About Us
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ২৯/০৪/২০২১ ০২:০৪এ এম

ভারত অক্সিজেন না দিলে কী হবে?

ভারত অক্সিজেন না দিলে কী হবে? Ad Banner

সম্প্রতি ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সংবাদ শুনে অনেককেই হায়হুতাশ করতে দেখা যাচ্ছে। হায় হুতাশের মাত্রা এতটাই যে ভারত অক্সিজেন না দিলে আমরা শেষ হয়ে যাবো। এই কৃত্রিম হায় হুতাশ করার আগে জেনে রাখা ভালো যে বাংলাদেশের স্বাভাবিক সময়ে মেডিকেল অক্সিজেন এর দরকার পরে গড়ে ১১০ টন। আর সেই পুরো সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে।  শুধুমাত্র লিন্ডে বাংলাদেশর একার সক্ষমতা রয়েছে ১২০ টনের, যদিও তারা বর্তমানে ৯০ টন উৎপাদন করে।

তারা শিল্প কারখানায় অক্সিজেন সরবরাহ করে তাই তারা ৭০-৮০ টনের মতো অক্সিজেন মেডিকেল এ দেয় , বাকিটা ইন্ডাস্ট্রিতে দিয়ে থাকে। মেডিকেল অক্সিজেন এর চাহিদা বেড়ে গেলে ইন্ডাস্ট্রিতে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।  বর্তমানে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সকল অক্সিজেন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানই ইন্ডাস্ট্রিতে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। যেমন ইসলাম অক্সিজেন দৈনিক ৩০ টন অক্সিজেন সরবরাহ করছে যদিও তাদের সক্ষমতা ৪০ টন। একইভাবে স্পেক্ট্রা অক্সিজেন দৈনিক ৩০ টন সরবরাহ করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অক্সিজেন এর চাহিদা রয়েছে ১৫০ টন।

যা গড় থেকে ৪০-৫০ টনের মতো বেশি। এই অতিরিক্ত চাহিদা মিটছে শিল্প কারখানায় সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে। তাহলে বাংলাদেশ কেন ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি করছিল??  আমদানি করছিল অতিরিক্ত ঘাটতি মেটানোর জন্য। বর্তমানে সকল দেশীয় উৎপাদনকারীরা মোটামুটি ৯০% অক্সিজেন মেডিকেল এ দিচ্ছে। তাই ইন্ডাস্ট্রিতে যে সরবরাহ ছিল সেটা ব্যহত হচ্ছে। তাই তাঁরা ভারত থেকে এতদিন গড়ে ৩০-৩৫ টন অক্সিজেন আমদানি করে সেটা শিল্প কারখানায় সরবরাহ করতো।

এখন ভারত সংকটে পরেছে। তাদের সামরিক পরিবহন বিমান গুলো ২৪ ঘন্টা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছুটে বেড়াচ্ছে অক্সিজেন আনার জন্য। অক্সিজেন এর অভাবে রাস্তায় মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই রপ্তানি বন্ধ করা অস্বাভাবিক নয়। এখন মূল কথা হচ্ছে এভাবে চললে আমাদের শিল্প কারখানায় সংকট দেখা দিবে। কিন্তু করার কিছু নেই‌ । রোগীর সংখ্যা ও অক্সিজেন এর চাহিদা দিন দিন কমে আসছে। তাই দ্রুতই শিল্প কারখানায় সরবরাহ স্বাভাবিক হবে হয়তো। 

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে তথ্য দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, সারাদেশে হাসপাতালে ভোভিড-১৯ রোগীদের ১২ হাজার ২৯৮টি সাধারণ শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ৭ হাজার ৪৮৮টি। ১ হাজার ৬৯টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ৩৮৪টি। তবে আমরা যদি অসচেতন হই এবং জীবনের মায়া না করে ঈদের কেনাকাটায় ভেড়ার পালের মতো বের হই তাহলে তো এক মাস পর সারিবিশ্বের অক্সিজেন দিয়েও এই ১৬ কোটি মানুষকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

এছাড়াও অবশেষে একটি কথা। উপরে যে হিসাব দিয়েছিলাম তা ছিল নিয়মিত অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাব। বাংলাদেশে এমন একটি কারখানা রয়েছে যা দিনে ২৬০ টন অক্সিজেন তৈরি করতে পারে যা আমাদের চাহিদার ও দ্বিগুন। সেটি হলো আবুল খায়ের গ্রুপের অক্সিজেন প্লান্ট। এটিই আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় অক্সিজেন প্লান্ট।  তবে তারা শুধু তাদের শিল্প কারখানার জন্য এটি ব্যবহার করে।

গত বছর অক্সিজেন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ৩০০ টি সিলিন্ডারের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেন বিতরণ করেছিল।যদি আবুল খায়ের এর এতবড় প্লান্ট থাকে তাহলে বিএসআরএম এর মতো বড় শিল্প গুলোর কতবড় প্লান্ট আছে আমার জানা নেই। সুতরাং বুঝতেই পারছেন হিসেবের বাহিরেও কত প্লান্ট আছে। সামনে এসেছে শুধু আবুল খায়ের গ্রুপ।  যদি আমাদের অক্সিজেন এর চাহিদা যদি ১৫০ থেকে এক লাফে ৩০০ টন বা আরো বেশি  ও হয় তাহলেও এরকম শিল্প কারখানা থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হবে। এজন্য এরকম প্লান্টগুলো প্রস্তুত রাখা জরুরি, যাতে মেডিকেল গ্রেডের অক্সিজেন রিফিল করার মতো ব্যবস্থা প্লান্টগুলোতে থাকে। সুতরাং কৃত্রিম হায় হুতাশ বন্ধ করুন। ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন। 

Mokramul Islam 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ