About Us
Ibrahim Hossain - (Dhaka)
প্রকাশ ২৭/০৪/২০২১ ০৬:১৮পি এম

কারাবন্দী আল-আমিন আটিয়া'র নিঃশর্ত মুক্তি চান তার স্ত্রী

কারাবন্দী আল-আমিন আটিয়া'র নিঃশর্ত মুক্তি চান তার স্ত্রী Ad Banner

ছবিটি শাহবাগ থানা, ঢাকা এর প্রধান গেটের বাহির থেকে ২৮’শে মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দে তোলা।


একমাস হয়ে গেছে বিনা অপরাধে কারাগারে বন্দী বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের ৫৪ জন নেতাকর্মী। বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দই দলের সিনিয়র পজিশনে আছেন। প্রত্যকের অপরাধ তারা কেন নব চেতনার ন্যায় অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের দলের সদস্য।


ছবিতে যে নারীকে দেখতে পাচ্ছেন উনি একজন স্ত্রী, পরিবারিক বাঁধা উপেক্ষা করে তারা তাঁদের ভালোবাসার পূর্ণতা দান করে গড়তে চেয়েছিলো সুখের সংসার। কিন্তু সেই সংসার এখন ভঙ্গুরের পথে! কারণটা খুবই সাধারণ, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই জনতার ন্যায় অধিকার আদায়ের জন্য আপ্রাণ সংগ্রামে যুক্ত। ছবিতে নারীর নাম রাত্রি আটিয়া; থাকেন ঢাকার শনি আখড়া এলাকায়, রাজনৈতিক পরিচয় সহ প্রচার ও প্রকশনা সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। স্বামী-স্ত্রী দুজনই লেখাপড়ার পাশাপাশি বাংলালিংক সিম কোম্পানিতে ছোট্ট একটি চাকরি করেন। স্বামী'র নাম মোঃ আলামিন আটিয়া (ছবির ইনসেটে), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ; তাকে সহ আরো ৫০ অধিককে গত ২৭'শে মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দে শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় প্রেসক্লাবে ভারতের স্বৈরাচারী ও উগ্রবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি'কে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে পুলিশ আটক করে। অথচ এর আগে ২৫'শে মার্চ যখন ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল ডাকে সেখানে পুলিশ হামলা করলে রাস্তায় উপস্থিত জনতা ও মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সাথে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। সেখানে এক পুলিশ সদস্য মারাত্মক র্পর্যায়ে আহত হন কিন্তু আল-আমিন আটিয়া তার সাথে আরো কয়েকজন সহকর্মী নিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ উপেক্ষা করেই সেই আহত পুলিশ সদস্যকে পুলিশ-ভ্যানে উঠিয়ে দিয়ে আসেন কিন্তু অমানবিক পুলিশ তাকেই গ্রেফতার করার জন্য দৌড়ানি দেয় পরে তিনি কোনোমতে পালিয়ে আসেন। ২৭’শে মার্চ তাকে গ্রেফতার করে ২৪ ঘন্টা হাজতে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করে শাহবাগ থানার এডিসি হারুন এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের সাথে তার ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্র করে ৪ বিস্ফোরক আইনে বিশেষ ক্ষমতাবলে ৪টি অন্যায় ও মিথ্যা মামলা দায়ের করে, সে সময় থানার বাহিরে উপস্থিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য ইব্রাহীম নিরব এ নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। অথচ সমাবেশে সেদিন অনেক সাংবাদিক, চ্যানেল ও ফেসবুক লাইভ চলছিল; সেখান থেকে দেখা যায় প্রতিবাদ সমাবেশ শেষের দিকে পুলিশই প্রথমে নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও লাঠিচার্জ চালায় এবং ধরপাকড় শুরু করে। কয়েকজন সেখান থেকে নিরাপদে ফিরলেও আহত হন অনেকেই। পরবর্তীতে ঢাকাস্থ সিএমএম কোর্ট এ তার বিরুদ্ধে ১০দিনের রিমান্ড আবেদেন করে পুলিশ যেখানে একজন খুনি বা হত্যাকারীর জন্যও এতদিনের রিমান্ড আবেদন চাওয়া হয় না কিন্তু আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। আল-আমিন আটিয়ার স্ত্রীর প্রশ্ন হলো কেনো বিনাকারণে হামলা-মামলা? কেন এই নির্যাতন এবং কেনই বা এই রিমান্ড? আমরাতো কারো কোনো ক্ষতি করিনি, আমরা শুধু জনতার অধিকার আদায়ের জন্য জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি যেখানে আমাদের কোনো লাভ বা স্বার্থ নেই। আমি আমার স্বামীর অতিদ্রুত মুক্তি চাই।


এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ সাগর, সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদ বিন রনি বলেন আমরা তার স্ত্রীর প্রতীক্ষার অবসান চাই এবং অবিলম্বে আমাদের সকল সহযোদ্ধাদের সহ আল-আমিন আটিয়া ভাইয়ের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তারা আরো বলেন হামলা-মামলা দিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে হলেও জনতার অধিকার আদায়ের জন্য আপ্রাণ আন্দোলন, সংগ্রাম ও লড়াই চালিয়ে যাবো।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ