About Us
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
সত্যজিৎ দাস - (Habiganj)
প্রকাশ ৩০/০৪/২০২১ ১০:৪৩এ এম

লাউয়াছড়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩ জনকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন

লাউয়াছড়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩ জনকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন Ad Banner

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার চায়ের দেশ খ্যাত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (২৮ এপ্রিল ২০২১) তদন্ত কমিটির প্রধান এবং বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদি সরোয়ার ৯ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনটি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অফিসে জমা দেন। 

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদি সরোয়ার এ বিষয়ে আই নিউজ বিডি'কে বলেন , আগুন লাগার ঘটনায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩ কর্মচারী ও কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।  এরা হলেন- বাঘমারা ক্যাম্পের বনপ্রহরী মোতাহার হোসেন, লাউয়াছড়ার বিট অফিসার মিজানুর রহমান এবং বনবিভাগের কমিউনিটি পেন্ট্রোলিং দলের সদস্য মো: মহসিন।  এই ৩ জন দায়িত্বরত অবস্থায় দায়িত্ব পালন না করা, আগুন লাগার পর তা নেভানোর চেষ্টা না করে ঘটনাস্থল থেকে দূরে চলে যাওয়া, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত না করাসহ বিভিন্ন কারণে তদন্ত কমিটি এ ঘটনার জন্য তাদেরকেই দায় দিয়েছে বলে জানান তিনি। 

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে তারা ৩ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন কিন্তু আগুন লাগার ঘটনাটি বিভাগীয় বনকর্মকর্তা অন্য সূত্র থেকে জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে লাউয়াছড়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামকে দ্রুত আগুন নেভানোর নির্দেশ দেন।  বিভাগীয় বনকর্মকর্তার মাধ্যমে খবর পেয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা স্টাফ নিয়ে আগুনের সম্মুখভাবে ফায়ার লাইন কাটাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন,সেইসঙ্গে যোগ দেয় কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস। নিরলস প্রচেষ্টার পর বনবিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।  প্রতিবেদনে আগুন লাগার সময় বলা হয়েছে সাড়ে ১২টা থেকে ১টা এবং আগুন নেভে যায় ২টা ২০ মিনিট থেকে আড়াইটার ভেতর। অগ্নিদগ্ধ এলাকার পরিমাণ ১ থেকে দেড় একরেরও বেশি। 

বনবিভাগের স্টাফদের ওপর তদারকি বাড়ানো, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া গাছ ও লতাপাতার প্রতি যত্নশীল হওয়া, বনের উন্নয়নমূলক কাজের সময় গ্যাস লাইট বা দিয়াশলাই সঙ্গে না রাখা, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম এবং পার্শ্ববর্তী ফায়ার স্টেশনের নম্বর নোট করে রাখাসহ তদন্ত কমিটি কর্তৃক সেই প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে।  উল্লেখ্য যে , গত ২৪ এপ্রিল লাউয়াছড়ার স্টুডেন্ট ডরমেটরি অংশের বিপরীত পাশে বাঘমারা এলাকায় হঠাৎ করে আগুন লাগে এবং দ্রুত সময়ের মাঝে তা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বনবিভাগ,ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় উপজাতি লোকজনের সহায়তায় এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনার দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্তে কমিটি গঠন করে বনবিভাগ।  


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ