About Us
শনিবার, ১৫ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Md. Nayeem Uddin Khan
প্রকাশ ২৭/০৪/২০২১ ১০:৪৬এ এম

পল্লী উন্নয়নের কিছু উপায় সমূহ

পল্লী উন্নয়নের কিছু উপায় সমূহ Ad Banner

আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান

আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।

-বন্দেআলী মিয়া


উপমহাদেশের প্রকৃত আত্মিক সত্তা লুকিয়ে থাকে এখানকার পল্লীসমাজের অন্তঃস্থলে। এসকল গ্রামগুলিই সেই সুদূর অতীতকাল থেকে ভারতবর্ষের নিজস্ব সত্তা ও সংস্কৃতিকে আপন মহিমায় বাঁচিয়ে রেখেছে। এইসকল গ্রামগুলির শস্য-শ্যামলা প্রকৃতির দানেই আমাদের মুখে প্রতিদিনের অন্ন জোটে।

একটি সমীক্ষা অনুযায়ী ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় ৭৭ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে গ্রামই হলো উপমহাদেশের প্রকৃত প্রাণ। কিন্তু বর্তমানে উপমহাদেশের প্রাণস্বরূপ এসকল পল্লীগুলি জীর্ণপ্রায় হয়ে পড়েছে। পূর্বেকার পল্লী সমাজের সেই নিজস্ব সৌন্দর্য এখন আর আগের মতন চোখে পড়ে না।

এক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখা দরকার, যে গ্রাম নির্ভর সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে আমাদের দেশ দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই গ্রামগুলিকে যদি জীর্ণতা স্পর্শ করে তাহলে আদপে দেশের সার্বিক চরিত্রই দুর্বল হয়ে পড়ে। সে কারণে এই সকল গ্রাম বা পল্লী গুলির সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো একান্ত আবশ্যক।

বর্তমানে পল্লী উন্নয়ন বলতে বোঝায় গ্রামগুলিকে এগিয়ে যাওয়া আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত করে তোলার প্রক্রিয়াকে। তবে এই উন্নয়নের অর্থ গ্রামগুলির যান্ত্রিক আধুনিকায়ন নয়। আধুনিক নগরসভ্যতার মতন গ্রামগুলির আধুনিকায়ন হলে পল্লী সমাজের ব্যক্তিগত চরিত্রই লোপ পাবে।

বরং এই উন্নয়ন হলো গ্রামগুলিকে জীবনধারণের জন্য প্রাথমিক আধুনিক সুবিধাগুলি দান করে গ্রামের নিজস্ব সম্পদ দ্বারাই গ্রামকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার প্রক্রিয়া। গান্ধীজী ভারতীয় পল্লীসমাজকে এই স্বয়ংসম্পূর্ণতা দানের উদ্দেশ্যে গ্রামগুলিকে সার্বিকভাবে উন্নত করে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন।

তার সেই পরিকল্পনার অন্তর্গত একাধিক কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম হলো গ্রামগুলিকে স্বায়ত্তশাসন দান, গ্রামগুলিকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দান, জীবনধারণের প্রাথমিক প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে গ্রামগুলিকে স্বনির্ভর করে তোলা ইত্যাদি। স্বাধীনতার পর থেকে গান্ধীজীর পরিকল্পনার অন্তর্গত বেশকিছু কর্মসূচিকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলেও সার্বিকভাবে তার সার্থক রূপদান সম্ভব হয়নি।

বর্তমান আধুনিক বিশ্বের নিজস্ব চরিত্র ও সত্তা পূর্বের তুলনায় ব্যাপকভাবে বদলে যাওয়ার ফলে সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পল্লী সমাজের মানোন্নয়নের পরিকল্পনাতেও কিছু প্রাথমিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। পল্লীসমাজের সেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্যে তেমনি আধুনিক কিছু পরিবর্তন সমন্বিত পরিকল্পনামূলক কয়েকটি উপায় নিম্নে উল্লেখিত হলো।


* পল্লী সমাজের উন্নতির প্রয়োজনে গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাকে আরো বিস্তৃতভাবে রূপদান করতে হবে।

* গ্রামীণ প্রশাসনে স্বায়ত্তশাসনের সাথে সাথে দুর্নীতি রোধের দিকেও বিশেষ নজর রাখতে হবে।

* জীবনধারণের প্রাথমিক প্রয়োজনে গ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শহরের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নততর করে তুলতে হবে।

* গ্রামগুলিতে ব্যাপকভাবে বিদ্যুতায়ন ঘটাতে হবে।

* গ্রামের মানুষকে নিজস্ব গ্রামীণ ব্যবসা বাণিজ্যে উৎসাহ দান করতে হবে।

* গ্রামীণ কুটির শিল্প তথা চারুকলা সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবার চেষ্টা করতে হবে।

* গ্রামই যে ভারতবর্ষের প্রাণ সেই সম্পর্কে গ্রাম তথা শহরের মানুষকে ছেলেবেলা থেকে সচেতন করে তুলতে হবে।

* গ্রাম গুলির অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার প্রয়োজনে গ্রামীণ কৃষি, বাণিজ্য ও শিল্পকে সার্বিকভাবে উৎসাহদান ছাড়াও প্রয়োজন হলে অর্থনৈতিক সাহায্যের ব্যবস্থা করতে হবে। 

* পল্লী সমাজের মানুষকে বহুমুখী ভূমিকামূলক বিভিন্ন সমবায় সমিতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে হবে।


মানুষ যে সমাজ এবং সংস্কৃতিকে নিয়ে গর্ব করে, তাকে ধারণ ও বহন করে নিয়ে যায় গ্রাম বা পল্লীসমাজ। এই পল্লীসমাজই কোন একটি জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে এবং প্রতিদিনকার জীবনে তাকে যাপন করে। পল্লীসমাজের উপর নির্ভর করেই বর্তমান যুগের নগর সভ্যতা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

যে নগর সভ্যতার আজ এত দম্ভ ও আস্ফালন, গ্রামীন সমাজ ভিন্ন সেই নগরের অস্তিত্ব কষ্টকল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। সেজন্য একটি দেশের সর্বময় উন্নতির প্রয়োজনে সর্বপ্রথম সেই দেশের পল্লী উন্নয়নের দিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে। পল্লী সমাজের ভিত দৃঢ় না হলে একটি দেশের অবকাঠামো অচিরেই তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়বে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ