About Us
Abdul majid
প্রকাশ ৩০/০৪/২০২১ ১১:৫২এ এম

আকাশে ঘন মিথেন গ্যাসের রহস্যজনক ধোঁয়ার উপস্থিতি মিলছে

আকাশে ঘন মিথেন গ্যাসের রহস্যজনক ধোঁয়ার উপস্থিতি মিলছে Ad Banner

আকাশে ঘন মিথেন গ্যাসের রহস্যজনক ধোঁয়ার উপস্থিতি মিলেছে বলে খবর আসে গত ৮ এপ্রিল। প্যারিসভিত্তিক কেয়রোজ এসওএস নামের প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় উঠে আসে এ তথ্য। এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তখন এর উৎস শনাক্ত করা যায়নি। অবশেষে সেই উৎসও শনাক্ত করেছে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান জিএইচজিস্যাট।     

গত ২৫ এপ্রিল জিএইচজিস্যাটের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের অন্যতম প্রধান হটস্পট হয়ে উঠেছে রাজধানীর মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল (ময়লার ভাগাড়)।  পরিবেশবিদদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে অন্যতম ক্ষতিকর হলো মিথেন। নানা রকম জৈব পদার্থ পচে এ গ্যাস উৎপন্ন হয়। গত ২০ বছরে কার্বন ডাই-অপাইডের চেয়ে পরিবেশের ৮০ গুণ বেশি ক্ষতি করেছে মিথেন। 

মন্ট্রিল-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জিএইচজিস্যাটের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন জার্মেইন জানিয়েছেন, গত ১৭ এপ্রিল তাদের হুগো স্যাটেলাইটে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল থেকে বিপুল পরিমাণ মিথেন নিঃসরণ হচ্ছে। তাদের ধারণা, এর পরিমাণ হতে পারে ঘণ্টায় প্রায় চার হাজার কেজি। প্রতি ঘণ্টায় এক লাখ ৯০ হাজার গাড়ি যে পরিমাণ বায়ুদূষণ ঘটায়, তার সমান দূষণ ছড়াচ্ছে মাতুয়াইলের বিশাল এই ময়লার ভাগাড় থেকে।   

বাংলাদেশে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের উৎস শনাক্তে অনেক দিন ধরেই কাজ করছে জিএইচজিস্যাট। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট উৎস থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ চিহ্নিত করেছে। এটি (মাতুয়াইল) বড় উৎস ঠিকই, তবে তা ঢাকা শহরের ওপর শনাক্ত বৃহৎ, স্থায়ী এবং বিস্তৃত নিঃসরণকে ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট নয়। সেখানকার পরিস্থিতি এখনও রহস্যাবৃত। জিএইচজিস্যাট অঞ্চল পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে বলে জানান স্টিফেন জার্মেইন।   

অবিভক্ত ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯৮৯ সালে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে মাতুয়াইলে ল্যান্ডফিল স্থাপন করা হয়। ১৭ বছরের মাথায় শেষ হয় ল্যান্ডফিলটির বর্জ্য ধারণক্ষমতা। এরপর ২০০৬ সালে আরও ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ১৯৮৯ সালে অধিগ্রহণ করা ৫০ একর ভূমিতে বর্জ্যের উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুটে পৌঁছেছে। ওই ভূমিতে এখন পরিবেশসম্মতভাবে ল্যান্ডফিল সমাপ্তকরণ বা পোস্টক্লোজারের কাজ চলছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ