About Us
শনিবার, ১৫ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ২৬/০৪/২০২১ ০৬:২৭পি এম

এদের মাঝে একজন সালমান খান

এদের মাঝে একজন সালমান খান Ad Banner

বিনীতভাবে অনুরোধঃ পুরোটা পড়বেন: আজকাল একটা ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে, কেউ কিছু করলেই প্রথমে সেটার ত্রুটি গুলো খুজে তা জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে। সামাজিক যোগাযোগের কল্যানে কাজটা আসলেই খুব সহজ এখন। হাতে মোবাইল আর ইন্টারনেট কানেকশন নিয়ে এখন ইচ্ছা করলে যা খুশি করা যায়, নেই কোন জবাবদিহিতার ভয়৷ কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখুন, আপনাদের কাজের ফলাফল স্বরূপ কি পাচ্ছেন? সাময়িক আনন্দ? একজনের নামে দুর্নাম ছড়িয়ে যে আনন্দটা পাচ্ছেন, এটাকে সুস্থ মস্তিষ্কের আনন্দ বলে না।

এটা আসলে আপনাদের মনের ভেতরকার সবচেয়ে অন্ধকার চাহিদা, পৈচাশিক আনন্দ৷  সম্প্রতি সালমান খানের একটা নিউজ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি পুলিশ কর্মীদের জন্যে বিতরণ করা খাবার নিজে টেস্ট করে দিচ্ছেন। এটাকে খুব সহজেই নেগেটিভ ভাবে নেওয়া যায়৷ কারণ রিসেন্টলি তার ফিল্মের ট্রেইলার রিলিজ হয়েছে, তাই হয়তো লোক দেখাতে কিছু পুলিশের খাবারের ব্যাবস্থা করছেন। আসলেই কি তাই ভাবছেন? আপনার মস্তিষ্কের দৌড় কি এই পর্যন্তই? আপনি হয়তো জানেন না, যে এই ঈদে তার ফিল্ম  অনলাইন প্লাটফর্মেই রিলিজ দিচ্ছেন। যেখানে তার ফিল্ম অলরেডি ২৩০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়ে গেছে।

নামমাত্র সিনেমা হলে রিলিজ দিলেও ইন্ডিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে কারো সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখার মতো অবস্থা নেই। তাহলে লোক দেখিয়ে সাহায্য করে কি লাভ তার?  আচ্ছা আরেকটু ভালোভাবে ভেবে দেখুন, যদিও ধরে নেন যে কাজটা সালমান খান লোক দেখিয়ে ফিল্মের প্রমোশনের জন্যে করছেন। আর সিনেমা হলেও ধরেন ব্যাবসা হলো, কিন্তু শেষে তার নিজের অংশের প্রায় ৯০% টাকা গুলো কোথায় যাবে? এটা নিয়ে অনেকের খুব এলার্জি, যে সালমান ৯০%ই দান করে না। খুব চেষ্টা করে তর্ক করে করে কয়েক পার্সেন্টেজ কমিয়ে আনার ( পারসোনালি, এই বিষয়টা খুবই সিলি লাগে ।

কিন্তু আসলে কি জানেন? সালমান তার আয়ের ১০% নিজের কাছেই রাখে, বাকি টাকা গুলো ট্যাক্স বিভিন্ন ফাউন্ডেশনে দান করেন। এখন ট্যাক্স কত পার্সেন্ট হলো, বা এদিক ওদিক খরচ বানিয়ে আপনি যদি ৯০% থেকে কিছু কমিয়ে শান্তি পান তাহলে...  আপনি চাইলে ০%এও এইটা নামিয়ে এনে আনন্দ পান, কারো কিচ্ছু যায় আসে না  আশা করি কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছেন। তাও যদি না বোঝার ভান করতে চান, তাহলে একটু খোজ নিয়ে দেখেন।

তাদের এই খাবার ভাগাভাগি করাটা শুরু হয় কবে থেকে? লকডাউনের শুরু থেকে? ২য় ধাপে করোনা আসার পর থেকে? আরে ভাই, নিজের মনটা আরেকটু বড় করেন। সালমান খান এই কার্যক্রম ২০২০ এর যখন প্রথম লকডাউন শুরু হয় তখন থেকেই শুরু করেছেন৷ তখন ৪ মাসে তারা ২ লক্ষ পরিবারের কাছে খাদ্য নিজ দায়িত্বে পৌছে দিয়েছেন। তাদের প্যাকেজে এক প্লেট বিরিয়ানি না ভাই, প্রতি প্যাকেজে ৫ কেজি চাল, ৫ কেজি ডাল, ৫ কেজি আটা, ৫ কেজি আরেকটা আইটেম যেটার বাংলা করতে পারিনি (দুঃখিত), ২ লিটার তেল এবং প্রয়োজনীয় মসলা সামগ্রী ছিলো।  পানওয়েল ফার্মহাউসে থাকাকালীন সময়ে কতগুলো গ্রামের দায়ভার নিয়েছে ধারণা আছে? ফিল্ম ইন্ড্রাস্টির সাথে জড়িত ২৫ হাজার দিন মজুরকে নগদ টাকা দিয়েছেন। এছাড়াও যখনই লকডাউন হয়, পুলিশদের স্যানিটাইজার বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করে থাকেন।

তিনি কোন ফাউন্ডেশনে কোন অঙ্কে টাকা দান করে দায়মুক্ত হন না বরং গ্রাউন্ডলেভেলে কাজ করেন, যাতে প্রতিটা ঘরে ঘরে সেবা পৌছায়।  এই কাজগুলো কয়জন মানুষ এপ্রিশিয়েট করেন? কয়জন এই লেখাটা পুরোপুরি পড়বেন? কয়জনই বা নিউট্রাল মানুষ এটা শেয়ার করবেন? অথচ কোথাও একটা ট্রল পোস্ট বা সালমানের মুখে অন্যের ফেস জুড়ে দিলে সেটা নিয়ে খুব হাসাহাসি, ছড়াছড়ি করবেন।

এই আপনার মানসিকতা? ভালো কিছু শেয়ার করা আপনার বাড়তি ঝামেলা মনে হয়? যেখানে কয়েকটা রিয়েক্টের আশায় শতশত ট্রল শেয়ার করে যাচ্ছেন... নিজেকে মিমি/ট্রল মেকার্স দাবি করে স্মার্ট ভাবছেন... এরকম অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে আবার নিজেকে নেটিজন বলে মনে করে অন্যকে জাজ করবেন?  ভাই, যদি সে লোক দেখানোর জন্যেও সাহায্য করে, তাও তো কিছু অসহায় মানুষ সেবা পাচ্ছে।

আপনাদের ট্রলের ফলাফল স্বরূপ যদি এরকম মানুষজন তাদের পদক্ষেপ গুলো বন্ধ করে দেয়, তাহলে আপনার হয়তো কিছু হবে না। কিন্তু কিছু অসহায় মানুষ আছে, যাদের দিন চলে অনুদান বা সেবায়, তারা না খেয়ে মরবে। ভালো কাজকে এপ্রিশিয়েট করুন, তাও না পারলে অন্তত মুখটা বন্ধ রাখুন। আপনার মুখ বন্ধ থাকলেও হয়তো কারো উপকার হতে পারে লেখায় ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন । আল্লাহ সবার মঙ্গল করুক


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ