About Us
Md. Razib Hossain - (Kushtia)
প্রকাশ ২৭/০৪/২০২১ ১২:৩১পি এম

নূর হোসেন ফিরে আসার আতঙ্কে সাত খুন মামলার বাদী

নূর হোসেন ফিরে আসার আতঙ্কে সাত খুন মামলার বাদী Ad Banner

নারায়ণগঞ্জের ভয়ংকর সাত খুনের ঘটনা আট বছর আজ। এ খুনের মাস্টার মাইন্ড নূর হোসেন ও র‌্যাব-১১ এর সে সময়ের সিও’র পরিকল্পনা মাফিক পৈশাচিক এ ঘটনা তোলপাড় তুলে সারা দেশে। সেই নূর হোসেন ফিরে আসবে এমন গুজবে আতঙ্কে থাকেন মামলার বাদি নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী বিউটি বেগম।  তিনি বলেন, ‘ ৮ বছর হয়ে গেলে রায় কার্যকর হলো না। আমরা রায় কার্যকরের অপেক্ষায় আছি। নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে এ হত্যাকাণ্ডের রায় দ্রুত দিয়েছেন কিন্তু আপিল বিভাগে রায় না হওয়ায় আমরা হতাশায় আছি।

এলাকার অনেকে বলে বেড়ায় নূর হোসেন ফিরে আসবে। তাদের এসব কথা শুনলে অনেক আতঙ্ক লাগে। এখনো তার অনেক লোকজন আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। আমরা চাই নূর হোসেনের বিচার হোক। সে যেভাবে মানুষ গুলো অত্যাচার করে মেরেছে তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। ৭ খুনের বিচার সারা দেশের মানুষ দেখতে চায়।  নিহত তাজুল ইসলামের বাবা বলেন, গত ৭ বছর ধরে অনেক দুঃখ যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি। আমার সংসারে ছেলেটাই ছিলো উপার্জনকারী। তাকে হত্যা করার পর থেকে তার মা অসুস্থ হয়ে বাড়িতে পরে আছে। তার ইচ্ছে ছেলে হত্যার বিচার দেখে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করবে। কিন্তু এখনো রায় কার্যকর হয়নি। দেশের করোনা পরিস্থিতির কারণে হয়তো কার্যকর হচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করবো আপিল বিভাগে মামলার শুনানি যেন দ্রুত করা হয়। 

আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের ২টি মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, শুরুতে একটি পক্ষ এ মামলার কার্যক্রম বিলম্ব করতে চেয়েছে। কিন্তু বিচারিক আদালত দ্রুত মামলার বিচার কার্য শেষ করেন। হাইকোর্টেও মামলার রায় হয়েছে কিন্তু আপিল বিভাগে মামলার কার্যক্রম বিলম্ব হয়েছে। আমি মনে করি রাষ্ট্রপক্ষ গুরুত্ব দিলে আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানি হতে পারে। কারণ এ হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে সারা দেশের মানুষ। 

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল আদালতে হাজিরা শেষে প্রাইভেটকারযোগে বাড়ি ফিরছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে সাদা পোশাক পরিহিত র‌্যাব সদস্যরা তাদের অপহরণ করে। আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার গাড়িচালক ইব্রাহীম পেছন থেকে এ চিত্র মুঠোফোনে ভিডিও করলে ওই র‌্যাব সদস্যরা তাদেরও ধরে নিয়ে যায়। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর শান্তিনগর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ