মাকে এভাবে সাহায্য করছে এটা খুবই ভালো। এতে তারা কিশোর গ্যাং, মাদকের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে। এভাবে ভালো কাজে লিপ্ত থাকলে তাদের মধ্যে সহমর্মিতা বাড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ